শিরোনাম

পথনাটকেও আবরার হত্যার প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৯:০১, অক্টোবর ১০, ২০১৯

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদী তার সহপাঠী ও অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কোনভাবেই কমছে না। আন্দোলন, বিক্ষোভ, মিছিল কতকিছুর মাধ্যমেই তারা তাদের ভিতরের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। পথনাটককেও কেউ কেউ বেছে নিয়েছে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে আবরার হত্যার প্রতিবাদে এ প্রতীকী নাটকটি প্রদর্শিত হয়। নাটকটি আয়োজন ও এতে অভিনয় করেছেন বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাই। গত ৬ অক্টোবর যেভাবে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে- তারই একটি প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে নাটকে।

প্রতীকী এ নাটকে দেখা যায়, আবরারকে হলের রুম থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর তার ওপর কয়েকজন মিলে অমানবিকভাবে নির্যাতন চালায়। নৃশংস নির্যাতনের ফলে গুরুতর আহত আবরার পানি পানি বললেও তাকে পানি খেতে দেয়নি তারা। এ সময় আবরারের ঘাতকেরা জামায়াত-শিবির বলে উল্লাস করতে থাকে।

নাটকের শেষ পর্যায়ে দেখা যায়, আবরারের লাশের সামনে চিৎকার করে তার মা কান্নাকাটি করছেন। পরে নিহত আবরারের সহপাঠী ও বন্ধুরা তার খুনিদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানের মধ্য দিয়ে প্রতীকী এ পথনাটক শেষ করা হয়।

প্রসঙ্গত ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় খুন হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এসএ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত