মঙ্গলবার ০৭ জুলাই ২০২০

২৩ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রিন্ট সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি ২৫,২০২০, ০২:৩৯

ফেব্রুয়ারি ২৫,২০২০, ১০:২২

পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস আজ

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, সময় সকাল ৯টা। পিলখানায় সদর দপ্তরের দরবার হলে শুরু হয় তৎকালীন বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) বার্ষিক দরবার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, উপ-মহাপরিচালক (ডিডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ বারী, বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাসহ বিডিআর সদস্যরা।

দরবার শুরুর পর ডিজির বক্তব্য চলাকালে সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে দুজন বিদ্রোহী জওয়ান অতর্কিত মঞ্চে ওঠেন। দরবার হলের বাইরে থেকে ভেসে আসে গুলির আওয়াজ।

কিছুক্ষণের মধ্যেই লাল-সবুজ রঙের কাপড় দিয়ে নাক-মুখ বাঁধা বিদ্রোহী জওয়ানরা ঘিরে ফেলে দরবার হল, শুরু করে গুলিবর্ষণ।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্রোহীরা কর্মকর্তাদের দরবার হল থেকে সারিবদ্ধভাবে বের করে আনেন। ডিজিসহ কর্মকর্তারা দরবার হলের বাইরে পা রাখা মাত্র ডিজিকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করা হয়।

পরে হত্যা করা হয় আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে। বেলা দেড়টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাদা পতাকা নিয়ে পিলখানার ৪ নম্বর ফটকের সামনে যান তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও হুইপ মির্জা আজম।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ১৪ সদস্যের বিডিআর প্রতিনিধি দলকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।

পরে নানক সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী বিদ্রোহীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন এবং অস্ত্র জমা দিয়ে ব্যারাকে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন।

কিন্তু জওয়ানরা প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণাকে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি করেন। সন্ধ্যায় পিলখানার বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের লাশ মাটিতে পুঁতে ও সরিয়ে ফেলা হয়।

২৬ ফেব্রুয়ারি বেলা আড়াইটায় টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণ করে ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে। এরপর বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।

সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ শুরু করেন। পরদিন সুয়ারেজ লাইন হয়ে বুড়িগঙ্গায় গিয়ে ভেসে ওঠে নিহত অফিসারদের লাশ। পরে একে একে সেনা অফিসারদের লাশ উদ্ধার করা হয়। শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে গোটা জাতি।

২০০৯ সালের এই দিনে পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত ওই হত্যাকাণ্ডে শহীদদের স্মরণে আজ মঙ্গলবার শাহাদাতবার্ষিকী পালন করবে বলে গতকাল সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী শহীদ ব্যক্তিবর্গের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরসহ সকল রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় খতমে কুরআন, বিজিবির সব মসজিদে এবং বিওপিপর্যায়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় আজ সকাল ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানের প্রতিনিধি (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক (একত্রে) শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এছাড়া দিবসটি পালন উপলক্ষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) যে সব স্থানে রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন হয় সে সব স্থানে বিজিবির পতাকা অর্ধনিমিত থাকবে এবং বিজিবির সব সদস্য কালো ব্যাজ পরিধান করবে।

আগামীকাল বুধবার বাদ আসর (৪টা ২৫ মিনিট) পিলখানাস্থ কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলেও বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বিজিবি মহাপরিচালক, শহীদদের নিকটাত্মীয়, পিলখানায় কর্মরত সব অফিসার, জুনিয়র কর্মকর্তা, অন্যান্য পদবির সৈনিক এবং বেসামরিক কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করবেন বলেও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ