শুক্রবার ১০ এপ্রিল ২০২০

২৭ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২১,২০২০, ০৩:২৪

ফেব্রুয়ারি ২১,২০২০, ০৩:২৪

শুন্যরেখায় দুই বাংলার মিলনমেলা

 

যশোরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি...” গানের সুরে ঘুচে গিয়েছিল কাঁটাতারের দূরত্ব। একই গানের সুরে শুক্রবার সকাল থেকেই দুই বাংলার কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, রাজনীতিবিদ ও সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের সমরোহে মুখর হয়ে উঠেছে ভারত বাংলাদেশের পেট্রাপোল ও বেনাপোল সীমান্তে।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া উপেক্ষা করে দলে দলে মানুষ যোগ দেন “২১-এর মিলন মেলায়”।

দুই বাংলার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ীসহ সরকারের প্রতিনিধিরা বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এই মিলন মেলার আয়োজন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আলাদাভাবে বেদি নির্মাণ ও অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছিল দুই দেশের সরকারি কর্তৃপক্ষ।

এপার বাংলার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয়,পল্লী ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন, বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল জলিল, যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক মো. সেলিম রেজাসহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।

ওপার বাংলার অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী শ্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বিশেষ অতিথি ছিলেন বনগাঁ পৌরসভার পৌরপ্রধান শংকর আঢ্য, সাবেক সাংসদ শ্রীমত্যা মমতা ঠাকুর, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রীমতি বীনা মন্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি শ্রী কৃষ্ণ গোপাল ব্যানার্জি, জেলা পুলিশ সুপার শ্রী তরুণ হালদার, ১৭৯ বিএসএফ-এর সহকারী কমান্ডার শ্রী শিব নারায়ণ, পেট্রোপোলের সহকারী কাস্টমস কমিশনার শ্রী মিহির কুমার চন্দ প্রমুখ।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শুন্যরেখায় (নোম্যান্সল্যান্ড) অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। আলাদা মঞ্চের অনুষ্ঠানে দুই দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ভাষা শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন সঙ্গীত। অনুষ্ঠানে নজিরবিহীন নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল দুই দেশের সরকারি বাহিনী।

দুই বাংলার মানুষের কণ্ঠে একই সুরে উচ্চারিত হয়েছে, “একই আকাশ-একই বাতাস, দুই বাংলার মানুষের ভাষা এক। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি বলে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমাদের প্রাণ কাঁদে। তাই তো বারবার ছুটে আসি দুই দেশের বাঙালি বাংলাভাষী মানুষের পাশে।”

প্রতি বছর এই দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা পৃথিবীতে পালিত হয়। গত পাঁচবছর ধরে উজ্জীবন সোসাইটি, তিওড়, হিলি, দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ ভারত এবং ‘আমরা মুক্তি যোদ্ধার সন্তান কমান্ড’ও ‘সাপ্তাহিক আলোকিত সীমান্ত’হাকিমপুর, দিনাজপুর বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে বিনম্র শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণে হিলি আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট পেরিয়ে নো ম্যানস ল্যান্ডে অমর একুশে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করছে।

ভারতের উজ্জীবন সোসাইটি এবং বাংলাদেশের হিলির মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও আলোকিত সীমান্তের যৌথ উদ্যোগে আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারত ও বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য আদান প্রদানের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন।এতে ভারতের কবি সাহিত্যিক ও শিল্পীদের সমন্বয়ে ৫ সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল যোগদান করেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিনে শিকড়ের টানে ভোর থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রান্তিক শহর হিলি সীমান্ত মুখরিত হয়ে উঠে নানা অনুষ্ঠানে। এ দিন হিলি সীমান্তের চেকপোস্টের জিরো পয়েন্টের এপারে বাংলাদেশের মাটিতে দুই বাংলার মানুষ পুরনো স্মৃতি ও আবেগের টানে মিলিত হয়ে পালন করেছেন ভাষা দিবস। আজ দুই বাংলার মাঝে কাঁটাতারের বেড়া পড়লেও ২১ফেব্রুয়ারির এই দিনটিতে মানুষের আবেগের কাছে তা মুছে যায়। মাতৃভাষা দিবস উদ্ল‌যাপনে একসঙ্গে মিলিত হন দুই বাংলার মানুষ।

ওপার বাংলার হিলি ব্লকের তিওড়ের ‘উজ্জীবন সোসাইটি’র সম্পাদক সূরজ দাশ, ‘উত্তরের রোববার’-এর পক্ষে কবি ও সমাজসেবী বিশ্বনাথ লাহা, কবি ও গল্পকার গগন ঘোষ, সমাজসেবী বিনয় আগরয়াল, সমাজসেবী দীপক ঘোষ প্রমুখ, এছাড়াও অমূল্য রতন বিশ্বাস, নবকুমার দাস, প্রতিনিধিদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এপার বাংলার সাপ্তাহিক ‘আলোকিত সীমান্ত’-এর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড’-এর কর্ণধার লিয়াকত আলী প্রমুখ।

এরপর ভারতের কবি সাহিত্যিক ও শিল্পীদের সমন্বয়ে ৫ সদস্যর প্রতিনিধি দলটি বগুড়ার ‘ইন্দো বাংলা ট্যুরিজম সাংবাদিক ফোরাম’এর আয়োজনে ‘বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মঞ্চে’একুশের বইমেলায় কবিতা পাঠ করেন। এই ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ইন্দো বাংলা ট্যুরিজম সাংবাদিক ফোরাম’এর পক্ষ থেকে ভারতের ৫ সদস্য প্রতিনিধি দলকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

আয়োজক সংস্থার পক্ষে মাজেদ রহমান, কমলেশ মোহন্ত শানু এবং জিয়া শাহিন দুই বাংলার মধ্যে সাংস্কৃতিক মেল বন্ধন গড়ে তুলতে এমন অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

আমারসংবাদ/জেআই