রবিবার ১২ জুলাই ২০২০

২৮ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

জুন ০৩,২০২০, ০৮:২৭

জুন ০৩,২০২০, ০৮:২৭

রূপগঞ্জে কিস্তি আদায়ে বেপরোয়া এনজিওগুলো

করোনা মহামারির মধ্যে সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে কিস্তি অর্থাৎ ঋণের অর্থ আদায় করতে পারবে না জানিয়ে সরকারের তরফ থেকে আগেই নির্দেশনা আসে। কিন্তু অফিস-আদালত সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়ার পর মাইক্রোক্রেডিট প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ আদায়ে তোড়জোড় শুরু করেছে।

এই অবস্থায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বিভিন্ন এনজিও কর্তৃপক্ষ ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি জোর করে আদায়ে তৎপর হয়ে উঠেছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ঋণ গ্রহীতারা।

জানা যায়, কোথাও জোর করে ঋণ আদায় করা হলে এনজিওর ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। কিন্তু এনজিওগুলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঋণ গ্রহীতাদের কাছ থেকে জোর করে কিস্তি আদায় করার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদের মধ্যে রয়েছে- আল-আরাফাহ ইসলামী কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ, সেফটি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ, আশা, সাজেদা ফাউন্ডেশন, রিক, দেশ, আরডিএস, পল্লী মঙ্গল মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিসহ বেশ কিছু এনজিও এবং মাল্টিপারপাস সোসাইটি। তারা অনেকটা জোর করেই কিস্তি আদায় করছে বলে অভিযোগে প্রকাশ।

এদিকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এনজিও থেকে গৃহীত ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি পরিশোধে কোনো ঋণ গ্রহীতাকে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত বাধ্য করা যাবে না বলে নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু তারপরও কোন ক্ষমতাবলে এসব কর্তৃপক্ষ সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি জোর করে পরিশোধে ঋণ গ্রহীতাদের চাপ প্রয়োগ করছে? এনজিওকর্মীরা কিস্তির টাকার জন্য বাড়িতে গিয়ে চাপ দিচ্ছেন? দুর্ব্যবহার করছেন? এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতেরা।

প্রসঙ্গত, জুন পর্যন্ত নতুন করে কাউকে ঋণ খেলাপি ঘোষণা করা যাবে না উল্লেখ করে গত ২২ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। এরপরও এ প্রজ্ঞাপনের ভুল ব্যাখা দিয়ে কিছু এলাকায় ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতাকে কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা হচ্ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে প্রজ্ঞাপনটি স্পষ্ট করার জন্য গত ২৫ মার্চ পুনরায় প্রজ্ঞাপন জারি করে অথরিটি।

এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ঋণ গ্রহীতাদের আর্থিক অক্ষমতার কারণে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি অপরিশোধিত থাকলেও তাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রাপ্য কোনো কিস্তি বা ঋণকে বকেয়া বা খেলাপি দেখানো যাবে না। অর্থাৎ এই সঙ্কটময় সময়ে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণগ্রহীতাদের কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা যাবে না।

আমারসংবাদ/কেএস