বালিশ-পর্দা-যন্ত্রপাতি কেলেঙ্কারি জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ   |   ১১:১৮, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

কী নির্লজ্জ কায়কারবার ! এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভের পর যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজের প্রারম্ভিক সময়ে সঙ্গত কারণে বঙ্গবন্ধু যথার্থই বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর বহুদেশ পেয়েছে সোনার খনি। আর আমি পেয়েছি চোরের খনি’। কতো বাস্তবতার নিরীখে ও কতো দুঃখে মহান নেতা বঙ্গবন্ধু এমন কথাটা বলেছিলেন।

বলেছিলেন এই জন্যে যে, বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশটি পুনর্গঠনে অগ্রাধিকার ভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিলেন, তখন সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও প্রকল্প কাজ টেকসই হওয়া না হওয়ার ব্যাপারে তোয়াক্কা না করে কেবল কীভাবে প্রকল্পের টাকা মেরে পকেট ভারি করা যায়, এরূপ স্বার্থপর স্বভাব চোরদের চোট্টামি বঙ্গবন্ধুর মতো ব্যক্তির চোখকে ফাঁকি দিতে পারেনি বলেই বঙ্গবন্ধু এমন উক্তি করেছিলেন।


এর পরতো বঙ্গবন্ধুর মর্মান্তিক জীবনাবসানে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সার্বিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। দেশে শুরু হয়ে গিয়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী ষড়যন্ত্র। দেশে প্রতিষ্ঠিত হলো স্বাধীনতাবিরোধী দলগত ও মতাদর্শিক জাতিগত বিভক্তি। তাতে থমকে গেলো মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা সমৃদ্ধ প্ল্যান-প্রোগ্রাম। দেশে বিকাশ ঘটলো উল্টো ধারার রাজনীতি। উন্নয়ন অগ্রগতির ধারা বাঁক নিলো উল্টো দিকে।

এরই মধ্যে দেশের সর্বস্তরের সকল পর্যায়ের সকল কাজে দুর্নীতির মহড়া চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করল। যার ফলে স্বাধীনতার ৪৮ বছরের মাথায় এসে বঙ্গবন্ধুকন্যার “ভিশন ২০৪১” কার্যকর করণের সৎকৌশলী দূরদর্শীতা সম্পন্ন সরকার পরিচালনায় বিশাল বিশাল মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেলের স্বীকৃতিলাভসহ উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে।

এ যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে যাত্রাপথের দুর্নীতিমূলক বাধাগুলো মোকাবিলা করতে শুরু করা হয়েছে দুর্নীতি বিরোধী জিরো টলারেন্সমূলক অভিযান, যেটা এখনো চলমান আছে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান থাকবে। এটা জানার, দেখার পরও বুকের পাটা কত কঠিন হলে চক্ষুলজ্জা বা লোকলজ্জার ভীতি উপেক্ষাকারী স্বভাব চোরেরা যথাবিহিত স্বভাবগত চুরি-চোট্টামি চালিয়ে যাচ্ছে- লেখার শিরোনামই তার জাজ্জ্বল্য নির্লজ্জ প্রমাণ।

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে দামি দামি নানাবিধ যন্ত্রপাতি আমদানি ক্রয় প্রক্রিয়া ব্যতীত কেবল বালিশক্রয়ের ক্ষেত্রে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে অতি সম্প্রতি কয়েকজন কর্মকর্তার ধরা খাওয়া ও আদালতের মাধ্যমে জেলে যাওয়ার একটি সচিত্র প্রতিবেদন দেশের সকল পত্র-পত্রিকা ও সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছিল।

এরই মধ্যে গতকালই (১৩ ফেব্রুয়ারি) দৈনিক আমার সংবাদসহ সকল পত্র-পত্রিকা ও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হল- “ফদিরপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্দাকেলেঙ্কারি/ কারাগারে তিন চিকিৎসক” শীর্ষক সংবাদ। এ যেন ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনীর মতো অবস্থা।

মানসিক বিকাগ্রস্ত খুন-ধর্ষণকারি, স্বার্থপর চোরাকারবারি, মাদক ও মানব পাচারকারি মজ্জাগত বিকৃত মন-মানসিকতা সম্পন্ন নির্লজ্জ বেহায়া, চোরা কারবারি ও অফিস-আদালতে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎকারি এসব লোকেরা একই কাতারের অন্তর্ভুক্ত।

এসব নির্লজ্জ বেহায়া লোকদের দৃষ্টান্তপূর্ণ সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না করলে, এদের কারণেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যার উদ্যোগে ও নেতৃত্বে ‘ভিশন ২০৪১’ টার্গেটের জাতি ও দেশ উন্নয়নের মেগা প্রকল্পের কাজগুলো যথাসময়ে যথাযথ বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব হবে তা বলা মুশকিল।

তাই, চলমান দুর্নীতির বিরুধ্যে জিরো টলারেন্সমূলক অভিযানকে আরও জোরদার করে সর্বস্তরের দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে স্বভাবজাত এসব চোর-চোট্টাদের অব্যাহত চোরামির মাধ্যমে টাকার পাহাড় বানানোর নেশায় আক্রান্ত হওয়া অন্যান্যরা চোরামির যেকোনো সুযোগকে কাজে লাগাতে সচেষ্ট থাকবে। আমরা চাই চলমান মুজিব জন্মশতবর্ষের ‘মুজিববর্ষে’ প্রধানমন্ত্রীর এই মর্মে কড়া নির্দেশ থাকবে, এ দেশে কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই নেই।

দুর্নীতির মাধ্যমে টাকার পাহাড় বানিয়ে আইনের চোখে ধুলা দিয়ে বিদেশে সেকেন্ডহোম বানিয়ে সুখভোগ করবে- এমন সুযোগ যেন না পায়, যারা এ সুযোগ নিয়েছে তাদেরকে আইনি প্রক্রিয়ায় পাচারকৃত অর্থসহ দেশে ফেরত এনে আইনের মুখোমুখী দাঁড় করানো ব্যবস্থা করা গেলে দুর্নীতিমূলক এরূপ চুরি-চোট্টামি বন্ধ হয়ে যাবে এবং যথা সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে ভিশন ২০৪১ সফলতার মুখ দেখবে। বাংলাদেশ সোনার বাংলা হবে। মানুষের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠবে।

আমারসংবাদ/এমএআই


আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

সব খবর