শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

১১ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

সামসুল ইসলাম সনেট, কেরানীগঞ্জ

জুলাই ১৯,২০২০, ০১:৫৩

জুলাই ১৯,২০২০, ০২:৫১

কেরানীগঞ্জে নদী গর্ভে জনপদ, নির্ঘুম শতশত পরিবার

 

নদী ভাঙ্গা কথাটি শুনলেই মনে পড়ে পদ্মা, যমুনা কিংবা ব্রম্মপুত্রের কথা। সর্বনাশা এই নদ-নদী কত মানুষকে যে করেছে গৃহহারা এর ইয়েত্তা নেই। শহরে ফুটপাতে ছিন্নমূল লোকদের সাথে কথা বললেই বলে বাবা আমাদেরও বাড়ী ছিলো! ছিলো ফসলি জমি সাথে গোয়াল ভরা গরু, কিন্তু নদী সব বেড়ে নিছে।

ফরিদপুর, শরিয়তপুর, রাজবাড়ীসহ বড় নদ-নদীর পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলাগুলোতে গেলেও চোখে পড়ে এমন অনেক দৃশ্য। কিন্তু ভাবা যায় রাজধানী ঢাকার সব চেয়ে কাছের উপজেলা কেরানীগঞ্জেও নিরবে ভেঙে চলছে একটি জনপদ? প্রায় দুই যুগ ধরে ভাঙ্গনের ফলে বিলিন হয়ে গেছে উপজেলার কলাতিয়া ইউনিয়নের খাড়াকান্দী ও নতুন চর খাড়াকান্দী এলাকার কয়েক কিলোমিটার বসতি ও ফসলি জমি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বেশকয়েকটি বাড়ি, গাছপালা নদীতে ভেঙে পড়তে দেখা গেল। একটি বাড়ি যখন নদীতে পড়ছে, সেটির মালিকরা তখনো বাড়িটি থেকে ইটকাঠ খোলার চেষ্টা করছিলেন। বিশ-পঁচিশ বছরে দুই একর জমি ও আলিশান বাড়ী ভেঙ্গে অনেকটাই অসহায় হয়ে গেছেন এক সময়কার এলাকার প্রভাবশালী শেখ সবুরের পরিবার। একাধিকবার ধলেশ্বরীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে কোন মতে টিকে আছেন তারা। সর্বশেষ গত কয়েকদিন আগে তাঁর নিজের কয়েক বিঘা জমিসহ বাড়িঘর নদীতে তলিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী শেখ সবুর বলছিলেন, সেই ২০০০ সাল থেকেই তিনি ভাঙনের মুখোমুখি হচ্ছেন। সেই থেকে একের পর এক নদী ভাঙনে পড়ে বার বার তার ঘর বদল করতে হয়েছে। আমি এখন নিঃস্ব।

আরেক ভুক্তভোগী হেলেনা বেগম বলেন, যেভাবে ভাঙ্গা শুরু হয়েছে যেকোন মুহূর্তে আমার বাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। এক সপ্তাহ আগে নিজের বাড়ি হারিয়ে নদী পাড়ে দাড়িয়ে ছিলেন জাহানারা খাতুন। রাক্ষুসে এই ছোট্ট নদী পাড়ে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি হাত দিয়ে দেখালেন, ওই যে দূরে যেখানে জল পাক খাচ্ছে, সেখানেই ছিল তার বাড়ী। গাছপালা, গোয়ালঘর ছিল, কিন্তু এখন আর তার কিছুই নেই।

তিনি বলছিলেন, দুইমাস ধরেই নদী একটু একটু করে ভাঙ্গতে শুরু করে। বাড়ির কাছাকাছি চলে আসায় গত বৃহস্পতিবার তিনি ঘর ভেঙে সরিয়ে নেন। শুক্রবারই তার ভিটেমাটি নদীতে তলিয়ে যায়। সাথে মসজিদ, মাদ্রাসাও চলে গেছে নদীর পেটে।

এব্যাপারে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, আমরা ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। এখানে কয়েক কিলোমিটার জায়গায় ও বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। আজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে মিটিং আছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের তালিকা করেছি। আশা করছি খুব শীগ্রই ভাঙ্গন প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমারসংবাদ/এমআর