মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০

১২ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

সামসুল ইসলাম সনেট, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)

অক্টোবর ০৫,২০২০, ০৫:১৫

অক্টোবর ০৫,২০২০, ০৫:১৫

কেরানীগঞ্জের ঝালমুড়ি বিক্রিতা আমিরের মাসে আয় লক্ষ টাকা

কেরানীগঞ্জে ঢাকা-মাওয়া রোডের পাশে আব্দুল্লাহপুর বাজারে ঢুকতেই হাতের ডান পাশের ফুটপাতে চোখে পড়বে সারি সারি নানা সুস্বাদু খাবারের টং দোকান। আজকাল অটোরিকশা, সিএনজি ও যানজটের কারণে দোকানগুলো ঠিকঠাক চোখে না পড়লেও খাবের মান এবং নামে পুরো কেরানীগঞ্জ ও তার আশেপাশের এলাকাসহ দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ ভিড় করে দোকান গুলোতে।

হালিম, চটপটি-ফুসকা, ফ্রাইড চিকেন, গ্রিল, ঝালমুড়ি, নুডুলস, নানান রকম পিঠাসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার মিলে এখানে। স্বাদ ও মানে নামী-দামী হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে কোন অংশে কম নয়, তাই ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। বিকালে থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত বিক্রেতাদের সাথে কথা বলার ফুসরতও মিলেনা। অনেক অপেক্ষা করেও কিনতে হয় পছন্দের খাবার।

এনিয়ে কথা হয় ঝালমুড়ি বিক্রেতা মোঃ আমির হোসেনের সাথে, ৫ বছর ধরে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন আব্দুল্লাহপুর বাজারের লেচু মিয়া মার্কেটের সামনের ফুটপাতে। কেরানীগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা আমির হোসেনের পিতার নাম আব্দুল কাদের, উত্তর মালিভিটা গ্রামে ছেলে সন্তান নিয়ে সুখের সংসার। প্রতিদিন বেলা ৩ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ঝালমুড়ি বিক্রি করেন ফুটপাতে! মুড়ি,মাংস,ডিম,মশলা, জমিদারি খরচ,কারেন্ট বিল নিয়ে কম বেশি ৫ হাজার টাকা পুজিতে বিক্রি শুরু করে যা বিক্রি হয় ৮/১০ হাজার টাকা! অর্থাৎ প্রতিদিন লাভ হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টা, যা মাস শেষে দাঁড়ায় কম বেশি লাখ টাকা! ঝালমুড়ি বিক্রি করে ইতোমধ্যে বাড়ীর পাশেই ১৬ লাখ টকায় জায়গা কিনেছে, গড়েছেন বাড়ীও।

ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার পাশাপাশি ছেলের বিদেশ যাত্রা নিশ্চিত করতে ব্যাংকে জমিয়েছেন টাকা, মেয়ের বিয়ের জন্য গোছাচ্ছেন সব কিছু। সব মিলিয়ে ভালই আছেন রসের যাদুগর ঝালমুড়ি ওয়ালা আমির(বাদশা)!

তার ভবিষ্যৎ চাওয়া কি জানতে চাইলে দৈনিক আমার সংবাদকে জানান, ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে, মেয়েকে বিয়ে দিয়ে যতদিন সম্ভব এভাবেই কাজে লেগে থাকাতে চাই, মানুষকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে ভালো ও সুস্বাদু খাবার খায়িয়ে যেতে চান সব সময়।

এব্যাপারে দোকানের নিয়মিত কাস্টমার প্রভাষক তুশার বলেন, আমির হোসেনের ঝালমুড়ি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও সুস্বাদু। ঝালমুড়ি স্বাস্থকর না যেনেও আমরা নিয়মিত এখানকার ঝালমুড়ি খাই এবং বন্ধু-বান্ধবীদের খাবারের আমন্ত্রণ করি। তাছাড়া এখানকার প্রতিটি খাবারের আইটেমই খুন টেস্টি। না খেলে বুঝা যাবেনা।

কেরানীগঞ্জের তরুণ উদ্যোক্তা যুবায়ের আহমদ বলেন, চাকরির এই প্রতিযোগিতার যুগে আমির হতে পারে আমাদের অনুপ্রেরণার নাম। কোন কাজই ছোট নয়, চাকরির পেছনে না ঘুরে যে যার স্বাধ্য মত কাজ করলে নিজের সাথে সাথে এগিয়ে যাবে দেশটাও। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে ফেরী করতে পারলে আপনি কেনো নয়? আসুন নিজে কাজ করি অন্যকে কাজের সুযোগ করে দেই।

আমারসংবাদ/এমআর