শিরোনাম

গাভী পালনে স্বাবলম্বী মিজান

প্রিন্ট সংস্করণ॥হারান মিত্র (আলফাডাঙ্গা) ফরিদপুর   |  ০৮:০১, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৯

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পৌরসভা অন্তরর্ভূক্ত বাঁকাইল গ্রামে শেষ সম্বল পৈত্রিক ভিটাবাড়ি বিক্রির টাকায় অল্প দিনে গাভী পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন মিজান শেখ।

জানা যায়, মিজান শেখ বোয়ালমারী উপজেলার হাসামদিয়া গ্রামের মৃত রহমান শেখের ছেলে, দীর্ঘ দিন ধরে হাসামদিয়া বাজারে বিস্কুট ফ্যাক্টরির ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলেন।

বেশ ভালোই চলছিল এ পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারের খরচ বহনসহ ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ। ওই ব্যবসায় হটাৎ কপাল দোষে রাতের আধারে আগুনে পুড়লো সর্বস্ব। আনুমানিক গত সাত বছর আগে এ দুর্ঘটনায় মিজান শেখ এলাকাছাড়া হন।

এরপর অনাহারে-অর্ধাহারে পরিবার নিয়ে চলতে থাকে মিজান শেখের জীবন সংসার। শেষ সম্বল পৈত্রিক ভিটাবাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে আলফাডাঙ্গা বাঁকাইল গ্রামে ভাড়া বাড়িতে এসে সর্বপ্রথম পৈত্ররিক ভিটাবাড়ি বিক্রির টাকায় তিনটি গাভী ক্রয় করে গত তিন বছর আগে গাভী পালন শুরু করেন।

তিনি বর্তমানে নিজ অর্থায়নে ১৯টি গাভীসহ কয়েকটি বাচ্চা নিয়ে গাভীর দুগ্ধ খামারে পরিণত করেছেন।

গতকাল এ দুগ্ধ গাভী পালন বিষয়ে মিজান শেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে ছয়টি গাভী দুই বেলা ৬০-৬৫ কেজি দুধ দেয়, সারা বছরেই গাভী দুধ দেয়, দুধ বিক্রি করে খামারের খরচ বহনসহ আমার পরিবার চলছে বেশ হেঁসে খেলে।

তিনি আরো বলেন, গড় হিসেবে প্রতি বছর প্রায় ছয়-সাত লাখ টাকা লাভবান হচ্ছি। ছেলে আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজে মেনেজমেন্টে অনার্স ফাইনাল বর্ষে এবং মেয়েটি কামারগ্রাম কলেজে এইসএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ালেখা করে।

বর্তমানে আমি খামার ব্যবসায় মোটামুটিভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারছি, এখন সরকারিভাবে যদি বেশি পরিমাণ ঋণ সহযোগিতা পেতাম, তাহলে বেশি বেশি গাভী আমদানি করে এলাকার বেকার ছেলেদের অর্থের বিনিময় কাজের সুযোগ হতো এবং আমি গাভী পালন করে দ্রুত আরো স্বাবলম্বী হতাম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত