বিদেশি বাজার দখল করছে কেরানীগঞ্জের সবজি (ভিডিও)

সামসুল ইসলাম সনেট, কেরানীগঞ্জ   |   ০৯:৪৭, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

একটা সময় ঢাকা শহরের শাক সবজির অক্সিজেন বলা হতো কেরানীগঞ্জকে। শহরের সাক সবজির বিশাল অংশের যোগান দিত কেরানীগঞ্জ ও তার আশপাশ এলাকার কৃষকরা।

কিন্তু শিল্পায়ন ও নগরায়ণের চ্যালেঞ্জে হেরে বসে ছিলো এই এলাকার কৃষকরা। কোন্ডা থেকে হযরতপুর হয়ে পাশের ভাকুর্তা ও হেমায়েতপুর জুড়ে ছিলো শাক সবজির ভান্ডার! এই এলাকার কৃষকেরা ধান পাটের চেয়ে সবজির দিকেই দেশি মনোযোগী ছিলো। কিন্তু ঢাকা শহরের জনবসতি বৃদ্ধি ও ভূমি দস্যুদের চাপ সইতে পারেনি কেরানীগঞ্জে।


শুভাঢ্যা, কোন্ডা, শাক্তা অনেক আগেই চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোনো মতে টিকে আছে রোহিতপুর, কলাতিয়া, তারানগর, হযরতপুরসহ কিছু এলাকা। তাই কম জায়গায় উচ্চ ফলনশীল ও দামি সবজি চাষ করে ঘুরে দাঁড়াতে চাচ্ছে এই এলাকার কৃষকেরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বহুদিন পর কৃষকরা একটু খুশি। মাঠে মাঠে যেনো সবুজের হাসি। কেউ ক্ষেতের সবজি তোলা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ কীটনাশক স্প্রে করছেন। কেউ কেউ আবার জমি প্রস্তুতি করছে আবাদের জন্য। সবমিলে শিম,বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, কাঁচামরিচ, মূলা, করলা, লাউ, ঢেঁড়স, গাঁজর, , লালশাক, পালংশাক, নাপা সাকসহ বিভিন্ন জাতের সবজিতে ভরে আছে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ।

রোহিতপুরের সবজি চাষী আব্দুল জলিল ও আবুল হোসেন দৈনিক আমার সংবাদ কে বলে, আগে প্রচুর পরিমাণ শাক সবজির আবাদ হতো আমাদের এই এলাকায়,তবে দাম কম থাকায় আমাদের লাভ হতো না বেশি। কিন্তু এখন জমির পরিমাণ কম থাকলেও সবজির দাম বেশী পাওয়ায় আমরা খুশি। আর ঔষধের দাম টা আরেকিটু কম হলে আমরা আরো বেশি লাভবান হতাম। এখন প্রতি পিছ লাউ ৪০ থেকে ৭০ টাকা, ফুল কপি ২০ থেকে ৫০, বাধা কপি ৩০ থেকে ৫০, সিমের কেজী ৬০/৭০ টাকা এবং শাক বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৫ থেকে ২০/৩০ টাকা।

কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর, কলাতিয়া, আটিবাজার, ভাওয়ার ভিটির হাট গুলো বেশি জমজমাট। বাজার গুলোতে ফজর নামাজের আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় কেনা-বেঁচার। সকাল ৭টার আগেই বেঁচা-কেন শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই লাভবান হচ্ছে। সকাল সকাল বাজারের কাজ শেষ করে নতুন দমে বুনতে শুরু করে সোনালী স্বপ্ন।

কলাতিয়া সবজি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, খুব ভোরে কলাতিয়া, তারানগর, হয়রতপুরের বিভিন্ন জায়গা হতে টাটকা শাক সবজি নিয়ে আসছে কৃষকরা। আর কেরানীগঞ্জের সব চেয়ে বেশি সবজি আসে এখানেই। তাই বেঁচাও কেনা প্রচুর। শহরের বড় বড় পাইকাররা ট্রাক, পিকাপ, সিএনজি নিয়ে চলে আসে টাটকা শাক সবজি নিতে। আবার এখানকার শাক সবজি রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ, আমেরিকা সহ আরব বিশ্বে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল আমীন বলেন, আমরা কেরানীগঞ্জের কৃষি নিয়ে ব্যাপক কাজ করছি। গতবারের তুলনায় এবার জমির পরিমাণ কম হলেও উৎপাদনের লক্ষ মাত্র বেশি। গতবছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে ৩৭০২ হেক্টর জমিতে ৬২০৮৩ মেট্রিকটন রবি সবজি উৎপাদন হয়েছে যা এবার ৩৩০২ হেক্টর জমিতে ৭০১৫৮ মেট্রিকটন লক্ষ মাত্রা ধার্য্য করা হয়েছে। আশা করছি লক্ষ মাত্রা অতিক্রম করবে। আর আমরা বিষ মুক্ত নিরাপদ শাক সবজির দিকে নজর রাখছি।

এমআর


আরও পড়ুন