শিরোনাম

বাজেট ব্যবসাবান্ধব : এফবিসিসিআই

প্রিন্ট সংস্করণ॥অর্থনৈতিক প্রতিবেদক   |  ০৬:৩৪, জুন ১৫, ২০১৯

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে উল্লেখ করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি -এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসা সহায়ক বলে অভিহিত করেছেন।

তবে রাজস্ব ঘাটতি পূরণে দেশের ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সংসদে বাজেট উপস্থাপনের দুদিন পর গতকাল শনিবার মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এর ২০টি ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়।

বাজেট নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনগুলোর মতামতের ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রস্তাবনা পরে অর্থমন্ত্রীকে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। এ সময় এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাহিম বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ভিশন, ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় প্রণীত এ বাজেটে জাতীয় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ শতাংশ।

এফবিসিসিআইর মতে, এ বাজেট ব্যবসাবান্ধব এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। এ ধরনের একটি জনমুখী ও ব্যবসা সহায়ক বাজেট দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী এবং বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আর অ্যান্ড ডি, নভেশন ও আইসিটি, অবকাঠামো, আর্থসামাজিক, দারিদ্র্যবিমোচন, মানবসম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ায় এ বাজেট যুগোপযোগী। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক ব্যক্তি, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, চা শ্রমিকসহ সব উপকারভোগীর সংখ্যা ও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করা মানবিক পদক্ষেপ।

এ ছাড়াও যুবকদের মধ্যে ব্যবসায় উদ্যোগী হওয়ার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান প্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে। এসব অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) আরও ভূমিকা রাখবে।

তবে বাজেটের ঘাটতি অর্থায়নের বিষয়ে তিনি নতুন বাজেটে ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বৈদেশিক উৎস, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড, ইনফ্রাস্ট্রাকচার বন্ড ও অন্যান্য ফিন্যান্সিয়াল টুলসের ওপর সরকারের কাছে জোর দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। এফবিসিসিআইর মূল্যায়ন, সিম্পিল, ট্রান্সপারেন্ট, প্রেডিক্টেবল ও কনসিস্টেন নীতিমালায় হয়রানিমুক্ত রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক অটোমেশনের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

প্রস্তাবিত বাজেটকে কেন ব্যবসা বান্ধব বলছেন- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে এফবিসিসিআইর সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অতীতের বাজেটগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এই বাজেটে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসার সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ এখনো আছে। বাজেটে শিক্ষার মানোন্নয়নে ও আধুনিক কারিকুলাম গঠনের উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার কারিকুলামে কর-মূসক পরিশোধে নাগরিক দায়িত্ববোধ, ভোকেশনাল ট্রেনিং, ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি, কোডিংকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেয়া হয়। রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা সহজ, স্বচ্ছ এবং ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আদায় করা হবে এবং হয়রানিমুক্ত হবে বলে আশা করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত