শিরোনাম

রাজস্ব ফাঁকি: মধু বিড়ির প্যাকেটে নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার

শেখ হাবিবুর রহমান, গাইবান্ধা  |  ২০:২৭, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

গাইবান্ধায় উত্তর ঘাগোয়ায় অবস্থিত মেসার্স মধু বিড়ির ফ্যাক্টরিতে প্রতিটি বিড়ির প্যাকেটে নকল ও জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে সরকারকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি ও সেই সাথে সাগর বিড়ি নামে নকল বিড়ি তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে মধু বিড়ির ফ্যাক্টরিতে সপ্তাহে শুক্রবার ব্যতীত পুরুষ, নারী ও শিশুসহ প্রায় ২০০/৩০০ বিড়ি শ্রমিক বিড়ি তৈরি করে প্যাকেটজাত করে আসছে।

এ ছাড়া তারা ফ্যাক্টরির বাইরেও অবৈধভাবে বিড়ি তৈরি করছে। সরকার শিশু শ্রম বন্ধ করতে নির্দেশ দিলেও ফ্যাক্টরির মালিক সরকারি আইন অমান্য করে স্বল্প দামে কোমলমতি শিশুদের খাটিয়ে নিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১ শিশুর সাথে কথা বললে সে বলে, সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিড়ি বানিয়ে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা আয় করেন।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তৈরিকৃত বিড়ির প্রতিটি প্যাকেটে একটি করে সরকারি কর পরিশোধ ব্যান্ডরোল লাগানোর কথা থাকলেও ওই ফ্যাক্টরিতে তা মানা হচ্ছে না। নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে একাধিকবার ব্যবহৃত জোড়াতালি ব্যান্ডরোল দেদার লাগিয়ে যাচ্ছে।

তাদের এ অপকর্ম ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে ৩০/৪০ ভাগ আসল ব্যান্ডরোল ক্রয় করে বাকি ৬০-৭০ ভাগ ব্যান্ডরোল দীর্ঘদিন যাবৎ একটি চোরা সিন্ডিকেটের নিকট থেকে নকল ব্যান্ডরোল নাম মাত্র ক্রয় করে প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে লাগিয়ে রীতিমতো সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সেই সাথে অবৈধ সাগর বিড়ির পুরাতন ব্যান্ডরোল লাগিয়ে বিক্রয় করে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজনদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, আমরা সাগর বিড়ির কথা আগে কখনো শুনিনি। এ ব্যাপারে মধু বিড়ির প্রো. মো. শামীম মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের একই লাইসেন্সে মধু ও সাগর ২টি বিড়ি চলে।

মধু বিড়ির ম্যানেজার মমিন মিয়ার সাথে কথা বললে, তিনি দাম্ভিক সুরে বলেন, আমরা আমাদের উৎপাদিত বিড়িতে কিছু কিছু জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করছি এটা সত্য, তবে তা গাইবান্ধা কাস্টমস্ ও ভ্যাট কর্তৃপক্ষসহ প্রশাসনের সর্বত্র ম্যানেজ করে করা হয়েছে এবং তিনি আরও বলেন, বাজারে যেভাবে অবৈধ বিড়ি এসেছে তাতে করে আমাদের টিকে থাকা মুশকিল। যার কারণে নিয়মের সাথে অনিয়ম করতে হয়। মধু বিড়ি জাল ব্যান্ডরোল সম্পর্কে ভ্যাট পরিদর্শকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা আরও জানান, ফ্যাক্টরির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা থাকলেও তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে প্রভাব খাঠিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা দখল করে ফ্যাক্টরির গেট নির্মাণ করেন। এতে জনসাধারণ ও স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের অসুবিধা হয়।

সরকারি নিয়ম অনুসারে ২০০ গজের মধ্যে বিড়ি ফ্যাক্টরি তো দূরের কথা- কোনো তামাক বা তামাক জাতদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধের কারণে ক্লাস করতে পারছে না।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত