বুদ্ধিজীবী দিবসে তিতুমীর কলেজে সভা ও দোয়া মাহফিল

সরকারি তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি   |   ০৩:৩৩, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় কলেজ প্রাঙ্গণে এই আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।


বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর নাছিমা আক্তারের সভাপতিত্বে ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সালমা মুক্তার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ প্রফেসর আশরাফ হোসেন।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মোসা. আবেদা সুলতানা, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মালেকা আক্তার বানু, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকবৃন্দ, কলেজ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থীরা।

সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আশরাফ হোসেন বলেন, ১৪ ডিসেম্বরের হত্যাকাণ্ড ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম বর্বর ঘটনা যা বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষকে স্তম্ভিত করেছিল। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের পর ঢাকার মিরপুর, রায়ের বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের লাশ ফেলে রেখে যায়। আমরা সেই দুঃখস্মৃতি বহন করছি। দেশমাতৃকার শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীরা আমাদের মহান মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নিজ কর্মের মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগঠকদের প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। মুক্তিকামী জনগণকে উদ্দীপ্ত করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধে।

কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মোসা. আবেদা সুলতানা বলেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই নিজেদের পরাজয় অনিবার্য জেনে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার গোপন নীলনকশা তৈরি করে। কারফিউর মধ্যে রাতের অন্ধকারে বুদ্ধিজীবীদের বাসা থেকে ধরে এনে নির্মম-নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য আমাদের সকলকে বুঝতে হবে।

কলেজের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকরা বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এমন একটি বিশেষ দিবস যে দিন বাংলাদেশ তথা বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ১৯৭১ সালের ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর সকল বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশীদের মধ্যে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর লোকেরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিল। প্রতি বছরের মতো এ বছরও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করছে।

তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রিপন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক জুয়েল মোড়ল তাদের বক্তব্যে বলেন, বাঙ্গালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন ১৪ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় যখন নিশ্চিত, ঠিক তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের রাতের আঁধারে চোখবেঁধে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বুঝতে পেরেছিল, পরাজয় তাদের অনিবার্য। তাই পরিকল্পিতভাবে জাতিকে মেধাহীন ও পঙ্গু করতে দেশের বরেণ্য সব ব্যক্তিদের রাতের অন্ধকারে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছে। তাই সূর্য সন্তানদের স্মরণ করব।

সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র সাব্বির আহমেদ বলেন, বুদ্ধিজীবীরাই জাগিয়ে রাখেন একটি জাতির বিবেক, জাগিয়ে রাখেন তাদের রচনাবলির মাধ্যমে, সাংবাদিকদের কলমের মাধ্যমে, গানের সুরে, শিক্ষালয়ে পাঠদানে, চিকিৎসা, প্রকৌশল, রাজনীতি ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণের সান্নিধ্যে এসে। একটি জাতিকে নির্জীব করে দেবার প্রথম উপায় বুদ্ধিজীবী শূন্য করে দেয়া। আজকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস জানতে উদ্বুদ্ধ করলে আমরা অনেক অজানা ইতিহাস জানতে পারবো।

আলোচনা শেষে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়৷ মিলাদ পরিচালনা করেন তিতুমীর কলেজ জামে মসজিদের পেশ ইমাম।

কেএস


আরও পড়ুন