শিরোনাম

নরসিংদীতে আখর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

নরসিংদী প্রতিনিধি  |  ২০:২৯, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় চলতি অর্থবছরে আখের ফলন খুব ভালো হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। ফলে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

উপজেলার বাজনাব ইউনিয়নের সৈয়দ পাড়া গ্রামের আখচাষি মো. মেহেদী হাসান সজীব (২৮) জানান, তিনি গত বছর দুই বিঘা জমিতে আখের চাষ করেছিলেন। কিন্তু সেবার ফলন ভালো না হওয়ায় তার কোনো লাভ হয়নি। আর এবার তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন।

বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার আখের বাম্পার ফলন হওয়াতে তার চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক। আখ বিক্রির বাড়তি আয়ে পারিবারিক অনেক আর্থিক সমস্যার সমাধান করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

অপর দিকে, একই ইউনিয়নের বাজনাব গ্রামের আ. হাসিম (৪০) জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আখের ফলন ভালো। কিন্তু ভালো পাইকার না পাওয়াতে একটু সমস্যায় পড়েছেন।

স্থানীয় পাইকাররা অন্য পাইকারদের তুলনায় অনেক কম দাম দেয়। আখচাষিদের কাছে স্থানীয়দের চেয়ে দূূরের পাইকাররাই বেশি অগ্রাধিকার পান। কারণ তারা স্থানীয়দের তুলনায় বেশি মূল্য দেয়। তবে এই সমস্যা থাকবে না বলেও তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।

তিনি আরো জানান, পাইকারি বিক্রির চেয়ে খুচরা বিক্রি করতে পারলে কয়েক গুণ বেশি অর্থ ঘরে তোলা যায়।

ভাগবের গ্রামের আখচাষি খোরশেদ মিয়া (৩৫) বলেন, আমাদের বাপ-চাচাদের কাছে শুনেছি, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে এই এলাকায় ভালো আখ চাষ হতো।

আখ চাষে মূলধন ফেরত না আসা এবং সঠিক মূল্য না পাওয়ায় স্বাধীনতার পর থেকে আখচাষিরা লাভজনক ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই মৌসুমী ফসল আখ চাষ থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

তিনি আরো জানান, তারা প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা পেলে হয়তো আবারো নতুন করে আখ চাষে উদ্যোগী হবেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বেলাব উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার দুই হাজার টন আখ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হয়েছে।

বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর আখের বাম্পার ফলন হলেও ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে আখচাষিরা হাসি মুখ নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, তার কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে অতীতের মতো সব সময় আখচাষিদের জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তা ছাড়া আখচাষিদের আখচাষে আরো বেশি আগ্রহী করার লক্ষ্যে সরকার সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত