শিরোনাম

গরম মসলার কদর বাড়ায় দামও বেশি

প্রিন্ট সংস্করণ॥সঞ্জয় অধিকারী   |  ০৩:০১, আগস্ট ১০, ২০১৯

ঈদুল আজহার আগে রাজধানীর বাজারে বেড়ে গেছে সব ধরনের মসলার দাম। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচির দাম। পাশাপাশি জিরা, গোলমরিচ ও দারুচিনির দামও বেড়েছে। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কুরবানির ঈদের সময় মসলার চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

আর এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরাও ফায়দা লুটে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা একে আপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন দাম বৃদ্ধির জন্য।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে কোনো কোনো মসলার দাম দেড় থেকে দুই গুণও বেড়েছে। বর্তমানে মাঝারি মানের প্রতি কেজি এলাচি কিনতে লাগছে দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকা, যা এক মাস আগে ছিলো দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা।

আগে এক কেজি দারুচিনি কিনতে লাগত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, সেটা এখন ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। প্রতি কেজি লবঙ্গ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং প্রতি কেজি জিরা মানভেদে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি কিশমিশ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কালো গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, আর সাদা গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা। মানভেদে প্রতি কেজি জায়ফল এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, জয়ত্রী এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা, লবঙ্গ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাঠবাদাম ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা, তেজপাতা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, পেস্তা বাদাম এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, এক মাস আগে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি চীনা রসুনের দাম ছিলো ১২০ টাকা, যা এখন ১৭০-১৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে চীনা আদার দাম ১২০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে ১৫০-১৬০ টাকায় উঠেছে। ৩০ টাকার দেশি পেঁয়াজ কিনতে এখন লাগছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। দেশি রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, থাইল্যান্ডের আদা ১৮০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ক্রেতা আরিফুজ্জামান তুষার বলেন, এই মুহূর্তে মসলার দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। ঈদের সময় চাহিদা বাড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে। প্রশাসন কঠোরভাবে তদারকি করলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন ছিলো না। কিন্তু এটা নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। ক্রেতাদের সবকিছু মুখ বুজেই সহ্য করতে হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারিতে দাম বাড়ানোর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের মসলা বিক্রেতা কাজী আনিস জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রায় সব ধরনের মসলার দাম বাড়ছে। ঈদের আগে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

তাই তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে তাদের এই অভিযোগ মানতে নারাজ পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি গত এক মাসে পাইকারিতে কোনো মসলার দাম বাড়েনি। খুচরা বিক্রেতারা যে যার মতো করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।

বাংলাদেশ গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফেজ মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে দেড় মাস আগে এলাচির দাম কিছুটা বেড়েছিল। কিন্তু এখন সেটা স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যান্য মসলার দামও তেমন বাড়েনি বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, সব ধরনের মসলার যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। সরবরাহও স্বাভাবিক। পাইকারিতে দাম বাড়ানো হয়নি। খুচরা পর্যায়ে কেউ কেউ হয়তো বেশি দাম নিচ্ছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।

তিনি জানান, দু-একটি মসলার দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে সেটা স্বাভাবিক পর্যায়েই রয়েছে। আর গত বছরের তুলনায় এ বছর অধিকাংশ মসলার দামই কম রয়েছে। জানা গেছে, দাম নিয়ন্ত্রণে মসলার বাজারে অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল জানান, দাম নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর পুরান ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি মসলার বাজারে অভিযান চালানো হচ্ছে। অযৌক্তিক দাম না বাড়াতে সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত