বিভাগ খোলায় ট্রাস্টিদের ক্ষমতা কতটা জরুরি

প্রিন্ট সংস্করণ   |   ১২:৫৭, জানুয়ারি ১১, ২০২০

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ১৯৯২ সাল থেকে বেসরকারি উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে। চলতি বছর পর্যন্ত ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চালু রয়েছে ৯২টি।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভাগ বা প্রোগ্রাম চালু ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন, অনুমোদন এবং পরিমার্জন করে আসছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।


কিন্তু বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি বিভাগ বা প্রোগ্রাম চালু ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন, অনুমোদন এবং পরিমার্জনের ক্ষমতা চায়। সমপ্রতি তারা ইউজিসি বরাবর একটি চিঠি দিয়েছে।

সেখানে এ সংক্রান্ত ক্ষমতা চাওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এটা কতটুকু জরুরি তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলেছেন শিক্ষাবিদ, ট্রাস্টি সদস্য এবং ইউজিসি কর্তৃপক্ষ। জানাচ্ছেন রাসেল মাহমুদ ও মোতাহার হোসেন

সরকারি-পাবলিকে একই নিয়ম চাই: ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক (সাবেক উপাচার্য, ঢাবি)

দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন বিভাগ খুলতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইচ্ছে করলেই নতুন বিভাগ খুলতে পারে না। এখন যেহেতু অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সে ক্ষেত্রে ইউসিজি বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করলেই ভালো।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ বা প্রোগ্রাম চালু ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন, অনুমোদন এবং পরিমার্জনের ক্ষমতা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষেত্রে যেমন রয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও তেমন হওয়া উচিত। সরকারি আর বেসরকারির পার্থক্য করা এখানে ঠিক হবে না।

যেহেতু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস প্রণয়নসহ বেশকিছু কাজ একাডেমিক কাউন্সিল করে থাকে, তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিষয়টি কীভাবে করা হয় তা দেখা দরকার।

তবে শিক্ষার মান বৃদ্ধিকে প্রাধান্য দিয়ে বিষয়গুলো চিন্তা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এখন দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক। এমনভাবে বিষয়টি করতে হবে যেনো শিক্ষার ক্ষতি না হয়।

ইউজিসির প্রক্রিয়া ধীর গতির: শেখ কবির হোসেন (চেয়ারম্যান, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি)
আমরা বিভাগ বা প্রোগ্রাম চালু ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন, অনুমোদন এবং পরিমার্জনের ক্ষমতাসহ বেশকিছু বিষয় নিয়ে ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছি।

আমরা মনে করি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলে যেহেতু এগুলো অনুমোদন হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আমরা ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে এর অনুমোদ দিলে সমস্যা তো কিছু নেই।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল আর সিন্ডিকেট যদি এটা করতে পারে তাহলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কেন পারবে না? তাছাড়া ইউজিসি যে প্রক্রিয়ায় এগুলো করে তা খুবই ধীর গতির।

সিলেবাস অনুমোদনে দেরি হওয়ায় আমরা শিক্ষক নিয়োগ দিলেও তাদের বসিয়ে রাখতে হয়। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমকে গতিশীল করতেই প্রোগ্রাম চালু, সিলেবাস অনুমোদন ও আপগ্রেড আমরা নিজেরাই করতে চাই।

দেশের উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে। তাই বিষয়গুলো আমাদের হাতে দেয়া দরকার বলে আমি মনে করি।

এ বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই: প্রফেসর ড. দিল আফরোজ বেগম (সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন)

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে চিঠি আমাদের দিয়েছে তাতে মনে হয়েছে তারা স্বায়ত্তশাসন চাইছে। তারা নিজেরাই সব করতে চায়। এর মানে হলো আমাদের (ইউজিসি) কোনো দরকার নাই। বিষয়টি নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

গণমাধ্যমে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল। আমি তাদের উদ্দেশে বলেছি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধে উপাচার্যদের চিঠি দিয়েছি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনিয়মও মেনে নেয়া হবে না। তারা একটি চিঠি দিয়েছেন। কমিশনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কিছুটা কন্ট্রোল থাকা দরকার: প্রফেসর ড. কে.এম. মহসিন (উপাচার্য, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি)

বর্তমানে দেশে শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ইউজিসির কন্ট্রোল এখন যতটুকু রয়েছে সেটা পর্যাপ্ত নয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হাতে যদি বিভাগ বা প্রোগ্রাম চালু ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন, অনুমোদন এবং পরিমার্জনের ক্ষমতা চলে যায় সেক্ষেত্রে সবাই শুধু জব ওরিয়েন্টেড বিভাগ চালু করতে চাইবে।

এতে অনেক মৌলিক বিষয় বাদ পড়ে যাবে। উচ্চশিক্ষার মহান ব্রত নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হলেও কিছুটা ব্যবসায়িক মোটিভতো আছেই। সেজন্য মালিকপক্ষ বিভাগ খোলার ক্ষেত্রে সেই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন।

আবার শিক্ষার্থীরাও জব ওরিয়েন্টেড বিভাগে ভর্তি হতে চায়। সব মিলে বিষয়টি খুব ইতিবাচক হবে বলে মনে হয় না। এজন্য ইউজিসির হাতে কিছুটা কন্ট্রোল স্ট্রংলি থাকা দরকার।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর