চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে মাচায় টমেটো চাষ

প্রিন্ট সংস্করণ॥ইসলাম রকিব, চুয়াডাঙ্গা   |   ১২:৫৪, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯

মাচায় গ্রীষ্মকালীন ‘টমেটো চাষ হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায়। মাচায় ‘টমেটো চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে এ চাষে আগ্রাহ দেখাচ্ছেন। বাজারে অসময়ের এ টমেটোর চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা দাম পাচ্ছেন ভালো। এ জাতের টমেটো খেতে সুসাদু।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে— এ পদ্ধতিতে ‘টমেটো চাষ করলে ফলন অনেক বেশি ও খরচ কম হয়। কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়া অনুকূল ও মাটি উর্বর হওয়ায় ‘টমেটোচাষ ভালো হচ্ছে। কৃষকরা এ জাতের টমেটো গাছ লাগানোর ২ মাসের মধ্যে ফল ধরতে শুরু করে। এ ফল ৩-৪ মাস পর্যন্ত সংগ্রহ করা যায়। প্রথম বছর খরচ বেশি হলেও পরবর্তী বছর থেকে খরচ কম হয়।

দামুড়হুদায় গ্রীষ্মকালীন হাইব্রিড জাতের টমেটো ২২ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। গত বছর হয়েছিল ১১ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপান ধরা হয়েছে ৩০-৫০ মেট্রিক টন। যা অন্য জাতের চেয়ে অনেক বেশি। এই জাতের ‘টমেটোচাষের আগে বীজতলা থেকে চারা তৈরি করতে হয়। জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়।

জমিতে পলিথিন বিছিয়ে ছোট ছিদ্র করে চারা লাগাতে হয়। ফুল আসার পর পাটখড়ি, বাঁশের কঞ্চি, নাইলনের দড়ি ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করতে হয়। গাছ বড় হলে মাচার ওপর তুলে দিতে হয়। ফলগুলো মাচায় ঝুলে থাকে। মাটিতে ঠেকে থাকলে দ্রুত পচে যায়। টম্যাটো গাছ লাগানোর পর নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়।

কারণ অসময়ের টমেটো হওয়ায় নানা রোগ দেখা দিতে পারে। পানি, সার, কীটনাশক ও ভিটামিনজাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এ গাছের পাতা কুড়মুড়ে হলে দ্রুত ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। এখন দামুড়হুদা উপজেলার মাঠে শুধু মাচায় টমেটো ঝুলছে, দূর থেকে দেখতে সুন্দর লাগে। গাছে থোকা থোকা টমেটো, রং লাল আর সবুজ। মাচায় ‘টম্যাটোচাষের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো ফলন ভালো হয়, সাইজ বড় হয়, পচে নষ্ট হয় না ও পোকামাকড়ে ক্ষতি কম করে।

দেশের সর্বত্র সব সিজনেই চাহিদা থাকায় প্রতি কেজি টম্যাটো বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কেশবপুর গ্রামের টম্যাটোচাষি লুৎফর রহমান বলেন, ৩ বিঘা জমিতে এ বছর আগাম হাইব্রিড জাতের ‘টম্যাটোচাষ করেছি। খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকার মতো। খরচ বাদেও লাভ হবে ১ লাখ টাকা।

উপজেলার কেশবপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, এ জাতের ‘টম্যাটোচাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ দেখাচ্ছে। গ্রামের সবাই কম-বেশি চাষ করেছে। গাছে যথেষ্ট ফল ধরেছে। মাচায় ‘টম্যাটোচাষ করলে নষ্ট কম হয়। কারণ মাটিতে টম্যাটো লেগে থাকলে পচে যায় ও ফলন কম হয়।

উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের মুকুল আলি বলেন, টম্যাটোর দাম গত বছরের তুলনায় ভালো। এখন পর্যন্ত ৫০ মণ টম্যাটো বিক্রি করেছি। দাম ৬০-৯০ টাকা পেয়েছি প্রতি কেজিতে। টম্যাটোর আকার ও ওজন ভালো।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলী আহসান আমার সংবাদকে বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় গ্রীষ্মকালীন জাতের ‘টম্যাটোচাষ হচ্ছে। এক সময় এ জাতের টম্যাটো কৃষকরা চাষ করতো না।

প্রথম বছর চাষে খরচ বেশি হলেও লাভ বেশি হয় পরের বছর থেকে। বতমানে যে ফলন হচ্ছে যথাযথভাবে আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করলে ফলন আরও বেশি হবে। এ ব্যাপারে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং হবে।

এসইটএমএ


আরও পড়ুন