প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের উপযুক্ত প্রাপ্য নিশ্চিতকরণ সরকারের নৈতিক দায়িত্ব

নিউজ ডেস্ক   |   ০১:৫৮, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

প্রতি বছরইতো মহা ধুমধামের সঙ্গে মহাসমারোহে ও মহা আড়ম্বরে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অতি জাঁকজমকপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন সুশৃঙ্খল সামরিক কুজকাওয়াজের মাধ্যমে বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়ে আসছে। এবারও হবে। রাতের বেলায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বর্ণিল বিজলী বাতির মনোমুগ্ধকর চোখ ধাঁধাঁনো আলোক সজ্জায় ঝলমলিয়ে উঠতে দেখা যায়।

এছাড়া বিজয়ের মাস হিসেবে পুরো ডিসেম্বরব্যাপী বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নানান রকমের বর্ণিল অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে থাকে। বিজয় দিবস নিয়ে এই যে এতো ধুন্দুমার সাড়ম্বর তোড়জোড়, এটাতো বিজয় লাভের গৌরবের আনন্দেরই বহি:প্রকাশ।


কিন্তু কীভাবে এই অসম্ভব বিজয় লাভটা অর্জিত হয়েছিলো, যাদের কারণে এই বিজয় লাভ, এই উদ্যাপন, এই আনন্দ, তাদের কথা ভাবার মতো ফুরসৎ কি আছে আমাদের? তাদের প্রতি কি আমাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ন্যূনতম কৃতজ্ঞতা আছে ? তাদের মধ্যে ছিলো অগণিত সংখ্যক জীবন উৎসর্গকারী শহীদ, রয়েছে জীবনপণ বাজি রাখা অগণিত সুস্থ-অসুস্থ, দুস্থ ও পঙ্গু বীর মুক্তিযোদ্ধা।

রয়েছে শহীদদের স্বীকৃতি বঞ্চিত বহু অসহায় পরিবার। বিভিন্ন সময়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হতে দেখা গেছে অসুস্থ-অক্ষম সুবিধা বঞ্চিত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে বেঁচে থাকার মতো সচিত্র সংবাদ। মহান মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়টা ছিলো যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটার জন্যে একটা মহা দুর্যোগময় সময়।

এসময়ের যাবতীয় আশু করণীয়র মধ্যে অন্যতম করণীয় ছিলো, ক্লিন ইমেজের নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমী যোগ্যতম নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে দক্ষ একটা কমিটি গঠনের মাধ্যমে ফিরে আসা সম্বলহারা শরণার্থীদের পুনর্বাসন, ধ্বংসপ্রাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাসমূহের পুনঃসংস্কার করণসহ পুরোপুরি ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

দুর্গত, দুস্থ, অসহায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের সর্বোতভাবে সাহায্য করা। যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নির্ণয় ও চিহ্নিত করণসহ যথাযথ পুনর্বাসন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

অন্ন-বস্ত্র ও সম্বলহীন অক্ষমদের বাঁচার উপায় করে দেওয়া। দেশি-বিদেশি লুটেরা চক্র দেশের ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়ার সুবিধার সুযোগ নিয়ে গোটা দেশের সব অর্থ লুটপাট করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে শূন্য করে ফেলেছিলো।

এমন কঠিন একটা অবস্থা মোকাবিলা করতে গিয়ে জাতির পিতা যখন সার্বিক দায়িত্ব হাতে নিলেন, তখনই দেশদ্রোহী স্বার্থপর একটা কুচক্রী মহল এমন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল যাদের গভীর কূটচালের কারণে একাজগুলো সঠিকভাবে করা সম্ভব হয়নি। সম্ভব হয়নি বেঁচে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটা নির্ভেজাল তালিকা প্রস্তুতপূর্বক তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া কার্যকরকরণ।

এই সুযোগে স্বার্থপর চক্রটা অগণিত প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত ও নিবন্ধিত না করে অগণিত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্ত ও নিবন্ধিত করিয়ে তাদের জন্যে যাবতীয় সরকারি সুযোগ ভোগের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছিল।

যার কারণে স্বাধীনতা লাভের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের প্রকৃত স্বাদটা শহীদ পরিবার বা প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের পরিবারগুলোর চেয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্যে পোয়াবারো হিসেবেই পরিণত হয়ে এসেছে।

এর চেয়ে পরম দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে? মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষের সরকারও এতো দিনেও দেশের প্রকৃত মুদ্ধিযোদ্ধাদের সংখ্যা যেমন নিরূপণ করে উঠতে পারছেনা এবং তাদের জন্যে তাদের উপযুক্ত প্রাপ্তিও নিশ্চিত করতে পারছেনা তেমনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যাও নির্ণয় করতে পারছেনা।

আশা করা যায় এব্যাপারে সরকার যথাযথ করণীয় নির্ধারণে কার্যকর একটা ভূমিকা গ্রহণ করবে যাতে আগত দিনগুলোতে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনটা যথার্থভাবে অর্থবহ, তাৎপর্যপূর্ণ ও উপভোগ্য হয়ে উঠে।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর