শিরোনাম
ফসল উৎপাদনে

জৈব বালাইনাশকের ব্যবহারে দ্বিগুণ উৎপাদন 

রফিকুল ইসলাম বিপ্লব, গাজীপুর  |  ১৯:৪৪, অক্টোবর ০৫, ২০১৯

ক্ষতিকর রাসায়নিক বালাইনাশক পরিহার করে জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদনে তৃণমূল কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন কৃষি গবেষকরা।

শনিবার দুপুরে গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে গবেষকরা এ তাগিদ দিয়েছেন। ফসলের পোকা মাকড় ও রোগবালাইনাশক ভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ইনসেপশন ওয়ার্কশপটি অনুষ্ঠিত হয়।

গাজীপুর মহানগরের তৃণমূল কৃষক প্রতিনিধি ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাসহ শতাধিক ব্যক্তি কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ব বিভাগ ওই কর্মশালার আয়োজন করেন।

ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদের সভাপতিত্বে ও ড. নির্মল কুমার দত্তের সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক চণ্ডী দাস কুণ্ডু, ইনস্টিউটের পরিচালক ড. মো. আব্দুল ওহাব, পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম প্রধান তশারফ হোসেন ফরাজী, প্রকল্প পরিচালক দেবাশীষ সরকার, উপ-প্রকল্প পরিচালক রেজাউল ইসলাম, কৃষক মনতাজ উদ্দিন, জ্ঞানেন্দ্রনাথ সরকার প্রমুখ।

সচিব জানান, ২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকার এ প্রকল্প প্রতি বছর ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্প ইতোমধ্যে তার অর্ধেকেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে।

সচিব বলেন, নিরাপদ খাবার পেতে হলে অবশ্যই কৃষককে সাপোর্ট দিতে হবে। বাজার অর্থনীতিতে কৃষক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষক সব পণ্য একসাথে উৎপাদন করে এবং বাজারে নিয়ে গেলে সঠিক মূল্য পায় না। সব পণ্য বিভিন্ন হাত ঘুরে আবার যখন সেই কৃষক পণ্যটি কিনতে যায় তখন তাকে বেশি দামে কিনতে হয়। প্রাকৃতিক যেকোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক। জলবায়ু পরিবর্তনেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক।

পণ্যের বাজারজাতকরণেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক। গণমানুষের নিরাপদ খাদ্য বিবেচনায় এসব এ প্রকল্প তৃণমূলে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। কমপক্ষে পাঁচ বছর যাবত জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন গাজীপুরের প্রান্তিক কৃষকেরা। বিষমুক্ত ফসল নিজে সেবন ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্যেই তারা এ পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন।

গাজীপুর মহানগরের ভাদুন এলাকার কৃষক জ্ঞানেন্দ্রনাথ সরকার জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি ব্যবহারের একজন কৃষক। তিনি বলেন, লাউ, ফুলকপি, কুমড়া, করলা, পেঁপে, পেয়ারা জাতীয় প্রভৃতি মৌসুমী ফসলে তিনি জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করেন। এ পদ্ধতি প্রয়োগে ১৭৫ শতক জমি থেকে খরচ বাদে বছরে তার কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়।

জ্ঞানেন্দ্র জানান, ক্ষেতের সীমনা লাইনের গাছপালা এবং ডালে জৈব বালাইনাশক মিশ্রিত জেল বা পেস্ট মিশ্রিত পদার্থ লাগিয়ে ফল আক্রমণকারী পোকা ধংস করা হয়। এ পদ্ধতিতে কৃমড়া জাতীয় সব্জীর পুরুষ ও স্ত্রী পোকা এবং আমের স্ত্রী মাছি পোকা দমন করা হয়। ফসল স্বাস্থ্য দুষণমুক্ত রাখতে দমন প্রক্রিয়াগুলো ফুল হওয়ার আগেই প্রয়োগ করা হয়।

গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকার কৃষক মন্তাজ উদ্দিন বলেন, তিনি পাঁচ কাঠা জমিতে সারা বছর মৌসুমী শাকসব্জি ও ফলমূলের চাষ করেন। প্রতিদিন হাতে কীট পতঙ্গ মেরে ফেলেন। তাছাড়া মিষ্টি কুমড়া কুচি কুচি করে কেটে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি কুমড়ো জাতীয় ফসলে ছিটিয়ে দিয়ে ক্ষতিকর পোকা দমন করেন। পেঁপে পেয়ারার মধ্যেও একই পানি মিশিয়ে পোকা দমন করেন।

তিনি বলেন, করলা, কাকরোল, সরিষা ক্ষেতে মবিলের সাথে হলুদের রঙ মিশিয়ে প্লাস্টিকের কৌটার কভারে লাগিয়ে জমিতে রেখে দিলে সেখানে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ উড়ে এসে বসে এবং মারা যায়।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত