মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০

১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ২১,২০২০, ১২:১৬

মে ২১,২০২০, ১২:১৬

বিড়ি-সিগারেট বিক্রি বন্ধ করতে চায় না শিল্প মন্ত্রণালয়

বিড়ি সিগারেটসহ সব ধরণের তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রস্তাব নাকচ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

বুধবার (২০ মে) শিল্প মন্ত্রণালয় তামাকজাত পণ্যের বিক্রি বন্ধ না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামগ্রিক বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে তামাক শিল্প চালু রাখা যুক্তিসঙ্গত হবে বলে মনে করে শিল্প মন্ত্রণালয়।

শিল্প মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করছে, ধূমপান ও তামাক জাতীয় পণ্য সেবনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মোটিভেশনাল কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

তামাক উৎপাদন এবং তামাক জাতীয় পণ্য সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

বুধবার তামাক উৎপাদন ও তামাক জাতীয় পণ্য সাময়িকভাবে নিষিদ্ধকরণ সম্পর্কে এক বিজ্ঞপ্তিতে শিল্প মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রাথমিক পর্যায়ে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ও লকডাউনের সূচনালগ্নে দুইটি তামাক কোম্পানির আবেদনের প্রেক্ষিতে শিল্প মন্ত্রণালয় ৩ এপ্রিল এবং ৫ এপ্রিল প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধপত্র দেয়া হয়।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ৯ এপ্রিল জরুরি সেবা ও সরবরাহ যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ পরিপত্র জারি করে।

এছাড়া, মন্ত্রিপারিষদ সচিব গত ২৪ মার্চ জরুরি সেবা ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ বিষয়ে একটি প্রেসনোট জারি করেছিল।

উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সিগারেট একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এ বিবেচনায় শিল্প মন্ত্রণালয় কোভিড-১৯ সংক্রমণ চলাকালীন সময়ে তামাক কোম্পানির উৎপাদন সরবরাহ ও পরিবহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহায়তার অনুরোধ জানিয়ে পত্র দিয়েছিল।

শিল্প মন্ত্রণালয় জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের উদ্দেশ্যের সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের কোনো ভিন্নতা নেই।

শিল্প মন্ত্রণালয়ও প্রধানমন্ত্রীর ২০৪১ সালের মধ্যে ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণার নীতিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সমর্থন করে এবং এ লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে টোব্যাকো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প।

এ শিল্পের সঙ্গে দেশের হাজার হাজার প্রান্তিক চাষী এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি জড়িত। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও শিল্পোন্নত দেশগুলোসহ গোটা বিশ্বে এখন পর্যন্ত তামাক শিল্প চালু রয়েছে।

বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এককভাবে এ শিল্পের অবদান সবচেয়ে বেশি। জাতীয় রাজস্ব আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ এ শিল্পখাত থেকে আসে।

এই শিল্প হুট করে বন্ধ করে দেয়া হলে, একদিকে যেমন দেশ বিরাট অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে, অন্যদিকে তেমনি বিপুল পরিমাণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগও বন্ধ হয়ে যাবে। আবার তামাক পাতা না কিনলে প্রান্তিক চাষিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্তে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা দেবে। ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, ধূমপান কিংবা তামাক জাতীয় পণ্যের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও এর সেবনকারীরা তা জেনে-শোনেই সেবন করছেন। এ শিল্প সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিলেও, তারা এটি সেবন করবেন।

এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মোটিভেশন ছাড়া শুধুমাত্র সাময়িক উৎপাদন বন্ধ করে করোনাকালে ধূমপান প্রতিরোধ করা যাবে না। অধিকন্তু, এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে কালোবাজারিরা উৎসাহিত হবে এবং আমদানি করা সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের মাধ্যমে দেশ মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব আয় হারাবে।

এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল ধূমপায়ী ও তামাক জাতীয় পণ্য সেবীদের মধ্যে এটি পরিহারের জন্য প্রচার জোরদার করতে পারে।

এছাড়া, করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই বৈশ্বিক অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিও যথেষ্ট চাপে আছে। আগামী দিনে অনিবার্যভাবে এই চাপ বাড়বে। করোনার প্রাদুর্ভাবের ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিল্প-কারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকটা স্থবির হয়ে রয়েছে।

এতে করে প্রান্তিক পর্যায়ে অনেক লোকজন বেকার হয়ে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে নগদ অর্থ ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করলেও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সরকারের জন্য দীর্ঘদিন এটি চালিয়ে নেওয়া কষ্টকর হবে।

এই অবস্থায় বিদ্যমান কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং শিল্প উৎপাদন বন্ধ করলে, তা হবে জাতীয় মারাত্মক ক্ষতি। এই বিবেচনায় এ শিল্প চালু রাখা যুক্তিসঙ্গত মনে করছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

আমারসংবাদ/এআই