শিরোনাম

ডিভোর্সের পরও বাঁচতে পারলেন না হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১০:১৮, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

গত জানুয়ারিতে প্রেম করে সোহেলকে বিয়ে করেছিলেন হাসি। বিয়ের চার মাস পর তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় ডিভোর্স হয়। বিচ্ছেদের পর হাসি মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েন। পরে একটি এনজিওতে চাকরি নেন। তিনি আমিনবাজারের শিবপুর গ্রামে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন।

গত ১ মে সকালে হাসির বাসায় জোর করে ঢুকে তার কাছে টাকা দাবি করে সোহেল। টাকা দিতে অস্বীকার করলে হাসিকে এলোপাতাড়িভাবে চড়, থাপ্পর, কিল ও ঘুষি মারতে থাকে। এতে চোখে এবং মাথার এক পাশে মারাত্মক আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। সোহেল হাসির চুল ধরে ফ্লোরের টাইলসের সঙ্গে মাথায় আঘাত করতে থাকে এবং খাটের নিচে থাকা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে।

এক পর্যায়ে হাসির মৃত্যু হয়েছে ভেবে সোহেল আলমারির ড্রয়ার থেকে তিন ভরি সোনার অলঙ্কার ও নগদ ত্রিশ হাজার টাকা নিয়ে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। পরে বাড়ির মালিক হাসিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ছয়দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ৭ মে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় হাসির মা বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা করেন। আসামি এবং তার পরিবার মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদীকে হত্যার হুমকি দিতে থাকে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-৪ মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে।

চাঞ্চল্যকর হাসি আক্তার হত্যা মামলার আসামি সোহেলকে গত রোববার সন্ধ্যায় কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪। র‌্যাবের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।

সোমবার দুপুরে কাওরানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক এসব কথা বলেন। সোহেল রানা ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নবীনগর থানার বিদ্যাকুট গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র। হত্যার ঘটনার পর ৫ মাস আত্মগোপনে ছিল সোহেল।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত