নানা ‘রোগে আক্রান্ত’ সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপেল মাহমুদ চৌধুরী, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ)   |   ০৭:৪৩, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯

টেকনিশিয়ানের আছে অথচ অচল পড়ে আছে এক্স-রে যন্ত্র। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও দীর্ঘ যাবত নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালে একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও প্রায় সময় সেটি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে।

হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিরাপত্তারও সমস্যা রয়েছে। রয়েছে খাবারের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন। তিন উপজেলার লক্ষাধিক লোকের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু ‘নানা রোগে’ আক্রান্ত হয়ে পড়েছে হাসপাতালটি নিজেই। ৫০ শয্যার ওই হাসপাতালটিতে গড়ে প্রতিদিন ৪৫ জন রোগী ভর্তি থাকে।


হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে ৩১ শষ্যার সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থাপিত হয়। ২০১৪ সালে হাসপাতালটি ৫০ শষ্যায় উন্নীত করা হয়। কাগজে কলমে ৫০ শষ্যার হাসপাতাল হলেও ৩১ শষ্যার জনবল দিয়েই চলছে চিকিৎসা সেবা। শুরু হয়নি জটিল অস্ত্রোপচার ও প্রসূতিদের প্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন।

৫০ শষ্যার ওই হাসপাতালটিতে চিকিৎসক থাকার কথা ২২ জন। আছেন এর অর্ধেকেরও কম মাত্র ১০ জন। আরেক জন চিকিৎসক আছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। ১৩টি মেডিক্যাল অফিসারের পদ থাকলেও কাগজে-কলমে পাঁচজন কর্মরত আছেন। পাঁচজন কনসালটেন্টের মধ্যে মাত্র দু’জন দিয়েই চলছে চিকিৎসা সেবা। সাত জন চিকিৎসক ডেপুটিশনে অন্যত্র চাকুরী করছেন। এমন বেহাল দশা সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ রোগী চিকিৎসার জন্য আসে। চিকিৎসা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।

আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় লক্ষ টাকার মেশিন অকেজো অবস্থায় রয়েছে। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জটিল অপারেশন তো দুরের কথা সাধারণ অপারেশনও হয়না। এক্স-রে মেশিন থাকলেও অধিকাংশ রোগীদের বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে হয়।

ল্যাবরেটরিতে রুটিন পরীক্ষা (ইফরিন মল-মূত্র ও রক্ত) ছাড়া অন্য কোনো পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে চড়া মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয়। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম ওষুধ সরবরাহ হওয়ায় বছরজুড়ে ওষুধ সংকট লেগেই থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। এতে দরিদ্র রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, দীর্ঘদিন থেকে একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া), একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ও একজন চিকিৎসা কর্মকর্তার পদসহ চারটি শূন্য পদ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ঝর্ণা আক্তার বলেন, হাসপাতালে রোগীদের এক্স-রে করাতে হয় বাইরে থেকে। দুর্ঘটনায় আহত রোগীদেরও বাইরে নিয়ে যেতে হয় এক্স-রে সুবিধা নেই বলে।

কুকুড়ের কামড়ের ভ্যাক্সিন নিতে আসা লাইলী আক্তার বলেন, হাসপাতাল থেকে কুকুড়ের কামড়ের ভ্যাক্সিন না দেয়ায় বাইরে থেকে ভ্যক্সিন কিনতে হয়েছে।

সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মামুন উর রশিদ বলেন, সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটের বিষয়টি তিনি নিজেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতাটিতে ওষুধ সংকট নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে এক্স-রে শুরু করা হবে। অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হওয়ায় মেরামত করতে দেয়া হয়েছে।

এমআর


আরও পড়ুন