শুক্রবার ১০ এপ্রিল ২০২০

২৭ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি ১৮,২০২০, ১২:১৩

ফেব্রুয়ারি ১৮,২০২০, ১২:১৭

অবশেষে সেই নোটিশ বাতিল করলো গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নামাজ না পড়লে বেতন কাটার জারি করা নির্দেশনা অবশেষে বাতিল করেছে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ি এলাকায় মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওই কারখানার কার্যনির্বাহী পরিচালক আবদুল কুদ্দুস স্বাক্ষরিত সংশোধিত এক অফিস নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই নোটিশে বলা হয়েছে– ‘গত ৯ ফেব্রুয়ারির জারি করা নোটিশটি শুধু মুসলিমদের নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করার জন্য দেয়া হয়েছিল।

বেতন কাটার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। ভুলবশত বেতন কর্তনের বিষয়টি উল্লেখ থাকায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

‘মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি এই নির্দেশনা জারির পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। পরে এ নির্দেশনার ব্যাখ্যা দেন কারখানার পরিচালক (অপারেশন) মেসবাহ ফারুকী।

মেসবাহ ফারুকী বলেন, ‘আমাদের এখানে বিভিন্ন মতভেদের লোক আছে। এখানে একটা টিম হিসেবে কাজ করতে হয়। এখানে ফেব্রিক ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে নিটিং সেক্টরের হয়তো একটা সমস্যা থাকে। একেকজন একেকজনের ওপর দোষারোপ সারা দিন চলতেই থাকে। তো আমি এটার সমাধান হিসেবে চিন্তা করলাম তাদের যদি একসঙ্গে বসানো যায়, একসঙ্গে কিছু সময় যদি তারা কাটায়, তাদের মধ্যে দূরত্বটা কমবে।’

নোটিশে এক দিনের বেতন কাটার বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ পর্যন্ত কারও বেতন কাটা হয়নি।’

মেসবাহ ফারুকী জানান, বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, তারা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীকে নামাজ পড়তে বাধ্য করছেন না।

ফারুকী তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বাস্থ্যগত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘সারাদিন বসে বসে কাজ করায় কোলেস্টেরল বাড়ছে, ডায়াবেটিস বাড়ছে। মসজিদ চারতলায় হওয়াতে কিছুটা ব্যায়ামও হচ্ছে।’

কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক এনামুল করিম বলেন, ‘গত ৯ তারিখের নোটিশে নামাজ পড়ার বিষয়ে বেতন কাটার যে সতর্কতা দেয়া হয়েছিল, এটা মূলত শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরির জন্য দেয়া হয়। এতে কারও বেতন কাটার উদ্দেশ্য ছিল না।’

কারখানার হিসাব বিভাগের নিরীক্ষক (অডিটর) বিলাস সরকার বলেন, ‘কারখানাটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের কোনো অভিযোগ কেউ করেননি। অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে সবাই এখানে কাজ করছেন।’

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ৯ তারিখে জারি করা এক নোটিশে অফিস চলার সময় প্রতিদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মসজিদে গিয়ে জোহর, আসর ও মাগরিবের নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

এতে বলা হয়, এই তিন ওয়াক্ত নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পাঞ্চ মেশিনে পাঞ্চ করতে হবে। যদি কোনো কর্মী মাসে সাত ওয়াক্ত পাঞ্চ করে নামাজ না পড়েন; তবে একদিনের সমপরিমাণ হাজিরা তার বেতন থেকে কেটে নেয়া হবে।

আমারসংবাদ/এমএআই