শিরোনাম

ভর্তিচ্ছুদের সহায়তা করবে ছাত্রলীগসহ ঢাবির বিভিন্ন সংগঠন

শিক্ষা প্রতিবেদক  |  ২০:০৬, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিযুদ্ধ শুরু হচ্ছে আজ শুক্রবার। ‘গ’ ইউনিট দিয়েই শুরু হচ্ছে এবারের ভর্তিযুদ্ধ। এতে অংশ নিতে সারাদেশ থেকে ঢাকা আসছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

ভর্তিচ্ছু এসব শিক্ষার্থীদের সহায়তা করবে ছাত্রলীগ, ডাকসু, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বতন্ত্রজোটসহ নানা সংগঠন। ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছে একাধিক সংগঠন। এরমধ্যে ঢাবি ছাত্রলীগ দশটি সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরা প্রতিবছরই আবাসন সঙ্কটসহ নানা সমস্যায় পড়েন। এছাড়া কেন্দ্র চিনে পরীক্ষা দিতেও সমস্যায় ভুগতে হয় ভর্তিচ্ছুদের। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানাভাবে সহায়তায় এগিয়ে আসে। তারই ধারবাহিকতায় এবার ১০টি সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবে ঢাবি ছাত্রলীগ।

বৃহস্পতিবার ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তা সংক্রান্ত কার্যক্রম তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সঞ্চালনা করেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে হল ছাত্রলীগ পরীক্ষার পূর্ব রাতে থাকার সুব্যবস্থা করবে, শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য জয় বাংলা বাইক সার্ভিস ব্যবস্থা, সুপেয় খাবার পানির সরবরাহ, কলম ও আনুষঙ্গিক শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত অথচ পরীক্ষা কেন্দ্রে নেওয়ার অনুপযোগী জিনিসপত্র রাখার ব্যবস্থা, বিভিন্ন পয়েন্টে স্থায়ী তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবারহ, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য হুইল চেয়ার ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবরাহ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আগত অভিবাবকদের বিশ্রামের জন্য চেয়ার, হাতপাখা ও খাবার পানির ব্যবস্থা, হটলাইনের মাধ্যমে যেকোনো প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সেবা প্রদানের ব্যবস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ভর্তিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যেন অসদুপায় অবলম্বন না করে সেজন্য প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান করছি।

তিনি আরও বলেন, যদি কেউ জালিয়াতির আশ্রয় নেয় তাহলে ছাত্রলীগ তার দাঁত ভাঙা জবাব দেবে। দুর্নীতি এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরনের হেনস্তার স্বীকার না হয় সেজন্য নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান সনজিত চন্দ্র দাস।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে 'গ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিতে ঢাকা আসা শিক্ষার্থীদের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে স্বতন্ত্র জোট। ইতিমধ্যে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ভর্তিচ্ছুদেও শুভকামনা জানানো হচ্ছে। সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষার্থীদেও বিভিন্ন সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

এগুলো হলো- পরীক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখার জন্য ক্যাম্পাসের চারটি লোকেশনে বুথ স্থাপন, বুথগুলোর অবস্থান হবে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে, মোকাররম ভবন এর প্রবেশপথে ও কার্জন হলের সামনে। এখানে টোকেন সংগ্রহ করে পরীক্ষার সময়ে পরীক্ষার্থীরা তাদের ব্যাক্তিগত জিনিসপত্র রাখতে পারবে।

পরীক্ষার্থীদের সহায়তা করতে পরীক্ষার ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে একটিভ হটলাইন। এসব নম্বরে ফোন করে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ কেন্দ্র খুঁজে বের করতে সাহায্য করতে স্বতন্ত্র জোটের স্বেচ্ছাসেবীদের সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান।

এছাড়া স্বতন্ত্র জোট-আমার ডাকসু আমাদের ডাকসু ফেসবুক পেজে প্রতি ইউনিটের পরীক্ষার আগে একটি করে দিকনির্দেশনামূলক ফেসবুক লাইভ করা হবে। ইতোমধ্যে সি ইউনিটের পরীক্ষার জন্য একটি লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে।

জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বতন্ত্র জোট সবসময় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কাজ করতে বদ্ধপরিকর। পরবর্তীতে অন্যান্য ইউনিটের পরীক্ষার সময়েও স্বতন্ত্র জোট এসব উদ্যোগ বজায় রাখবে। পরীক্ষার্থীদের যে কোন প্রয়োজনে স্বতন্ত্র জোটের হটলাইনে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সহায়তা দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বিভিন্ন পয়েন্টে টিমের সদস্যরা দাঁড়িয়ে থাকবে, পরীক্ষার্থীদের পথ চিনিয়ে দিবে, কারো কোনো সমস্যা হলে সমাধান করবে, প্রয়োজনে নিজে থেকেই পরীক্ষার্থীকে হলে পৌঁছিয়ে দিবে। এই টিমে কাজ করবে ১৫০ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কাজ করবে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন জানান, ভর্তিচ্ছুদেও সার্বিক সহযোগিতার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আবাসন সুবিধা, পরীক্ষার হল চিনিয়ে দেওয়া, ভর্তিচ্ছুর ব্যবহৃত জিনিসপত্র সংরক্ষ করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ যাবতীয় সহযোগিতা করা হবে।

এই সংগঠনের সদস্যরা একরোঙা টি-শার্ট পড়ে থাকবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া বামজোট, ছাত্রদল, বিভিন্ন জেলা সংগঠনসহ অঞ্চলভিত্তিক ছোটছোট সংগঠনগুলোও ভর্তিচ্ছুদের সহায়তা করবে।

আরএম/আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত