শীত মৌসুমে বাড়ে চারগুণ দগ্ধ রোগী

প্রিন্ট সংস্করণ॥মাহমুদুল হাসান   |   ১২:৩৬, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

দেশে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিনিয়ত মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন হয়েছে, কলকারখানা থেকে আবাসিক ভবন কোথাও নিরাপত্তা নেই। দেশের প্রতিটি খাতে এখন বড় আতঙ্ক অগ্নিদুর্ঘটনা।

শীতের উষ্ণতার সাথে সাথে আগুনে পোড়া রোগীদের সংখ্যাও বাড়তে শুরু করে। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে শীতের মৌসুমে চারগুণেরও বেশি মানুষ দগ্ধ হন বলে জানিয়েছে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর শীত মৌসুমে সারা দেশে সাড়ে ছয় লাখের বেশি মানুষ বিভিন্নভাবে দগ্ধ হয়ে থাকেন। এর মধ্যে বিভিন্ন গার্মেন্ট, রাসায়নিক গুদাম, আবাসিক ভবন রয়েছে। আবার দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রচণ্ড শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে মানুষ আগুন জ্বালিয়ে তাপ নিয়ে থাকে। অসতর্কাবস্থায় সেখান থেকে গায়ে আগুন লেগে থাকে।

এই বিরাট অংশের রোগীকে যথাযথভাবে চিকিৎসা করানোও অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। আবার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রাসায়নিক গুদাম কিংবা আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ব্যাপক প্রাণহানিও ঘটে।

সম্প্রতি ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ৩০ জনের বেশি দগ্ধ হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় একজনসহ এ পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি যারা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন
আছেন তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকরা বলছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা এবং সচেতনতার অভাবে শীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। তাই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মাঝে অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আবার অবৈধ কারখানা ও গুদাম বন্ধ করতে হবে।

সেই সাথে আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম সরিয়ে নিতে সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে। অগ্নিদগ্ধ রোগীদের বিশ্বমানের চিকিৎসা দিতে দেশে স্থাপিত ৫০০ শয্যার হাসপাতাল শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শীতের আগমনের সাথে সাথে রোগীদের সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে।

গত দুই মাস আগেও যেখানে সামান্য কয়েকজন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে সেখানে এখন রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে শুরু করেছে। সংখ্যাটা বেড়ে তিন-চারগুণকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত আগস্ট মাসে হাসপাতালটিতে যেখানে মাত্র ৪৬ জন রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন। সেখানে নভেম্বরে ছোট-বড় দুর্ঘটনা নিয়ে ৪৪০ জন এসেছিলেন।

আবার ভর্তি রোগীর পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, হাসপাতালটিতে গত সেপ্টেম্বরে যেখানে মাত্র ৫৩ জন রোগী নানা ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ভর্তি হয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানটিতে নভেম্বরে ১১৪ জন ভর্তি হয়েছে।

নতুন চালু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে শীতের আগমনের সাথে সাথে দগ্ধ রোগীদের সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে।

শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. শ্যামন্তলাল সেন আমার সংবাদকে বলেন, প্রথমে আমাদের অগ্নি ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করতে হবে। একটু সচেতনতা আর সতর্কতা আমাদের সুন্দর জীবন উপহার দিতে পারে। একবার দগ্ধ হলে তো আর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব নয়। তাই আগুনের হাত থেকে বাঁচার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, শীতের সাথে সাথে দগ্ধ রোগীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এই সংখ্যাটা বছরের অন্য সময়ের চেয়ে চারগুণেরও বেশি। এখন আমাদের করণীয় একটাই— সরকারি-বেসরকারি কিংবা ব্যক্তি উদ্যোগে অগ্নি ঝুঁকির বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে হবে। রান্নার চুলা, বৈদ্যুতিক লাইন সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।

কলকারখানায় নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। এসব কথা গণমাধ্যম ও সমাজের বিভিন্ন পেশা থেকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। নয়তো আগুনে পোড়ার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর