শিরোনাম

ইংরেজির ফলে বেড়েছে পাসের হার

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন   |  ০৮:২৬, জুলাই ১৭, ২০১৯

এ বছর উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।

ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ২৮৬ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

গত বছর যা ছিলো ২৯ হাজার ২৬২ জন। এবার ১৮ হাজার ২৪ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে।

এবারের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের চেয়ে ইংরেজি ও আইসিটিতে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো করেছে।

এছাড়াও অনেক বোর্ডে গণিতে ভালো ফল হয়েছে। অপরদিকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডে ভালো ফলাফল হওয়ায় সারা দেশে পাসের হার ও জিপিএ দুটোই বেড়েছে।

এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১০টি বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন।

গতবার ১০টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ছিলো ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৭ জন। পাস করেন ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ জন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গতকাল বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ হস্তান্তর করেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

এরপর দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার পরীক্ষা হয়েছে ‘সুন্দর’ পরিবেশে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নকল অনেকাংশেই কমেছে।

পরীক্ষা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি, প্রতারণা কিংবা গুজবের সৃষ্টি হয়নি। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ পাসের হারকে ‘যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য ও ভালো’ ফলাফল হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, আমি মনে করি আমাদের শিক্ষার দিকে মনোযোগ দিলে ধীরে ধরে আরও ভালো রেজাল্ট করতে পারবে। সেটা আমার বিশ্বাস। কারণ আমি মনে করি ছেলেমেয়েরা ফেল করবে কেন? আমরা কতগুলো উদ্যোগও নিয়েছি যাতে আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখায় মনোযোগী হয়। যারা এবার পাস করেছে তাদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

আর যারা পাস করতে পারেনি তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মন খারাপ করার কিছু নেই, আবার পরীক্ষা দেবে। এখন তো আরেকটা সুবিধাও আমরা করে দিয়েছি নীতিমালায়। একটা বা দুটো বিষয়ে যদি ফেল করে সেগুলোই আবার দিতে হবে, পুনরায় সব পরীক্ষা আবার দিতে হবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এ সুযোগগুলো সৃষ্টি করে দিয়েছি যাতে আমাদের ছেলেমেয়েরা পাস করে, তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, স্বউদ্যোগে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে, এবং বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করতে পারে।

চলতি বছর ১ এপ্রিল থেকে ২৩ মে দেশের দুই হাজার ৫৬০টি কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা চলে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, দশ শিক্ষা বোর্ডে এবার সব মিলিয়ে পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন।

তাদের মধ্যে পাস করেছে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন। এর মধ্যে এইচএসসিতে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৭১ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১ হাজার ৮০৭ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে এবার পাস করেছে ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে ২ হাজার ২৪৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর কারিগরি ও ভোকেশনাল বোর্ডে পাসের হার এবার ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৩৬ জন। এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

আর ৯০৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া সব শিক্ষার্থীই পাস করেছে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার বিদেশি কেন্দ্রে পাসের হার ৯৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮টি কেন্দ্র থেকে ২৭০ জন পরীক্ষার্থী এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

গত বছরের তুলনায় এবার বিদেশের কেন্দ্রেও পাসের হার বেশি। গত বছর বিদেশের সাতটি কেন্দ্রে পাসের হার ছিল ৯২.২৮।

গত বছর ২৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ২৬৩ জন। বেশ কয়েক বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ফাঁস হলেও এবার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই উচ্চ মাধ্যমিকের সব পরীক্ষা শেষ হয়।

দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী এবারের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পর শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট (http //www.educationboardresults.gov.bd) এবং নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও যে কোনো মোবাইল থেকে এসএমএস করে ফল জানতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ই-মেইলে কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের সফটকপি পাওয়া যাবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ফলের হার্ডকপি সংগ্রহ করা যাবে। বোর্ড থেকে ফলাফলের কপি সরবরাহ করা হবে না।

এক সমীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডের ফলে দেখা গেছে, এবার পাসের হারে এগিয়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা; ৮৮.৬৪ শতাংশ।

এরপরই রয়েছে ব্যবসায়িক শিক্ষা বিভাগ: এই বিভাগ থেকে পাসের হার ৭৬.৯৪ শতাংশ। আর মানবিকে পাসের হার ৭২.৩৫ শতাংশ। বোর্ডে শতভাগ পাস করেছে ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

একজনও পাস করেনি ৩টি কলেজে। বিগত সময়ে কুমিল্লা বোর্ডে ইংরেজি ও আইসিটিতে ফলাফল বিপর্যয় হলেও এবছর ইংরেজিতে পাসের হার ৮৫.৩৩ ও আইসিটিতে ৯৪.২৮ শতাংশ।

গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার, জিপিএ-৫ ও শতভাগ পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে।

গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৫.৪২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯৪৪ জন এবং এ বছর শতভাগ পাস করেছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩০টি, গতবার ছিল ১৪টি। বোর্ডের গত পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে পাসের হার ছিল ৬৫.৪২ শতাংশ, জিপিএ- ৫ পেয়েছিলেন ৯৪৪ জন।

২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৪৯.৫২ শতাংশ, জিপিএ ফাইভ ৬৭৮ জন; ২০১৬ সালে পাসের হার ৬৪.৪৯ শতাংশ; জিপিএ ফাইভ ১৯১২ জন; ২০১৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯.৮০ শতাংশ, জিপিএ ফাইভ ১৪৫২ জন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান আমার সংবাদকে বলেন, বিগত ১০-১৫ বছরে ইংরেজিতে ফেলের হার ছিলো ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। সেটা এখন আস্তে আস্তে কমিয়ে এ বছর ১৫ শতাংশে নেমেছে।

আমরা বেশ কয়েকটি জেলাতে ইংরেজি শিক্ষক ও কলেজ প্রধানদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করেছি। যেখানে কিভাবে শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ানো যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে করে এ বছর ইংরেজিতে ভালো ফল হয়েছে বলে যোগ করেন ড. আসাদুজ্জামান।

এছাড়াও আইসিটি ও গণিত পরীক্ষা ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, এবার প্রশ্নফাঁসের গুজব না থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসিক টেনশন ছাড়াই পরীক্ষা দেয়ার কারণে রেজাল্ট ভালো হয়েছে।

পাসে মেয়েরা, জিপিএ-৫ এ এগিয়ে ছেলেরা
উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ৫৮৬ জন।

গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন।

সেই অনুযায়ী এবার পাসের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৮ হাজার ৩২৪ জন।

এবার পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে। মেয়েদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৭১০ জন।

অন্যদিকে ছেলেদের পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪ হাজার ৫৭৬ জন। অর্থাৎ মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা পাসের হারে পিছিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে।

এগিয়ে কুমিল্লা পিছিয়ে চট্টগ্রাম
এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের আট শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এর মধ্যে সবচেয়ে কম পাস করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থী এবং সবচেয়ে বেশি পাস করেছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা।

আট শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকার অবস্থান পাঁচ নম্বরে। চট্টগ্রাম বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্র ৫৯ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ছাত্রী ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

এর মধ্যে ছাত্র ৭৭ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ছাত্রী ৭৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। পাসের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বোর্ড। এ বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্র ৭২ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং ছাত্রী ৮১ দশমিক ২১ শতাংশ।

এরপর যশোর বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৭২ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৭৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। দিনাজপুর বোর্ডে গড় পাসের হার ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এর মধ্যে ছাত্রদের পাসের হার ৬৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ঢাকা বোর্ডে গড়ে পাসের হার ৭১ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্র ৬৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ছাত্রী ৭৪ শতাংশ।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্র ৬৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং ছাত্রী ৭৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সিলেট বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্র ৬৪ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ছাত্রী ৬৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

ফেল বেশি মানবিকে, ব্যবসায় শিক্ষায় সর্বনিম্ন এ-প্লাস
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মানবিক, ইসলাম শিক্ষা ও সঙ্গীত বিভাগে পাসের হার ৬৫ দশমিক শূন্য ৯ ভাগ, যা অন্য দুই বিভাগের চেয়ে কম।

এইচএসসির ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের গ্রুপভিত্তিক তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৮৫ দশমিক ৫৭ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ১৯২ জন।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩ হাজার ৯৯০টি জিপিএ-৫ সহ পাস করেছে ৭৩ দশমিক ৫১ ভাগ। তবে সবচেয়ে কম পাস করেছে মানবিক, ইসলাম শিক্ষা ও সঙ্গীত বিভাগে।

এই বিভাগে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ২৯৪ জনের মধ্যে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪২১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৬২৫ জন শিক্ষার্থী।

মানবিক বিভাগে কম পাসের কারণেই গড় পাসের হার কমে গেছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।

জিপিএ-৫ ও পাসের হার দুটোই কমেছে ভিকারুননিসায়
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩২ ভাগ, যা গতবছর ছিল ৯৯ দশমিক ৭৮ ভাগ। এছাড়া এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৭৫ জন, যা গতবার ৯৫৭ জন।

ফলে এ বছর জিপিএ-৫ এবং পাসের হার দুটিই কমেছে ভিকারুননিসায়। গতকাল বুধবার দুপুরে নিউ বেইলি রোড ক্যাম্পাসে চলতি বছরের এইচএসসির ফলাফলের তথ্য জানান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগম।

তিনি বলেন, এবার আমাদের মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১,৯২৫ জন, যার মধ্যে পাস করেছে ১৯১২ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১,৩৮৩ জন, মানবিক থেকে ২৫৮, ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ২৮৪ জন অংশ নেয়। এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯৭ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ১৯, ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ৬৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ফলাফল কিছু প্লাস-মাইনাস হয়। আমি সামগ্রিক দিক থেকে এটাকে সন্তোষজনক রেজাল্ট বলবো।

এ রেজাল্টকে আমি কখনো প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা হিসেবে মনে করি না। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বা ভালো করতে পারেনি। ফলে পাসের হার একটু কমেছে।

প্রসঙ্গত, গত ১ এপ্রিল চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ মে। এরপর ১২ মে থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২১ মে শেষ হয়। এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৫।

এর মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০। এছাড়া মাদ্রাসার আলিমে ৮৮ হাজার ৪৫১ এবং কারিগরিতে এইচএসসি (বিএম) ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬৪ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

যেভাবে এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করতে হবে
এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে যেসব শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হবেন না তারা ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করতে পারবেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে আগামী ১৮ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে।

ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর-চওঘ) দেয়া হবে।

আবেদনে সম্মত থাকলে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে ণঊঝ লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।

প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য দেড়শ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যে সব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে সে সব বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ৩০০ টাকা ফি কাটা হবে।

একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।

দেশসেরা ১২ শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশব্যাপী ‘সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ ২০১৯’ এর নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ের ১২ জন সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল বুধবার সকালে গণভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেকের হাতে সনদপত্র, মেডেল, ক্রেস্ট ও এক লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের সেরা মেধাবীদের হাতে সেরা পুরস্কার তুলে দিতে পেরে আমি অত্যন্ত খুশি। এটা আসলেই একটা আনন্দের বিষয়।

বাংলাদেশকে একটি সম্মানজনক স্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে আমরা একটি শিক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেছি।

যে নীতিমালায় সৃজনশীলতা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, শিক্ষা হচ্ছে এক ধরনের আলো।

এ আলো থেকে যেন কেউ বঞ্চিত না হয় সে জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন। এটাও কিন্তু হয়েছে গবেষণার ফসল হিসেবে।

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা গণিত ও বিজ্ঞানে ভয় পায়, এ কারণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছি। তাছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানাগারকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিয়ে এক সময় অনেক অপপ্রচার হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিজয়ী জাতি। বিশ্ব দরবারে সব সময় মাথা উঁচু করে চলবো। এখন বাংলাদেশ মানে বিশ্বের বিস্ময়। আজ তোমরা যারা পুরস্কার পেলে তোমাদেরকেই এ দেশকে আরও উন্নত এবং সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। এ দায়িত্ব তোমাদের ওপর।

শিক্ষা সচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) মো. সোহরাব হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন আর্শিয়া নওয়ার।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানসহ সরকারি ও বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ।

প্রতিযোগিতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অসাধারণ মেধা সম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের খুঁজে বের করা। তাদেরকে ভবিষ্যতে জাতীয় মেধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া।

প্রতিযোগিতায় পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন— ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে প্রথম হয়েছেন মানিকগঞ্জের এস কে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইশরাত জাহান জয়নব (৮ম শ্রেণি), দ্বিতীয় হয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা স্কুলের অর্নব দাস (৯ম শ্রেণি) ও তৃতীয় হয়েছেন খুলনা পাবলিক স্কুলের আসিফ আদনান অমি (একাদশ শ্রেণি)।

দৈনন্দিন বিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের দিদারুল ইসলাম সিফাত (৮ম শ্রেণি), দ্বিতীয় মতিঝিল সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের মো. সানজাদ হোসেন (১০ম শ্রেণি)ও তৃতীয় হয়েছেন সরকারি হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ, চট্টগ্রামের আগাস্ট দীপ নিলয় (একাদশ শ্রেণি)।

গণিত ও কম্পিউটার বিষয়ে প্রথম হয়েছেন ডক্টর খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তাজরীয়ান তাহরীর (৮ম শ্রেণি), দ্বিতীয় খুলনা জেলা স্কুলের প্রান্তিক কুমার মণ্ডল (১০ শ্রেণি) ও তৃতীয় হয়েছেন ঢাকার নটরডেম কলেজের অনিকা সাহা (একাদশ শ্রেণি)।

বাংলাদেশ স্ট্যাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে প্রথম হয়েছেন সিলেটের ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের আরশিয়া নাওয়ার (৮ম শ্রেণি), দ্বিতীয় সিলেট সরকারি পাইলট স্কুলের প্রতীক তীর্থ (১০ম শ্রেণি) ও তৃতীয় হয়েছেন চট্টগ্রাম কলেজের জিনান (একাদশ শ্রেণি)।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। সারা দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। প্রতিবছর মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

তিনটি গ্রুপ ও চারটি বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা ১২ জন জেলাপর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি জেলা থেকে তিনটি গ্রুপ ও চারটি বিষয়ে নির্বাচিত সেরা ১২ জন বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

প্রতিটি বিভাগ থেকে একইভাবে ১২ জন করে ও ঢাকা মহানগরসহ মোট ১০৮ জন প্রতিযোগী জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত