শিরোনাম

হু হু করে বাড়ছে সোনার দাম, কারণ কী

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০২:০৯, আগস্ট ২৫, ২০১৯

গত দেড় মাসে সোনার দাম পাঁচ দফা বেড়েছে। সর্বশেষ সোমবার ২২ ক্যারেটের সোনা ভরিপ্রতি ১ হাজার ১৬৭ টাকা বেড়ে ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকা হয়েছে।

অন্যদিকে, গেল ১৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম এক হাজার ৫২৫ ডলার ৯৯ সেন্ট উঠে, যা ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি আউন্স সোনা এক হাজার ৫৩৭ ডলারে বেচাকেনা হয়।'

দেশের বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রয়েছে ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫৪ হাজার ৫২৯ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের দাম ধরা হয়েছে ৪৯ হাজার ৭৪৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতিতে বিক্রি হচ্ছে ২৯ হাজার ১৬০ টাকা ভরি।

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস) চলতি বছরের ১৮ আগস্ট সবশেষ স্বর্ণের দাম বাড়ানার যে ঘোষণা দিয়েছে, তাতে এই দাম নির্ধারণ করা হয়। এর আগে আগস্ট মাসে আরও দুই দফায় স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাজুস।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার হিড়িক, ডলারের দাম পড়ে যাওয়া, বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা এবং হংকংয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা- এই ছয় কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ ক্ষেত্র মনে করে সোনা কিনছেন।

এতে চাহিদায় বাড়তি চাপ পড়ায় হু হু করে বেড়ে চলেছে সোনার দাম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগস্টের শুরু থেকেই বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতনের আভাস দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।সবশেষ ১৫ আগস্ট জাপানের শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে। তার কিছুদিন আগেই দরপতন হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে।

চীনের সাংহাই কম্পোজিট ইনডেক্স, হংকংয়ের হ্যাং সেং, যুক্তরাষ্ট্রের ডাও জোসন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ, স্ট্যান্ডার্ড অ্যানাড পুরস-৫০০ ও নাসদাক এর দরপতন হয়েছে। দেশে শেয়ার বাজারেরও উত্থান-পতন হচ্ছে যে কোনো সময়।

শেয়ার বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ না করে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের নজর এখন স্বর্ণ মজুদে। যেখানে শেয়ারবাজারের তুলনায় পুঁজি হারানোর ভয় অনেক কম। শেয়ারবাজার ছেড়ে স্বর্ণে বিনিয়োগ স্বর্ণের দাম বাড়াতে অনেকটাই ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজুসের সাধারণ সম্পাদক জানান, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক সোনার বাজারে। চীনের নানা ধরনের পণ্যের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল, তখন চীন ডলার ছেড়ে দিয়ে সোনার রিজার্ভ বাড়িয়ে দেয়।

এর ফলে ডলারের দরপতন হয়। চীন সোনা কেনায় আন্তর্জাতিক বাজারে এই ধাতুটির সংকট তৈরি হয়ে দাম বাড়তে থাকে। সোনার দাম সামনে কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সোনা আমদানি শুরু না হলেও যারা লাগেজে করে সোনা আনেন, তারাও তো আন্তর্জাতিক বাজারের দরেই কিনে আনেন। যারা রিসাইকেল করা সোনা কিনছেন তারাও ওই আন্তর্জাতিক বাজারের দাম অনুসরণ করেন।’

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে (স্পট মার্কেট) ২০১৩ সালের এপ্রিলে সোনার দাম আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৩৪ ডলার ৩১ সেন্টে উঠেছিল।

২০১৪ সালে সর্বোচ্চ দাম ছিল আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩৭১ ডলার, ২০১৫ সালে ১ হাজার ২৯৪ ডলার, ২০১৬ সালে ১ হাজার ৩৮৯ ডলার, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৩৩৩ ডলার এবং ২০১৮ সালে ১ হাজার ৩৫৫ ডলার।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, চলতি বছর সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৬০০ ডলারে ঠেকতে পারে।

লন্ডনভিত্তিক সংস্থা সিএমসি মার্কেটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক মাইকেল ম্যাকার্থি রয়টার্সকে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দার ফলে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগের নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে সোনার চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক মাহমুদ হোসেন বলেন, ২০১০ সাল থেকে দেশের পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতনের কারণে লাখ লাখ মানুষের রক্তক্ষরণ হচ্ছে। মানুষ আর কত অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে চায়। সবাই চায় নিরাপদ ও নিশ্চিত রিটার্ন বিনিয়োগ।

তাই পুঁজিবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী এই সংস্কৃতি শুরু হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত