বৃহস্পতিবার কি মুক্তি পাবেন খালেদা?

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   ১০:৪৩, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি নিয়ে বিএনপির দৃষ্টি এখন হাইকোর্টের দিকে। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার জামিন প্রশ্নে আপিল বিভাগের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। একই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে খালেদার স্বাস্থ্য রিপোর্টও জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গত ৫ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে আদালতে ব্যাপক হট্টগোল হয়। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের রিপোর্ট আসেনি, অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে এমন কথা জানালে আদালত ১২ ডিসেম্বর শুনানির দিন ঠিক করেন। বিএনপির আইনজীবীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা ওই দিন শুনানির দাবিতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান তুলে আদালতে অবস্থান নেন। তবে আদালত তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি।


বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ কী সিদ্ধান্ত দেন, তা কারো জানা নেই। তবে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। তারা দলের নেত্রীর মুক্তির প্রহর গুনছেন। মুক্তি পাওয়ার জন্য কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার যেসব শর্ত পূরণ থাকা প্রয়োজন এর সবকয়টি শর্তই পূরণ রয়েছে বলে দাবি বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের।

তাদের দাবি, নিম্ন আদালত খালেদা জিয়ার ওপর ইতোপূর্বে অবিচার করলেও দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবার তার ওপর ন্যায়বিচার করবেন। দলটির আইনজীবীদের বিশ্বাস, খালেদা জিয়া এবার মুক্তি পেতে পারেন।

বিশেষ করে তিনটি কারণে তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন। প্রথমত, আদালতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন খালেদা জিয়া। দ্বিতীয়ত, তিনি মহিলা, সে ক্ষেত্রেও মুক্তিতে আইনগত সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে। তৃতীয়ত, দেশের শীর্ষ ব্যক্তি এবং সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী হওয়ার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য কারাবন্দি অবস্থায়ও জামিনের নির্দেশ পেতে পারেন বলে মনে করছেন তারা।

বিএনপির চিকিৎসকেরা বলছেন, খালেদা জিয়া কারাগারে চরম অসুস্থ অবস্থায় দিনযাপন করছেন। দিনকে দিন তিনি পঙ্গুত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। সঠিক চিকিৎসা না হলে তার প্রাণহানির শঙ্কাও রয়েছে দলটির। চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের এমন অবস্থায় উদ্বিগ্ন বিএনপি আশা করছে, এখন অন্তত সঠিক চিকিৎসার জন্য মানবিক কারণে খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাবেন।

বিএনপি নেতারা বলেন, খালেদা জিয়া একজন বয়োবৃদ্ধ নারী। তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং তিনি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। হঠকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার খালেদা জিয়াকে প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে রেখেছে। তিনি মারাত্মক অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। নিষ্ঠুরতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রায় দুই বছর ধরে কারাবন্দী খালেদা জিয়ার জামিন লাভের অধিকার মৌলিক মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার। এই সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর চিকিৎসা প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করতে দেয়নি। পুনরায় তারিখ পিছিয়ে চলতি মাসের ১২ তারিখ করেছেন আদালত। এই ১২ ডিসেম্বর তাঁকে মুক্তি দেয়া না হলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাজপথের দখল নেবেন।

তারা বলেন, যদি কোনো কারণে এবার খালেদা জিয়ার প্রতি যদি সুবিচার না করা হয়, অবিচার করা হয়, জামিন দেয়া না হয়, মুক্তি দেয়া না হয়, তাহলে যে উদ্ভূত পরিস্থিতি হতে পারে তাঁর জন্য এই সরকার সর্বতভাবে দায়ী থাকবে। এ ব্যাপারে আমরা সরকারকে সতর্ক দিচ্ছি।

বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ৬৬৪ দিন কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। যে মামলাত তাঁকে সাজা দেয়া হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিশেষ করে তাঁর শারিরীক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা তাঁর আশু মুক্তি দাবি করছি। আমাদের সভার আজ প্রধান দাবি এটাই। আমরা মনে করি এই দাবি মানবিক। তিনি জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার জামিনকে কেন্দ্র করে বিএনপি কোনো অরাজকতা করতে চাইলে সমুচিত জবাব দেয়া আদালত খালেদা জিয়ার জামিন না দিলে সরকারের কিছু করার নেই। বিএনপির আন্দোলন কি সরকারের বিরুদ্ধে?

উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মোট ৩৭টি মামলা রয়েছে। এর ৩৫টিতে তিনি জামিনে রয়েছেন। শুধু দু’টি মামলায় জামিনের অপেক্ষায় বিএনপি। তা হলো- জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা।

এমএআই


আরও পড়ুন