‘খালেদার শারীরিক অবস্থার বিশেষ কোনো অবনতি হয়নি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   ০৩:১৩, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
ফাইল ছবি

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়াকে সাত বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন নিম্ন আদালত। তার বিরুদ্ধে বেগম জিয়া হাইকোর্টে আপিল ফাইল করেছেন। সে আপিলে তিনি জামিন চেয়েছিলেন। হাইকোর্ট বিভাগ জামিন আবেদন নাকচ করেছেন।

তিনি বলেন, এ আদেশের বিরুদ্ধে বেগম জিয়ার পক্ষে একটি লিভ পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল আপিল বিভাগে। সেখানে জামিন চাওয়া হয়েছিল। আদালত তার আইনজীবী, রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুদকের আইনজীবীদের শুনে আজ বেলা ১ টা ১৫ মিনিটের সময় জামিন আবেদন ডিসমিস করেছেন।


বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া প্রতিবেদন তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বেগম জিয়া যদি রাজি থাকেন বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছেন তার উন্নত চিকিৎসার জন্য। এটা ওনার (খালেদা জিয়া) অনুমতি সাপেক্ষে। যেই রিপোর্টগুলো আগেও দাখিল করা হয়েছিল। গতকালও যেটা দাখিল করা হয়েছে সেটাও পড়ে শুনানো হয়েছে। তাতে আমরা দেখেছি, আসলে তার শারীরিক অবস্থার বিশেষ কোনো অবনতি হয়নি। যে রকম ছিল, সে রকই আছে।

সর্বশেষ রিপোর্টে কি বলা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার দুটো হাতই রিপ্লেসমেন্ট করা হয়েছে। একটা ১৯৯০ সালে, আরেকটা ২০০২ সালে। এটা ভালো হওয়ার মত নেই। স্বাভাবিকভাবে এতো দিন পরে রিপ্লেসমেন্টের কার্যকারিতা থাকে না। সেই ক্ষেত্রে এটার অ্যাডভান্স (উন্নত) চিকিৎসা নিতে হয়।

তিনি বলেন, কতগুলো বিশেষ ধরনের ইনজেকশন আছে, সেই ইনজেকশন দেওয়ার ব্যাপারে তার অনুমতি না পাওয়া গেলে তা দেওয়া যাবে না। ওনি (খালেদা জিয়া) অনুমতি দিচ্ছেন না।

‘আদালত বলেছেন, ওনি যদি অনুমতি দেন তাহলে কর্তৃপক্ষ সে ব্যবস্থা করবেন।’

মাহবুবে আলম বলেন, আমি শুনানিতে বলেছি, এর আগে একটি মামলায় ওনাকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মোট তাকে ১৭ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। কাজেই এটাকে শর্ট সেন্টেন্স বলা যাবে না। সুতরাং এখানে তিনি জামিন পেতে পারেন না।

তিনি বলেন, চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার থেকে সর্বাত্মক সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাকে বঙ্গবন্ধু প্রিজন সেলে রাখার কথা কিন্তু তাকে ভিআইপি কেবিনে রাখা হয়েছে।

‘ওনাকে সেবা দান করার জন্য একজন সেবিকা দেওয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওনাকে দেখভাল করছেন। কিন্তু ওনার অনুমতি না হলে উন্নত চিকিৎসা করা সম্ভব হবে না।’

আজকের মেডিকেল রিপোর্টটিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেছেন এমন বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আমি তিনটা রিপোর্ট আদালতের সম্মুখে পেশ করেছি। একটা ২০১৮ সালের, একটা ২০১৯ সালের আর একটা হলো গতকালের। তিনটা রিপোর্টেরই সমস্ত বক্তব্য, রোগের বর্ণনা, শারীরিক অবস্থার বর্ণনা একই রকম।

খালেদার জামিন আবেদন আপিলেও খারিজ

এসআর/আরআর


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর