শিরোনাম

দক্ষিণাঞ্চলে আউশের বাম্পার ফলন

বেল্লাল হোসেন সজল, খুলনা (সদর)   |  ১২:১৩, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

মৌসুমের টানা একটা সময় খড়া বর্ষা মৌসুমে অনা বৃষ্টির পড়েও আউশের বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। ৯৫ শতাংশ আউশ কাটা হলেও ইতিমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে। আউশ চাল বাজারে আসায় অন্যান্য চালের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে।

ভারত থেকে চাল আমদানির প্রয়োজন হচ্ছে না। এ অঞ্চলের চার জেলার সরকারি খাদ্য গুদামে ৪১ হাজার ২১৭ মেট্রিকটন চাল মজুদ রয়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল।

এবছর দক্ষিণাঞ্চলের চার জেলায় ২৪ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছে। যার মধ্যে ২৩ হাজার ৭২১ হেক্টর জমির আউশ ধান কতন করা হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৫১ হাজার ৭শ’ মেট্রিকটন আউশ চাউল।

এখনও এক হাজার ১৫৪ হেক্টর জমির আউশ কর্তন বাকি রয়েছে। কর্তন হয়েছে ৯৫ শতাংশ আউশ। ফলে এখানে চালের ঘাটতি পূরণ হওয়ায় বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে হচ্ছে না। খুলনা বিভাগে দশটি জেলার খাদ্য গুদামে ২ লাখ ৩ হাজার মেট্রিকটন চাল মজুদ রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সরকার দক্ষিণাঞ্চলের চার জেলায় আউশ রোপনের জন্য ১৪ হাজার কৃষককে প্রণোদনা সহয়তা প্রদান করেছে। ফলে এবছর আউশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা অজন হয়েছে।

এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৫০ হাজার ৭৭৪ মেট্রিকটন। আর বতমানে ৯৫ শতাংশ জমির আউশ কর্তন এর মধ্য দিয়েই উৎপাদিত হয়েছে ৫২ হাজার মেট্রিকটন আউশ।

উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত খুলনা জেলায় ৩ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৪৬৯ মেট্রিকটন চাল, বাগেরহাট জেলায় ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১৫ হাজার ৬০৫ মেট্রিকটন চাল, সাতক্ষীরা জেলায় ৭ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১৯ হাজার ২৩৩ মেট্রিকটন চাল ও নড়াইল জেলায় ৭ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৩৯৩ মেট্রিকটন চাল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জানান, এবছর সরকার কৃষি প্রণোদনা দেয়ার কারণে, কৃষকেরা উৎসাহিত হয়েছে।

এছাড়া কৃষি কর্মকতাদের সঠিক পরামর্শ ও ফিল্ড পর্যায়ে কাজ কারার কারণে আউশের বাম্পার ফলন হয়েছে। আগামী বছর আমরা আউশের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করে বোরো ধানের মৌসুমে ভূট্টা ও তেলের ঘটতি মেটাতে অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কাজ করবো।

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার কৃষক জহির হোসেন বলেন, গতবছরের তুলনায় এবার আউশের ফলন ভাল। এ মৌসুমে বৃষ্টির কারণে সেচ কম দিতে হয়েছে। আউশের ফলন ভাল হওয়ায় চালের বাজার মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে।

এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের চার জেলায় ১৯ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের বীজতলা করা হয়েছে। বতমানে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ করা হয়েছে। গতবছর এ সময় ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩৩৬ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিলো।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত