জমি দখল করতে জাল দলিল, একই পরিবারের ৮ জনের সাজা বহাল

খায়রুল কবীর   |   ০৭:০৫, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

সম্পত্তি আত্মসাতের লোভে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে ভুয়া মামলা করেও শেষ রক্ষা হলো না দলিল জাল-জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক জয়নাল আবেদীন আপিল না মঞ্জুর করে সিএমএম আদালত পরিবারের ৮ সদস্যের সাজা বহাল রাখেন।


ঢাকার ডেমরার ডগাইর এলাকায় ভুয়া দাতা সাজিয়ে স্বাক্ষর টিপসই জাল করে সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্ন আদালতের দেয়া দলিল লেখকের ৫ বছরের সাজা এবং একই পরিবারের ৮ জনের এক বছরের সাজা বহালের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত।

ডেমরার আলোচিত জাল দলিল তৈরির সি. আর. মামালা ৯৯/২০১৩ ঢাকার অতিরিক্ত সিএমএম আলমগীর কবীর রাজের দেয়া আদেশ বহাল রেখেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক জয়নাল আবেদীন।

আসামিদের করা ফৌজদারী আপিল মামলা নং-১/২০১৮ এর শুনাান শেষে আপিল না-মঞ্জুর করে সিএমএম আদালতে দন্ডাদেশ বহালের রায় ও আদেশ ঘোষণা করেন বিচারক। ঢাকার সিএমএম আদালতের এই প্রথম কোনো জাল জালিয়াতি মামলার রায় আপিলে বহাল হলো।

যাদের কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে তারা হলেন- ঢাকার ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ওয়াহিদউজ্জামান ভূঁইয়া, সনদ নং-১৪৪ (পলাতক)। তাকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাভোগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একই মামলায় একটি পরিবারের বাবা গোলাম হোসেন (৭২) ও তার স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন (৫৫) ও তিন ছেলে যথাক্রমে গোলাম কিবরিয়া, গোলাম সগীর, গোলাম সোহেল ও তার তিন মেয়ে নার্গিস আক্তার, ফেরদৌসী আক্তার ও রোজি আক্তারকে এক বছর বিনাশম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাভোগের আদেশ বহাল রাখা হয়েছে।

একই মামলায় ওই ভুয়া দলিলে শনাক্তকারী সাক্ষী শফিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও নূর হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাভোগের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল আদালত।

পলাতক আসামিদের ৩০ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমপণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষ জজ আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৮ জুন ঢাকার ডেমরা থানাধীন ডগাইর মৌজা সিএস দাগ নং ১৬২৮, সিটি জরিপ দাগ নং ১২৬২৯ জমির পরিমাণ ৩৬ শতাংশের প্রকৃত মালিক ছিলেন ছালেহ উদ্দিন আহমেদ বাবুল এবং তার ভাই ও ভাবী। তাদের পরিবর্তে অন্যদের দাতা সাজিয়ে উল্লেখিত আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ৮২৬৮ নং ভুয়া দলিল সৃজন করেন। এরপর জমি দখলে যাওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

এঘটনায় ঢাকার সিএমএম আদালতে সি.আর. মামলা নং ৯৯/২০১৩ দায়ের করা হয়। আদালত গত ২০১৭ সালে ৫ মার্চ তারিখে দলিল লেখক ওয়াহিদউজ্জামান ভূঁইয়া, সনদ নং-১৪৪ (পলাতক)। তাকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাভোগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একই মামলায় একটি পরিবারের বাবা গোলাম হোসেন (৭২) ও তার স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন (৫৫) ও তিন ছেলে যথাক্রমে গোলাম কিবরিয়া, গোলাম সগীর, গোলাম সোহেল ও তার তিন মেয়ে নার্গিস আক্তার, ফেরদৌসী আক্তার ও রোজি আক্তারকে এক বছর বিনাশম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাভোগের আদেশ আদেশ দেন।

কেকে/আরআর


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর