শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

১০ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি

সেপ্টেম্বর ১৬,২০২০, ০৩:৩৩

সেপ্টেম্বর ১৬,২০২০, ০৩:৩৩

রাজাপুরে নির্মাণ কাজে সেফটি ব্যবহার না করায় দুর্ঘটনায় নিহত ১

ঝালকাঠির রাজাপুরে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মো. শহিদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলা সদরের টিএন্ডটি সড়কে এ দুর্ঘনটা ঘটে। নিহত শহিদুল ফরিদপুর সদর উপজেলার গোয়ালেরটিলা গ্রামের মো. সাহেব আলীর ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, টিঅ্যান্ডটি সড়কের নির্মাণাধীন একটি ভবনে দির্ঘদিন ধরে কাজ করছে নিহত শহিদুল। বর্তমানে ভবনটির পাঁচতলার নির্মাণ কাজ চলছে। আজ বেলা ১১.২০ টার দিকে ভবনের চারতলা ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুত্বর আহত হয় শহিদুল। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায় চার তলার উপরে একটি পাঁচফুট উচ্চতার অস্থায়ী টেবিলের উপরে একটি চলমান ভাইব্রেটর মেসিন (স্যালো মেশিন) রেখে তার পাশে দাঁড়িয়ে কলামের ঢালাইর কাজ করছিলেন নিহত ওই শ্রমিক। চালু মেশিনের ঘুর্নায়মান চাকায় পরনে থাকা প্যান্ট পেচিয়ে ছিটকে নিচে পড়েন তিনি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের মতে দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করছেন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে। প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হচ্ছে আহত হচ্ছেন অনেকে। ২০১৪ সালের জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুযায়ী, কাজের সময় একজন শ্রমিকের মাথায় হেলমেট পড়া বাধ্যতামূলক। যারা কংক্রিটের কাজে যুক্ত, তাদের হাতে গ্লাভসও পড়তে হবে। চোখের জন্য ক্ষতিকর কাজ যেমন ড্রিলিং, ওয়েল্ডিং, ঢালাইয়ের সময় শ্রমিকদের চশমা ব্যবহার বাধ্যতামূলক। ওয়েল্ডার ও গ্যাস কাটার ব্যবহারের সময় রক্ষামূলক সরঞ্জাম যেমন গ্লাভস, নিরাপত্তা বুট, এপ্রন ব্যবহার করতে হবে। ভবনের উপরে কাজ করার সময় শ্রমিকের নিরাপত্তায় বেল্ট ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডে।

অথচ ওই নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিক রিপন মন্ডল বলেন, যে ভবনে নির্মাণ কাজে ছিলেন নিহত শহিদুলসহ তারা, সেখানে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থাই ছিল না। ছাদের একেবারে প্রান্তে দাঁড়িয়ে কাজ করলেও তাদের কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। ওই ভবনের চারপাশে কোনো নিরাপত্তা বেস্টনিও করা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা বলেন, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, শ্রম আইন সব জায়গায় শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে বলা থাকলেও ঠিকাদার ও উপ ঠিকাদাররা কখনও অবহেলা, কখনও অতি লোভের কারণে তা এড়িয়ে যান। “পরিষ্কারভাবে লেখা আছে, মালিক তার শ্রমিকদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিবে। উপকরণ সরবরাহ করবে। কিন্তু নিরাপত্তা যন্ত্রপাতি কিনতে টাকা খরচ হয়। তাই তারা এগুলো এড়িয়ে যায়।”

যেহেতু কোনো মহল্লায় নির্মাণ কাজ চলার সময় পরিদর্শন হয় না, তাই এ ব্যাপারে ভবন মালিকরাও সতর্ক হন না। “পরিদর্শন হলে লোকজন জানত যে বাড়ি করার সময় তা দেখার জন্য পরিদর্শক আসবে। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে পরিদর্শন করতে পারবে না। কিন্তু আপনি একটা এলাকায় একটি বাড়িতে গিয়ে পরিদর্শন করলেও মানুষ বুঝে যায় যে শ্রমিকদের নিরাপত্তার নিয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা আছে।” শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কতৃপক্ষসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারা বিষয়গুলো ‘দায়সারাভাবে’দেখে বলে অভিযোগ করেন ঐ শ্রমিক নেতা।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন,লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আসলে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমারসংবাদ/কেএস