শিরোনাম

ক্যাসিনোর উপকরণ আমদানিতে অসতর্ক ছিল ৪ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদন  |  ১২:৪২, অক্টোবর ০৬, ২০১৯

ক্যাসিনোর উপকরণ আমদানির এলসি খোলার ক্ষেত্রে বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা যথেষ্ট সতর্ক ছিল না। যে কারণে ক্যাসিনোর নামেই পণ্য আমদানি করতে সক্ষম হয়েছে ক্লাবগুলো।

জুয়া খেলার উপকরণ আমদানির জন্য এলসি খোলার সময় প্রচলিত নিয়ম মানেনি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। একই সঙ্গে আমদানি করা পণ্য ছাড় করার সময় প্রচলিত আইনের প্রয়োগ করেনি কাস্টমস হাউস। বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের খেলার উপকরণের আড়ালে বেআইনিভাবে ক্যাসিনোর সামগ্রী আমদানি করেছে। চারটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসিনো নামেই সরাসরি এর উপকরণ আমদানি করেছে। এগুলো হচ্ছে, পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজ, এ থ্রি এন্টারপ্রাইজ, নিনাদ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও এ এম ইসলাম এন্ড সন্স।

তারা বেসরকারি খাতের সাউথইস্ট ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকে এসব এলসি খুলেছে। এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তারা যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন না। যে কারণে আমদানিকারক ক্যাসিনোর নামেই পণ্য আমদানি করতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে পণ্য দেশে আসার পর কাস্টমস এলসি ও পণ্যের চালান মিলিয়ে ছাড় করে। এ ক্ষেত্রে যেসব এলসিতে ক্যাসিনো খেলা ছিল সেগুলোর পণ্য ছাড় করার কথা নয়। কিন্তু তারপরও তারা ছাড় করেছে। এই ক্ষেত্রে তারা আইনের প্রয়োগ করেনি।

এদিকে সম্প্রতি এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ ভূইয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, কাস্টমস পণ্য খালাসের সময় আগে দেখা হয় আমদানি নীতিতে কী আছে। সেখানে আমদানিনিষিদ্ধ যেসব পণ্য আছে কিনা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন নিষিদ্ধ কোন পণ্য আছে কিনা, এমন পণ্য থাকলে তারা ছাড় করে না। এর বাইরে অন্য পণ্য থাকলে ছাড় করে দেয়। কিন্তু আমদানি নীতিতে সুনির্দিষ্টভাবে ক্যাসিনোর পণ্য আমদানি করা যাবে না এমন কোন কথা বলা নেই। ক্যাসিনো যে দেশে আছে এটাই তো কল্পনার বাইরে ছিল। ফলে কাস্টমসের অজান্তেই এসব পণ্য দেশে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, দেশে সীমিত আকারে কিছু হোটেল ও ক্লাবে মদ-বিয়ার বিক্রি ও আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ জাতীয় পণ্যের আমদানিতে উচ্চ শুল্ক-কর আরোপিত আছে। কিন্তু জুয়ার ব্যাপারটি বৈধ নয়। এখন বিভিন্ন ক্লাবের নামে ক্যাসিনো চালানোর বিষয়টি সত্যি কথা বলতে জানতামই না। এগুলোতে কীভাবে (জুয়া খেলার সামগ্রী) এসেছে সেটা খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা।

এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা বেআইনিভাবে বা মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ক্যাসিনোর উপকর আমদানি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এএসকে/আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত