শিরোনাম

স্বদেশী এবং বিদেশি ঈদ

মাহফুজা খাতুন ইতি  |  ০৯:৫৪, আগস্ট ১২, ২০১৯

এক সময় বাবা সরকারি চাকরি করতেন বিধায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বাবার পোস্টিং থাকত। বিভিন্ন জেলার ঈদ উদযাপনে আমরাও ভীষণ উপভোগ করতাম।

সেই ঈদগুলো কত বৈচিত্র্যময় ছিল সরকারি গাড়ি বরাদ্দ ছিল সার্বক্ষণিকের জন্য যদিও সরকারি চালকের বাধ্যবাধকতা নেই যে ঈদের ছুটিতে বসের ব্যক্তিগত ডিউটি করতে হবে কিন্তু আমার মা ছিলেন অধীনস্থ কর্মচারীদের প্রিয় খালাম্মা।

এতটাই পছন্দ করতেন আমাদের যে ঈদের দিন ডিউটি করতে কোনো রকম কষ্টবোধ করতেন না আমাদের শহর ঘুরিয়ে দেখাতেন আবার তাদের বাসায় নিমন্ত্রণ করতেও ভুলতেন না। এভাবে সুখময় স্মৃতিগুলো পেছনে ফেলে জীবনের রেলগাড়ি দৌড়াতে থাকে একদিন।

এখন নিজস্ব আরেকটা পরিবার হয়েছে যার জন্য বিদেশ পাড়ি দিয়ে সব পিছু ফেলে আছি গত কয়েক বছর।

এখানের দেশীয় প্রবাসী মানুষগুলো বিভিন্ন জেলা থেকে এলেও তাদের কষ্টের রং সবার একটাই তা হলো প্রিয় দেশ ও মাটি থেকে দূরে থাকা। মাটির সোঁদা গন্ধ যে কত আপন সেটা অনুধাবন করার জন্য প্রবাসী হওয়াই যথেষ্ট।

হয়তো দেশে থাকলে শহুরে আবহাওয়া ছেড়ে গ্রামের পথে যাওয়া হয় খুব কম কিন্তু অন্য দেশে এলেই যেন সে অনুভূতিটা শতগুণ বেড়ে যায়। ঠিক সেভাবেই আবার আনন্দকে এক কাতারে করা সম্ভব হয় ঈদের মতো এমন খুশির দিনে।

এমন একটি ঈদের স্মৃতিচারণ করছি যেবার ঈদ ছিল আমার জন্য দুটো। আরব দেশে আমাদের দেশের আগের দিন ঈদ হয় প্রচলিত নিয়মে বহুকাল থেকেই আর এমনই এক ঈদের রাতে ছিল আমাদের দেশে যাওয়ার ফ্লাইট। আরব দেশের ঈদ করে রাতে ভ্রমন করে পরের দিন সকালে দেশের ঈদে আপনজনদের কাছে পৌঁছতে পেরে অসাধারণ অনুভূতি হয়েছিল সেবার।

মধ্যপ্রাচ্যের ঈদের চিত্র পুরোটাই ভিন্ন যার বাহ্যিক কোনো জলুসতা নেই যেমনটি আমাদের দেশে দেখা যায় শহরে আলেকসজ্জা করা হয় আর পাড়ায় পাড়ায় সবাই ঈদ নামাজ পড়েই কোলাকুলি করা আর নতুন জামা পরে সবার বাসায় বেড়ানো সেলামি সংগ্রহ করা এসব দৃশ্য বিরল। বাসার সঙ্গে কেন্দ্রীয় মসজিদ হওয়াতে জানালা দিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিক যারা এখানে আছেন তাদের ঈদ নামাজ পরবর্তী মোলাকাতের দৃশ্য দেখে ভীষণ ভালো লাগল।

কিছু পরিচিত দেশীয় বন্ধু মহলের ভাইদের সাক্ষাৎ পেলাম। সন্ধ্যায় বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পরের দিন সকালে দেশে পৌঁছানো পর্যন্ত ঈদের দিন আরেকটা ঈদ করতে যাচ্ছি এই ব্যাপারটা সবার সঙ্গে শেয়ার করতে অন্যরকম আনন্দ পাচ্ছিলাম। এভাবেই অপ্রত্যাশিত প্রবাসী আর স্বদেশী দুটো ঈদ আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে রইল।

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত