গার্মেন্ট শিল্পে ধস দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ   |   ০৩:১৭, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

আমাদের দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ভিত্তিক রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাতটি হচ্ছে বিশ্ব বাজারের জন্যে পোশাক তৈরির শিল্প খাত। দেশের বার্ষিক মোট জাতীয় আয়ের সর্বাধিক অংশটাই অর্জিত হচ্ছে এই রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস খাত থেকে।

কিন্তু বর্তমানে খাতটি যে সংকটের মুখে পড়েছে, সার্বিক সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সময়োচিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে ‘ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা গিয়াছে’ অবস্থা সৃষ্টি হলে দেশব্যাপী শোকের মাতম শুরু হলেও শত দিক থেকে শত দৌড়ঝাঁপ করেও আরতো কিছুই করার থাকবেনা। ছোট বেলায় আমার পিতাকে বলতে শুনেছি- ‘পালাবার সময় যে ছাগীকে ধরেনা, পরে আর সে ছাগীকে খুঁজে পাওয়া যায়না’।


সময়ের কাজ সময় মতো না করলে অনেক ক্ষেত্রে পরে শত খেসারত দিয়েও তার আর কোনো কূল-কিনারা পাওয়া যায় না। এই একই ধরণের কারণে আমরা আমাদের জাতীয় জীবনে অনেক কিছুতে অনেক খেসারত দিয়েও অনেক কিছুই হারিয়েছি।

তার ওপর রয়েছে আমাদের রাষ্ট্র চালিকাশক্তির ইঞ্জিনঘরের ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরের প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিটি ব্যক্তির অসাধুতা, অনৈতিকতা তথা নির্লজ্জ চরিত্রহীনতামূলক কাজে অবহেলা, ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানান ধরণের অপকর্ম প্রবণতা।

যার কারণে আমাদের স্বাধীনতা লাভের পাঁচ দশকেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়নি। এতো কিছুর পরও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এযাবৎ যতোটুকু অগ্রগতির পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়েছে সেটাও একেক সময়ে একেক অজুহাতে হঠাৎ হঠাৎ কঠিন ধাক্কার মুখোমুখী হয়ে মুখ তুবড়ে পড়ার আশঙ্কায় হূৎকম্পনের সৃষ্টি করে।

ইতোমধ্যে তেমনি অবস্থায় পতিত হলো আমাদের গার্মেন্ট খাতটি। এসম্পর্কে বলতে গিয়ে এতোগুলো কথা বলতে হলো এই জন্যে যে, এতোদিন পর শত বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে দেশ যখন উন্নয়নের একটা ধারায় এগিয়ে চলছে, এই অগ্রগতির পথে দেশের পদ্মাসেতু তৈরির প্রাক্কালে বৈদেশিক অর্থসাহায্য প্রাপ্তিতে সৃষ্ট হওয়া একটা বড় ধাক্কা কাটিয়ে আজ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে সেই স্বপ্নের সেতুটির বাস্তবায়নের কাজ অনেকটাই সমাপ্তির পথে রয়েছে।

সম্প্রতি নিত্যপণ্য বাজারের মূল্য বৃদ্ধির কারসাজিটাও কিন্তু কৌশলে সৃষ্টিকরা একটা ধাক্কারই নামান্তর। এছাড়াতো রয়েছে আরো নানান ধাক্কার আশঙ্কা। এমতাবস্থায় শুরু হয়েছে গার্মেন্টস শিল্পে চলমান বড় ধাক্কাটা।

এ বিষয়ে আমরা বেশি কথায় না গিয়ে কেবল এটাই বলতে চাই যে, পার্মেন্ট শিল্পে উদ্ভূত সমস্যাটার জরুরি ভিত্তিক সমাধানের জন্যে সরকারের পক্ষে যা যা করার দরকার সরকার যেন শিগগিরই তা করতে কার্পণ্য না করে।

পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কর্তৃপক্ষ, শিল্পোদ্যোক্তা ও গার্মেন্ট শিল্প মালিক পক্ষ- যার যার পক্ষে যা যা করণীয় যৌথভাবে সেই করণীয় নির্ধারণপূর্বক দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ও কল্যাণে সোনার ডিম পাড়া এ শিল্পটাকে বাঁচাবার তরিৎ উদ্যোগ গ্রহণ করুন।

বিদেশে এর বাজার ধরে রাখা, বাজার সম্প্রসারণ, বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে এনে বায়িং সিস্টেমকে নবয়াকরণসহ যাবতীয় কাজগুলোতে আগের চেয়ে বেশি পারদর্শিতার সঙ্গে হ্যান্ডেল করার নতুন করে উদ্যোগ নিতে হবে গার্মেন্ট শিল্প মালিক কর্তৃপক্ষকেই। আর সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

এক্ষেত্রে যথা প্রয়োজনমাফিক ব্যাংক ঋণের সুদহার হ্রাসকরণসহ চাহিদামাফিক আর্থিক প্রণোদনা মঞ্জুর করে সম্ভাবনাময় বৃহৎ বাণিজ্যমুখী শিল্প খাতটাকে রক্ষায় সর্বোত সাহায্য করতে।

এতে কোনো দিক থেকে কোনো প্রকারের গাফিলতির কারণে এ শিল্প খাতটি যাতে মুখ থুবড়ে না পড়ে সে জন্যে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর