শিরোনাম

বাউফলে শ্রমিক সংকটে রোপা আমন চাষে শঙ্কা

এনামুল হক, বাউফল (পটুয়াখালী)   |  ০২:৫১, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯

ভাদ্র মাস। কৃষকের জমিতে রোপা আমন রোপণের উপযুক্ত সময়। শ্রমিক সংকট আর অনাবৃষ্টির কারণে মাঠে পানি না থাকায় কৃষক আমন রোপণ করতে পারছে না।

অন্যদিকে রয়েছে শ্রমিক সংকট। এরকম অবস্থায় বিপাকে পড়েছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কৃষকেরা। ফলে রোপা আমন আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের আবাদী জমির প্রধান ফসল হচ্ছে আমন ধান। এ আমন ধান রোপণ করা হয় শ্রাবন ও ভাদ্র মাসে। প্রায় বছরই কৃষকের প্রধান ফসল আমন ধান রোপণের সময় অতিবৃষ্টি কিংবা অনাবৃষ্টি যেকোনো একটি দুর্যোগের শিকার হয়ে থাকে কৃষকেরা।

এ বছর অতিবৃষ্টি না হলেও সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া কৃষকের মাঠের জমিতে আমন ধান রোপণ করতে পারছে না। প্রান্তিক কৃষক আপ্তার আলী খান বলেন, প্রায় চারশ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ করবো। শ্রাবণ মাসে অতিরিক্ত পানির কারণে বীজ রোপণ করতে পারিনি।

এখন পানি কমে যাওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে জমি চাষ করার জন্য অতিরিক্ত লোক প্রয়োজন। কিন্তু শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। রয়েছে কৃষি শ্রমিকের অভাব।

প্রতি কড়া (তিন শতাংশ) জমিতে আমন রোপন করতে ১০০ টাকা শ্রমিক মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বেড়ে যাচ্ছে আমন আবাদের খরচ। এতে লাভবান হওয়া যাবে না এমন আশঙ্কা করে নাজিরপুর ইউনিয়নের ছোট ডালিমা গ্রামের কৃষক বজলু মৃধা বলেন, গত বছর ধার দেনা করে নিজের এক একর জমি আবাদ করেছিলাম।

ফসল তুলে সেই ধার দেনা আর শোধ করতে পারিনি। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি আর ধানের বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় প্রতি বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ বছরও ধানের ন্যায্য দাম না পেলে আবারো লোকসানের মুখ দেখতে হতে পারে।

বাউফল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আরাফাত হোসাইন বলেন, পানি বা শ্রমিক সংকটে আমন আবাদ ব্যহত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। আমারা নিয়মিত কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছি।

এমআর

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত