শিরোনাম
আমানত সুরক্ষা আইনের খসড়া

বিমার কিস্তি খেলাপি হলে আমানত নেয়া বন্ধ

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসিফ শওকত কল্লোল  |  ০২:২২, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

ব্যাংক ও আর্থিকপ্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর আইন হচ্ছে। এর নাম দেয়া হয়েছে আমানত সুরক্ষা আইন। ইতোমধ্যে আইটির খসড়ায় বেশ কয়েক দফা পরিবর্তন আনা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইনের খসড়ায় আরও কিছু সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে— কোনো ব্যাংক বা আর্থিকপ্রতিষ্ঠান পর পর দুটি বিমা প্রিমিয়ামের কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে গ্রাহকদের কাছ থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের আমানত সংগ্রহ বন্ধ করে দিতে পারবে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়নের জন্য সুপারিশ করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক বা আর্থিকপ্রতিষ্ঠানের ব্যবসার লাইসেন্স স্থগিত করে দিতে পারবে। এমন কঠোর বিধান রেখেই চূড়ান্ত হচ্ছে আমানত সুরক্ষা আইন।

সূত্র জানায়, কোনো ব্যাংক বা আর্থিকপ্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেলে ওই প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের কিছুটা হলেও সুরক্ষা দিতে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই আইনে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিকপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সংগ্রহ করা আমানতের বিপরীতে নির্ধারিত হারে প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। এ অর্থে আমানত বিমা তহবিল পরিচালিত হবে।

কোনো ব্যাংক বা আর্থিকপ্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেলে এই তহবিল থেকে তাদের আংশিক ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। নতুন আইনে এক লাখ টাকা আমানত আছে এমন গ্রাহকরাই এই সুরক্ষা পাবেন। এটি আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আইটির ব্যাপারে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়ে খড়সা চূড়ান্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটি জমা দিলেই আইনটিতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়া হবে।

এরপর পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। আমানতকারীদের আস্থা অর্জনের জন্যই ২০০০ সালে আমানত বিমা আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই আইনের আওতায় ব্যাংকগুলোর আমানতের বিপরীতে প্রিমিয়াম নিতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ১৯৮৪ সালে একটি আদেশের মাধ্যমে ব্যাংক আমানত বিমা তহবিল গঠন করে সরকার। ২০১২ সালে আর্থিকপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও এর আওতায় আনা হয়।

এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলেন, আইনটি আরও কঠোর করে প্রয়োগ করা হলে আমানতকারীরা উপকৃত হবে। কেননা বর্তমানে আমানতকারীদের সুরক্ষা দেয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী আইন নেই। ব্যাংকে বা আর্থিকপ্রতিষ্ঠানে গ্রাহকদের আমানত নিয়ে লুটপাট হচ্ছে। এটি যেমন বন্ধ করতে হবে, তেমনি তাদের রাখা আমানতের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

আমানত সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কোনো বিমাকৃত ব্যাংক বা আর্থিকপ্রতিষ্ঠান পর পর দুবার প্রিমিয়াম দিতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানকে শুনানির জন্য তলব করতে পারবে। তাদের আমানত সংগ্রহ বন্ধ করে দিতে পারবে। আমানত বিমা তহবিল পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়ে গঠিত হবে একটি ট্রাস্টি বোর্ড। এ বোর্ড প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়নের সুপারিশ করতে পারবে। একইসঙ্গে তাদের ব্যবসার লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিতে পারবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, স্বাভাবিকভাবে কোনো ব্যাংক বিমার প্রিমিয়াম দিতে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ কেটে নিয়ে তহবিলে জমা দিতে পারবে। বিলম্বিত সময়ের জন্য ব্যাংক রেট অনুযায়ী দণ্ড সুদ আরোপ করতে পারবে।

ব্যাংক ও আর্থিকপ্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহীত প্রিমিয়াম ও অন্যভাবে প্রাপ্ত অর্থ বিনিয়োগ থেকে আয়, দেউলিয়া ব্যাংক ও আর্থিকপ্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত অর্থ এবং অন্য উপায়ে পাওয়া অর্থ দিয়ে আমানত সুরক্ষা তহবিল পরিচালিত হবে। এ তহবিল থেকে অবসায়িত প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের অর্থ আংশিকভাবে পরিশোধ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত