শিরোনাম

উজবেকিস্তানে টেক্সটাইল কনফারেন্সে টিপু মুন্শি

বাধা দূর হলে সিআইএসভুক্ত দেশে রপ্তানি বাড়বে কয়েকগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |  ০২:২৪, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

উজবেকিস্তানে সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি বলেছেন, বাংলাদেশ তৈরী পোশাক রপ্তানিতে পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। বিশ্ববাজারে দিনদিন তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ছে। বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে শ্রমিকরা কাজ করছে।

তিনি বলেন, দেশে একের পর এক গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। বাংলাদেশ উজবেকিস্তানসহ সিআইএসভুক্ত দেশসমূহে (আজারবাইজান, বেলারুশ, কাজাখাস্তান, কিরগিস্তান, আরমেনিয়া, মলডোভা, রাশিয়া, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান) বাংলাদেশী পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহন করেছে। বাণিজ্য বাধা দুর হলে রপ্তানি অনেকগুন বাড়বে।

বাণিজ্যমন্ত্রী ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাশিয়া সফরের আগে তাসখন্দ সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালস্ ইত্যাদি প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে প্রত্যাশা মোতাবেক পণ্য উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে না।

এসব জটিলতা নিরসনে উজবেকিস্তানের সহযোগিতা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

‘সিআইএস ভুক্ত দেশসমুহের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত মে মাসে ইউরেশিয়ান ইকনোমিক কমিশনের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।’

‘গত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বাংলাদেশ উজবেকিস্তানে রপ্তানি করেছে ২৯.২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য, একই সময়ে আমদানি করা হয়েছে ১৯৩.৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বিদেশী বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা ও বিশেষ সুবিধা প্রদান করছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) উজবেকিস্তান টেক্সটাইল এন্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশন আয়োজিত ‘উজবেকিস্তান টেক্সটাইল কনফারেন্স এবং ৫ দিনব্যপী গ্লোবাল টেক্সটাইল ডে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদানের সময় এসব কথা করেন।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভ, তুরস্কের রাস্ট্রদূত, আইএলও, আইএফসি প্রতিনিধিগণ।

আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে কনফারেন্সের মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপনায় তৈরি পোশাক খাতের বিশ্ববাণিজ্য পরিস্থিতির হালনাগাদ চিত্র তুলে ধরা হয় এবং তাতে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভ-এর সাথে দ্বি-পাক্ষিক সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, উজবেকিস্তান বাংলাদেশের ঘনিষ্ট বন্ধুরাষ্ট্র। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপতি স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অনেক দেশ বাংলাদেশের স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিনিয়োগ শুরু করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতের দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববাণিজ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভ বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যবৃদ্ধি করার কথা বলেন।

তিনি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়া, জাতপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালস্ ইত্যাদি আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্য এবং উজবেকিস্তান সরকারের বিনিয়োগ ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং কৃষি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী উজবেকিস্তনের চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য ফোরামের রাউন্ড টেবিল বৈঠকে যোগদান করেন।

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ছাড়াও পর্যটন, যৌথ বিনিয়োগ, ঢাকা-তাসখন্দ সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং বাংরাদেশের স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিনিয়োগের আহবান জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী উজবেকিস্তান সরকারের ও বাণিজ্য প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি এবং উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাস্ট্রদূত বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

উজবেকিস্তানের পক্ষ থেকে চেম্বারের সভাপতি আধামইকরামভ ছাড়াও বিনিয়োগ ও পররাস্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী লাজিজ কুদরাতভ ও উজবেকিস্তানের ফার্মাসিউটিক্যালস্ ইনন্ডাস্ট্রীর পরিচালক সারদোরকারিয়েভ বক্তব্য রাখেন।

আলোচনায় উভয় পক্ষ দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

এএসকে/আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত