শিরোনাম

দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বাড়লো ২০ টাকা

আজ থেকে বিক্রি হবে ন্যায্যমূল্যে
প্রিন্ট সংস্করণ॥ সঞ্জয় অধিকারী  |  ০১:০৬, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

 

একদিনের ব্যবধানে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২০ টাকা বেড়ে গেছে। গতকাল রোববার ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ভারত পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশে দাম বেড়ে গেলো। গত শুক্রবার ভারতে কাঁচা পণ্যের মূল্য নির্ধারণ সংস্থা ন্যাপিড প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ রপ্তানিতে মূল্য নির্ধারণ করে দেয় ৮৫২ মার্কিন ডলার। অথচ এর একদিন আগে গত বৃহস্পতিবারও ২৫০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলারে ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। শুক্রবার ভারতের ঘোষণার পর শনিবার থেকেই দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এতে করে ক্রেতাদের পাশাপাশি আমদানিকারকরাও বিপাকে পড়েছেন।

জানা গেছে, গতকাল রোববার ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ গত শুক্রবারও দেশি পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানিতে মূল্য বাড়িয়েছে দেশটি। এ কারণে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে একদিনের ব্যবধানে এই দাম বৃদ্ধির বিষয়টি অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান। তিনি বলেন, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা হলো সুযোগসন্ধানী। তারা অতি মুনাফার লোভে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা যেটা করেছে, সেটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। আইন আছে, সরকার উদ্যোগ নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে সরকার কয়জনকেই আর জেলে নিতে পারবে? এ ক্ষেত্রে আমাদের স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। ভোক্তাস্বার্থ রক্ষার্থে পৃথক একটি মন্ত্রণালয় করা যেতে পারে।

হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, এই বন্দর দিয়ে আগে টনপ্রতি পেঁয়াজ ২৫০-৩০০ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি হলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৮৫২ ডলার নির্ধারণ করে দিয়েছে ভারতের কাঁচা পণ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাপিড। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা বলছেন, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ইতোমধ্যে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি হিলি কাস্টমসে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। গত শনিবার দুপুরের পর থেকেই নতুন দামে পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সামপ্রতিক সময়ে ভারতের কিছু এলাকায় বন্যার কারণে পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে সরবরাহ কমায় ভারতের বাজারেও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারত নিজেদের বাজার অস্থির হলেই পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ঠিক করে দেয়। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৭ সালেও তারা রপ্তানি মূল্য বেঁধে দিয়েছিল। তখন দেশে পেঁয়াজের কেজি ১৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। ঢাকার শ্যামবাজারের পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে চলতি বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন কম হয়েছে। তাই শুরু থেকেই আমদানির ওপর নির্ভর করে পেঁয়াজের বাজার সামাল দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে এখন হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দিলো। গত শনিবার থেকেই দেশের পাইকারি বাজারে এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। আর গতকাল রোববার থেকে খুচরা বাজারেও পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে গেছে।

তিনি জানান, গত শুক্রবার শ্যামবাজারে পাইকারিতে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৪৪-৪৫ টাকা ছিলো। কিন্তু ওইদিন ভারত দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিলে, গত শনিবার তা ৬০ টাকায় ওঠে। একইভাবে ৪২-৪৩ টাকা কেজির ভারতীয় পেঁয়াজ উঠেছে ৫৭-৫৮ টাকায়। খুচরা বাজারে তা আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

তার মতে, দেশে প্রতি বছর চাহিদার ৬০-৭০ শতাংশ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। কিন্তু এ বছর তা ৫০ শতাংশের বেশি হয়নি। ফলে আমদানির ওপরই বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। আর বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানির বড় উৎস ভারত। অধিকাংশ পেঁয়াজ সেখান থেকেই আসে। এর বাইরে পাকিস্তান, চীন, মিসর ও মিয়ানমার থেকে কিছু পেঁয়াজ আমদানি হয়। কিন্তু ওই সব দেশের পেঁয়াজের মান ভালো না হওয়ায় বাজারে চাহিদাও তেমন নেই। ঝাঁজ কম ও সাইজে বেশি বড় হওয়ায় ওই সব পেঁয়াজ কিনতে চান না ক্রেতারা। তবে মিয়ানমারের পেঁয়াজ কিছুটা মানসম্মত। তাই মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার মূলত ভারতনির্ভর। এ কারণে তারা দাম বাড়ালে আমাদের দেশেও দাম বেড়ে যায়। তবে বৃদ্ধিটা সাথে সাথে হলেও কমার ক্ষেত্রে তা হয় না। এই চক্র থেকে বের হতে হলে আমাদের পেঁয়াজ আমদানির জন্য বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে।’

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দরের তালিকায় পেঁয়াজকে অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের হিসাবে, একটি মাঝারি পরিবারে মাসে গড়ে পাঁচ কেজির মতো পেঁয়াজ লাগে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন বাড়ছে না। দেশে প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ২৩ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। ভারত থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানি হয় ১১ লাখ ৩৬ হাজার টন। এর আগের অর্থবছরে যা ছিলো ১০ লাখ টন।

আজ থেকে ট্রাক সেলের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু:

পেঁয়াজের বাজার দরের উর্ধগতি রোধ ন্যায্য মূল্যে আজ থেকে ট্রাক সেলের মাধ্যমে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করার করেছে সরকার। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক এসংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্বান্ত নেওয়া হয়েছে ।বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে এ বৈঠকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

পেঁয়াজ আমাদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং ব্যাংকের  সুদের হার হ্রাসের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পত্র প্রেরণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এছাড়া বন্দরে আমদানিকৃত পেঁয়াজের খালাস প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা এবং নির্বিঘ্ন  পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবরও বাণিজ্য মন্ত্রলালয় পত্র প্রেরণ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার নিজেদের বাজার সামাল দিতে পেঁয়াজ রপ্তানির ন্যূনতম মূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয় ভারত। আর এ খবরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা।

ঢাকার বড় বড় বাজারে এখন ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা, দেশি কিং নামের একধরনের পেঁয়াজ ৬৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবারও দেশি পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিলো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত