শিরোনাম

টাকার বিনিময়ে ইবি ছাত্রলীগ সম্পাদক হওয়ার অডিও ফাঁস

এম এইচ কবীর, ইবি  |  ১৫:৩০, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নেতা হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

পাবনা বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে শাখা ছাত্রলীগের নেতা বানানোর বিষয়ে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সাথে কথা বলার সময় এই কথা স্বীকার করেছেন রাকিব।

এ কথোপকথনের ৭ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের একটি ফোন রেকর্ড ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভাইরাল হয়ে পরেছে।

ফাঁস হওয়া ফোন আলাপটি হুবহু তুলে ধরা হলো। অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওই ছেলেটার বাড়ি টাঙ্গাইল। রাকিবঃ নতুন এই কমিটিতে পোস্ট কি হইছে? অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ কি সম্পাদক যেন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য। সেক্রেটারীর সাথে ভালো সম্পর্ক, ভিসির সাথেও ভাল সম্পর্ক, ঠিক আছে? তোমার মতই ভিসির সাথে ভাল সম্পর্ক। আর ওই ছেলের হচ্ছে টাকা পয়সার কোন অভাব নাই। সেই পরিবারের ছেলে নেতা হবে, কী পলিসি খাটাবো?

রাকিবঃ ঢাকা যায়ে খাটতে হয়। খাটতে বলতে কী, বহুত কাঠ খড়ি আছে। তবে এখন আমার যে হিসাব নিকাশ রাব্বানী ভাইয়ের সাথে আমার যে সম্পর্ক, এ আঞ্চলিক যে বিষয়টা আমি যদি ভাইরে বলি ভাই আমার কথা শুনবে। ভাই আমাকে অলরেডি বলেছে।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ বিষয়টা হচ্ছে আমি বারবারই যে কথাটা বলেছি রাব্বানীর তোমার লবিংটা মেইনটেইন করতেই হবে।

রাকিবঃ আমি আপনারে বলি ওরে নেতা হতে হলে ভিসি স্যার যদি বলে তাহলে ও নেতা হতে পারবে। আর ভিসি স্যারের সাথে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। ভিসি স্যার রে আমি এখন পযর্ন্ত কারো নাম বলিনাই।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ আর কথা হচ্ছে তোমার মেইনলি যে জিনিসটা দেখতে চাই। বাঁধন যেহেতু লোকাল।

রাকিবঃ বাঁধন যা বলবে নে তাই শুনব নে।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ ওনার সাথে ইয়ে সব তোমার ঠিকঠাক রাখা দরকার। বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় দেখবে। এখন ধরও তোমার আমার দুইটা কাজ হচ্ছে খুব জরুরী। এখন আমার যে কারণে হয় ইয়েস অর নো নেগেটিভ ওদের তিনচার দিনের ভিতরে তোমারও জোর আছে একটা, আমারও জোর আছে।

রাকিবঃ হুমম। অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ ঠিক আছে? সেই ব্যাপারটা ওদের সাথে সেভাবে কথা বলা যায়। ওরা খুব নাছোড়। যে ওর কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমরা খাব। কারণ সরাসরি হচ্ছে রাব্বানী লাইনে আসুক ওই লাইনে গেলেই তোমার ধর, তোমার ধর এর ভিতরে যে ইনভেস্টম্যান্ট সেটাও কিন্তু তোমার থেকে যাবে।

রাকিবঃ এই ইনভেস্টম্যান্টটা বাদ দেন।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ যোগাযোগটোগ আছে। মুটামুটি না তো মনে কর হট সম্পর্ক হতে হবে। এখন মূলত ও যে জায়গাতে, মেইনলি বড়লোকের ছেলে তো! ঠিক আছে?

রাকিবঃ হুমমম।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ ও এদিকে রাজনীতির সাথে হচ্ছে কমিটিতে টমিটিতে আছে বাদবাকি টাকা পয়সা দিয়ে হচ্ছে ও বের হয়ে আসবে। যে কারণে এত ইয়ে করা। আমার কাছে বলছে টাকা পয়সার কোনো সমস্যা নাই। ঠিক আছে?

রাকিবঃ আচ্ছা! আপনে ওরে আমারে একটু ফোন দিতে বলেন। আমার নাম্বারটা দিয়ে একটু ফোন দিতে কন। আমি ওর সাথে একটু ডিরেক্ট কথা বলি।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ ও আচ্ছা.. আর এমনি আমার কাছে একটু প্রাথমিক ধারণা চাইছে। ঠিক আছে? আমার কাছে নরমালি জিজ্ঞেস করছে হচ্ছে ফুফাতো ভাইয়ের মাধমে। যে যে হচ্ছে টাকা পয়সা? আমি বললাম যে টাকা পয়সা নিয়ে কোনো সমস্যা নাই। টাকা পয়সার একটা ধারণা দিতে বলছে। কাজ হতে হবে, কাজ হতে হবে।

রাকিবঃ হুমম, কাজ হতে হবে।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ তোমার ইয়ে সম্পর্কে তুমি যেভাবে বলছিলে আরকি, বিভিন্নভাবে কমিটি ভাঙ্গা তারপর গড়া, তারপর অন্যান্য ঝামেলা, প্রিন্ট ট্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় তোমারতো একটা বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে গেছে।

রাকিবঃ হুমম, হিউজ, হিউজ।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ সেই ফিগার তো আমি জানি, তা প্রায় মনে হয় চল্লিশের কাছে হবে।

রাকিবঃ হুম।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ এসব নিয়ে ওর হচ্ছে কোনো আপত্তি নাই। ওর কথা হচ্ছে যে কোনোভাবে হতে হবে। এখন কোন লাইনে হবে সেটা বড় কথা না, এখন সেটা করবা তুমি।

রাকিবঃ হুম।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ এখন ধরো সেক্ষেত্রে তোমারো, তুমি যেহেতু খরচ পত্র করে আসছো, আমি চাই তোমার এই খরচটা পুরণ হোক। ঠিক আছে?

রাকিবঃ না ভাই শোনেন কোনো ছেলেরে ইয়ে করতে গেলে। এখন আমার যা খরচ হইছে এটা কোনো ব্যপার না। ওইটা ছয় মাস গেলে সব ডাবল হয়ে যাবে সমস্যা নাই। কিন্তু ওরে হচ্ছে ফোন দিতে কন আমি গিয়ে হচ্ছে এক জায়গায় দেখা করে আসবোনি।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ শোভন বা রাব্বানী দুইটা লাইনই তো তুমি কনফার্ম করতে পারবা?

রাকিবঃ হ্যাঁ, হ্যাঁ কনফার্ম করতে হবে।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ না সেটা না বলছি যে শোভন বা রাব্বানী দুইটা লাইনই তো তুমি কনফার্ম করতে পারবা?

রাকিব: হ্যাঁ, হ্যাঁ পারব, দুইটাই পারবো।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ সে জন্যই বলছি যে টাকার লাইনে ওর টাকার কোরো সমস্যা নাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমার সাথে কথা বলার কথা বলতেছি। ঠিক আছে?

রাকিবঃ হুমম।

অজ্ঞাত ব্যক্তিঃ আর সেটা যদি তুমি মনে করো সেক্ষেত্রে তুমি বলবা যে টাকার লাইনে হলে এভাবে কিভাবে কি করতে হয় সেটা তোমার দায়িত্ব তুমি শোভনরে দিয়ে না রাব্বানীরে দিয়ে করবা, ওর মেইনলি সর্বশেষ যে কথা আমারে বলেছে ঠিক আছে? সে কথাটা এরকম ওর মুটামুটি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা আছে, রাজনৈতিক পরিবার, ও নেতা হবে টাকা কোনো ব্যপার না। কোন ভাবে কি করবা, রাব্বানীর কাছে গোপন থাকবে কি করবা? এইটা পরে হবে। সেক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে আমি তোমাকে বলতেছি।

রাকিবঃ ও যদি টাকা দিয়ে কমিটি করতে না চায়, তাহলে আমি অরেক জায়গায় কিছু করব এগুলো বুঝায় দেন।

অন্যদিকে আসমিহা রহমান আসমি নামে অজ্ঞাতনামা ফেসবুক আইডি থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের কণ্ঠ নকল করে নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও প্রচার করায় তিনি গত রোববার কুষ্টিয়া মডেল থানায় জেনারেল ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নং ৪২৫।

সাধারণ সম্পাদক রাকিব বলেন, এ কথোপকথন আমার নয়। কেউ উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার ভয়েস এডিট করেছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, অডিওটি আমিও শুনেছি। এই কথোপকথন সম্পর্কে আমার কোনো ধারনা নেই। রাকিবকে এর জন্য দলীয়ভাবে কারণ দর্শাতে নোটিশ করা হবে।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত