কাঁচাবাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে

প্রিন্ট সংস্করণ॥সঞ্জয় অধিকারী   |   ০১:৩৬, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯

টানা কয়েক মাসের টালমাটাল অবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে কাঁচাবাজারে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় এরইমধ্যে কমেছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম।

গত আড়াই মাস ধরে পেঁয়াজ নিয়ে যে লঙ্কাকাণ্ড হয়েছে দেশে, নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় তারও দাম কমে প্রায় নাগালের মধ্যে এসে গেছে। এছাড়া বাজারে মাছ-মাংসের দাম তেমন না কমলেও নতুন করে আর বাড়েনি।


গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই দেশের বাজারে সবচেয়ে আলোচিত পণ্যের নাম পেঁয়াজ। ৩০-৪০ টাকা কেজির পেঁয়াজ ৬-৭ গুণ বেড়ে ২৫০ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠে যায়।

এ নিয়ে সারা দেশে শুরু হয় হৈচৈ। সরকারের তরফে নানারকম আশারবাণী শোনালেও বাস্তবে তা কোনো কাজে আসেনি। এমনকি বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হলেও তা বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে পারেনি।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, ঘাটতি মেটাতে উড়োজাহাজে করে পেঁয়াজ আমদানি করতে গিয়ে কেজি প্রতি ১৫০ টাকার মতো ভাড়া দিতে হয়েছে। মানুষের উপকারের জন্যই সরকার এটা করেছে। এসময় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদেরও একহাত নিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়েছেন। তাদের যখন ধরা হয়, তারা বলেন, সুযোগ পেয়েছেন বলে লাভ করেছেন। তাদের এ ধরনের মানসিকতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

অবশেষে কমতে শুরু করেছে সেই পেঁয়াজের দাম। এ দাম কমার পেছনে আমদানি করা পেঁয়াজ নয়, বরং দেশের কৃষকের ক্ষেত থেকে ওঠা নতুন পেঁয়াজের কারণেই দাম কমছে।

জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দেশি ও আমদানি করা সব ধরনের পেঁয়াজের দামই কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা ছোট পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিলো ২০০ টাকার কাছাকাছি। আমদানি করা বড় পেঁয়াজেরও দাম কমেছে।

গত সপ্তাহে ৮০-১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া এ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। আর বাজারে আসা নতুন দেশি পেঁয়াজের কেজি ৮০-১২০, পাতাসহ পেঁয়াজের কেজি ৫০-৬০, মিসরীয় পেঁয়াজ ১১০-১২০ টাকা এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ানবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, বাজারে প্রচুর নতুন দেশি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। এগুলো পরিপুষ্ট না হলেও, ঝাঁজের কোন ঘাটতি নেই। ফলে ক্রেতারা নতুন ওঠা পেঁয়াজই বেশি কিনছেন।

ফলে আমদানি করা পেঁয়াজের চাহিদা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। আর নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দামও কমে গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই দাম আরও কমবে বলে জানান তিনি।পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যেও।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউনহল কাঁচাবাজারে মমিনুল হক নামে একজন ক্রেতা বলেন, ‘অনেক দিন পর আজ এক কেজি পেঁয়াজ কিনলাম। দাম বেড়ে যাওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ আধা কেজি করে কিনেছি। কখনো কখনো ২৫০ গ্রামও কিনেছি। কিন্তু এখন আধা কেজির দামেই এক কেজি পেঁয়াজ কেনা যাচ্ছে।’

এদিকে, সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে সব ধরনের শাক-সবজিরও। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম ২৫-৩০ টাকা, নতুন আলু ৩০-৪০, বরবটি ৫০-৬০, পেঁপে ২৫-৩০, বেগুন ৪০-৫০, মুলা ২০-৩০, শালগম ৩০-৪০, করলা ৫০-৬০, প্রতি পিছ ফুলকপি ৩০-৪০, বাঁধাকপি ২৫-৩০ ও লাউ ৪০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া সালাদজাতীয় সবজির দামও কমেছে। প্রতি কেজি দেশি পাকা টমেটো ৬০-৭০, গাজর ৪০-৫০, শশা ৩০-৫০ এবং কাঁচা মরিচ ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামও কিছুটা কমেছে। কেজিতে ১০ টাকার মতো কমে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। ফার্মের মুরগির ডিমের দামও ডজনপ্রতি ৫-১০ টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকায়। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে প্রায় সব ধরনের মাছ, গরু ও খাসির মাংসের দাম।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর