রুম্পাকে নিয়ে অন্ধকারে তদন্তসংশ্লিষ্টরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক   |   ০১:১৩, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

ঘটনার পর পেরিয়ে গেছে ছয় দিন। কিন্তু এখনো সিদ্ধেশ্বরীতে গভীর রাতে সড়কে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিনের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি তদন্তসংশ্লিষ্টরা। কারণ ফরেনসিক টেস্টে তাকে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

সূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হিসেবে রুম্পার সাবেক প্রেমিক আবদুর রহমান সৈকতকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদেও মেলেনি তেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ফলে এখনো অন্ধকারে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।


তারা বলছেন, ঘটনার দিন রুম্পার সঙ্গে সৈকতের দেখা হয়েছিল বিকাল ৪টায় সিদ্ধেশ্বরী এলাকায়। তারপর আড়াই ঘণ্টা রুম্পা কোথায় ছিলেন, কী করেছিলেন— এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ওই দিন সাড়ে ৬টার পর থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রুম্পার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার সংবাদকে বলেন, ধারণা করা হয়েছিল রুম্পাকে ধর্ষণের পর ওপর থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু, ফরেনসিক টেস্টে দেখা গেছে ধর্ষণের কোনো আলামত নেই।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাছাড়া ঘটনার দিন রুম্পা তার আট বছরবয়সি চাচাতো ভাইয়ের কাছে মোবাইল, ঘড়ি, আংটি, ভ্যানিটি ব্যাগ এবং স্বর্ণালঙ্কার দিয়ে বেরিয়ে পড়েন। কেন তিনি সেদিন এসব বাসায় রেখে যান!

নিশ্চয়ই কোনো কিন্তু আছে। আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখছি। ঘটনার দিন সকাল থেকে রুম্পা কী কী কাজ করেছিলেন, কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন— এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ বাসার সামনে অজ্ঞাত ২০-২২ বছরবয়সি এক নারী উপুড় অবস্থায় পড়েছিলেন। তখন স্থানীয় লোকজন মৃতদেহটি ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখেন। অজ্ঞাত আসামি ওই নারীকে ঘটনাস্থলের আশপাশের তিনটি ভবনের যেকোনো একটি ভবন থেকে নিচে ফেলে দেন বলে মামলায় বলা হয়।

এর পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। থানা পুলিশ প্রথমে মামলাটি তদন্ত করলেও পরবর্তী সময়ে তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তকালে অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় মেলে।

ওই তরুণীর নাম রুবাইয়াত শারমিন। তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। মালিবাগের শান্তিবাগে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন ভাড়া বাসায়। তার বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জ জেলার একটি ফাঁড়িতে পুলিশ পরিদর্শক পদে কর্মরত। চাকরির সুবাদে রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জেই থাকেন।

এমএআই


আরও পড়ুন