তড়িঘড়ি তৃণমূল সম্মেলনে ব্যস্ত নেতারা

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম   |   ০২:২৮, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে তৃণমূল নিয়ে তোড়জোর শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। বছরের পর বছর তৃণমূলের জেলা-উপজেলা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ থাকলেও গত ২৬ অক্টোবর থেকে এক ধরনের নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে গোটা দেশ চষে বেড়াচ্ছেন তারা। আকাশপথ, নদীপথ, সড়কপথ যে যেভাবে পারছেন ছুটছেন সম্মেলনে যোগ দিতে। সম্মেলনে যোগ দিয়ে বক্তব্য আর দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা দিয়ে ফিরে আসছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত দেড় মাসে আটটি বিভাগে অন্তত ২৫টির মতো জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অপেক্ষায় আছে আরো কয়েকটি জেলা। উপজেলা সম্মেলন হয়েছে দেড় শতাধিকের মতো।


তৃণমূলের দাবি থাকলেও সময়ের কারণে কোথাও কাউন্সিলরদের ভোট নেয়া হয়নি। কাউন্সিল অধিবেশনে বা তারপর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হয়েছে। আর ঘোষিত নেতারা প্রায় সবাই স্থানীয় সাংসদ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের আশির্বাদপুষ্ট।

সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক কমিটি রয়েছে। ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের মধ্যেই বেশির ভাগ জেলার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।

এরপর অন্তত দেড় বছরের আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি পায়নি অধিকাংশ ইউনিট। এবারো অনেকটা সে দিকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত সেপ্টেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলার
সম্মেলন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা-উপজেলা সম্মেলনের সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি। এরপর পর আটঘাট বেঁধে নেমে পড়েন নেতারা। এর আগে বছর পেরিয়ে গেলেও নেয়া হয়নি উদ্যোগ। দলীয় প্রধানের নির্দেশের পর দফায় দফায় বৈঠক করে জেলা সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। তবে আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্মেলনের তারিখ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

তথ্য মতে, ইতোমধ্যে রংপুর বিভাগের রংপুর জেলা, মহানগর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও কোন্দলের কারণে স্থগিত করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার লালমনিরহাট জেলার সম্মেলন হয়েছে। আজ ১২ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলা সম্মেল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গাইবান্ধা, দিনাজপুর জেলার মেয়াদ থাকায় সম্মেলন হচ্ছে না। জাতীয় সম্মেলনের পর অনুষ্ঠিত হবে।

জানতে চাইলে রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, তোড়জোরের তো কিছু নেই। দায়িত্ব পাওয়ার পর হতেই প্রতিটি জেলা-উপজেলা নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি, নিয়মিত এলাকায়ও গেছি। নেত্রীর নির্দেশনার পর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন শুরু হয়েছে।

কয়েকটি ইতোমধ্যে হয়েছে, বাকিগুলো জাতীয় সম্মেলনের পর অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে নোয়াখালী, ফেনী, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম উত্তর, বান্দরবান ও কুমিল্লা উত্তর জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ. কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটি জেলার সম্মেলন হবে জাতীয় কাউন্সিলের পর।

রাজশাহী বিভাগের ৯টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে বগুড়া, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুুষ্ঠিত হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর জয়পুরহাট জেলা সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও স্থগিত করা হয়েছে। নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী মহানগর, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার সম্মেলন জাতীয় কাউন্সিলের পর অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা বিভাগের ১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে গত ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারিখ ঘোষণা হলেও কোন্দলের কারণে মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ১৩ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ জেলা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কাউন্সিলের আগে তৃণমূল সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া ঢাকা জেলা, গাজীপুর, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, নরসিংদী, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর জেলা সম্মেলন জাতীয় কাউন্সিলের পর অনুষ্ঠিত হবে। সিলেট বিভাগের পাঁচটি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে— সিলেট মহানগর ও জেলা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের মেয়াদ থাকায় জাতীয় সম্মেলনের পরে অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বুধবার হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনের কাউন্সিলরদের ভোট গ্রহণের দাবি উঠলেও সিলেকশন কমিটি ঘোষণা করেন নেতারা। সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, বিভাগের সব ধরনের খবর আমরা জানি। যারা যোগ্য এবং দলের জন্য নিবেদিত, তাদেরই দায়িত্ব আনা হচ্ছে।

বরিশাল বিভাগের সাতটি সাংগঠনিক জেলা ইউনিটের মধ্যে ইতোমধ্যে পটুয়াখালী, বরিশাল মহানগরের সম্মেলন হয়েছে। বরগুনা, পিরোজপুর ও ভোলা জেলার সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। খুলনা বিভাগের ১১টি সাংগঠনিক জেলা ইউনিটের মধ্যে বাগেরহাট, খুলনা জেলা ও মহানগর, নড়াইল, কুষ্টিয়া, যশোর জেলার সম্মেলন ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরার সম্মেলন হবে জাতীয় সম্মেলনের পর। আজ ১২ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সাতক্ষীরা সম্মেলনে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে নেতা নির্বাচনের দাবি উঠেছে। কিন্তু অন্য জেলা সম্মেলনের অভিজ্ঞতার কারণে শঙ্কায় রয়েছে প্রার্থীরা।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান বলেন, আমরা চাই কাউন্সিলরদের ভোটে নেতা বানানো হোক। কিন্তু দায়িত্বশীল নেতারা পাশ কাটিয়ে সিলেকশন কমিটি করার চেষ্টা করছে।

খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, কয়েকটি প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচন করা হয়। ভোট একটি প্রক্রিয়া, সেটা হলো প্রার্থীদের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারলে সেটা হয়। আমরা এখনো এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়িনি। তাই কাউন্সিলরের মতামত ও সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কোথাও বিতর্কিতরা ঠাঁই পাচ্ছে না।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর