শিরোনাম

টার্কি মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী সিরাজুল ইসলাম

মোঃ মিঠুন মাহমুদ, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)  |  ১৪:৫০, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

এক সময় টার্কি ছিল একটি পাখির নাম, বর্তমানে এটি একটি মুরগি হিসাবে বিভিন্ন স্থানে পরিচিত লাভ করেছে। অল্প সময়ে সল্প পুঁজিতে টার্কি মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ায় অনেকে এর প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন।

টার্কি মুরগি মুলত বন্য পাখি হলেও বর্তমানে একে গৃহে পালন করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলা প্রাণী সম্পদের তথ্যনুযায়ী উপজেলায় ছোট বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৫০জন ব্যাক্তি টার্কি মুরগি পালন করছে বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যেই জীবননগর পৌর শহর সহ উপজেলার বেশ কয়েকজন বাণিজ্যিক ভাবে টার্কি মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছে।

টার্কি মুরগি পালনে স্বাবলম্বী জীবননগর পৌর সভার ৩নং ওর্য়াড নারায়নপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম জানান, এটি অনেক বড় আঁকারের একটি পাখি দেখতে অনেক সুন্দর, বাড়িতে প্রায় ছয়মাস পালন করলে এক একটি টার্কি পাখির স্ত্রী জাতের ওজন হয় প্রায় ছয় থেকে আট কেজি আর পুরুষ জাতের টার্কি পাখির ওজন হয় নয় থেকে দশ কেজি একে বাড়িতে দেশী মুরগীর মতো করে এই মুরগী পালন করা যায় দেখতে একটু ভয়ংকর লাগলেও এই মুরগী খুব শান্ত সুষ্ঠ সভাবের হয়।

একই গ্রামের ইনামুল হক পৌর সভার পোষ্ঠ অফিস পাড়ার সিএনজি চালক আব্দুল আলিম ও জীবননগর পৌর সভার ৪নং ওর্য়াড কাউন্সিলার সোয়েব আহম্মেদ অঞ্জন ও নিজ বাড়িতে টার্কি মুরগির খামার তৈরি করেছে এবং তারাও এই মুরগী পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে জানান।

তারা বলেন, টার্কি মুরগী এটি প্রথমে দেখে একটু ভয় লাগতো যেহেতু আমাদের এলাকায় এটি একটি নতুন সে কারণে কিন্তু এখন আর কোন সমস্য নেই তাছাড়া এই মুরগী একবার ডিম দেয়া শুরু করলে একাধারে ডিম দিয়ে থাকে এই মুরগীর ডিম গুলো দেশী মুরগির ডিমের মতোই দেখতে শুধু ডিমের খোশার উপর দাগটানা দেখা যায়। আর দেশী মুরগির ডিমের দাম কম হলেও এই মুরগির ডিম দেড়শ টাকা থেকে দুইশত টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে তবে এই মুরগি পালনে খরচ অনেক কম খাবার লাগে, দামের পাতা, কপিসহ সব ধরণের খাবার খায়।

এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলা উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ফয়েজউদ্দিন জানান, টার্কি মুরগি এ অঞ্জলে একেবারে নতুন, তারপরও এ এলাকায় এ মুরগি পালনে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে এ উপজেলায় প্রায় ৫০জন ব্যাক্তি এ মুরগি পালন করছিলো তবে বর্তমানে এই মুরগির বাজার ভালো না হওয়ায় অনেকে এ মুরগি পালন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

মুরগি পালনে তেমন বড় ধরণের খরচ না হওয়ায় অনেকে এই মুরগি পালনে উৎসাহিত হচ্ছেন। টার্কি মুরগির তেমন রোগ ব্যাধি হয় না বললেই চলে তবে রোগের মধ্যে অনেক সময় রাণীখেত ও বসন্ত রোগ বেশি দেখা দেয় সময় মত চিকিৎসা দিলে তা দুরত্ব ঠিক হয়ে যায়।

টার্কি মুরগির বাচ্ছা ফুটাতে দেশি মুরগি বা হ্যাচারিতে ইনকোবেটরে ফোটালে ভাল হয়। বর্তমানে টার্কি পালন করে অনেক বেকার যুবক তাঁদের আর্থিক স্বচ্ছলতা এনেছে। টার্কি পালন করলে পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্ঠি হয়।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত