শিরোনাম

‘দল-টল বুঝি না, ওদের বিচার হবে‍ই’

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৮:২০, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে যারা পিটিয়ে অমানবিকভাবে হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দল-টল বুঝি না। অপরাধের বিচার হবেই। তরকমের উচ্চ শাস্তি আছে সেটা দেওয়া হবে। কোন সন্দেহ নেই।

বুধবার (০৯ অক্টোবর) গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবরার হত্যা প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৪ সাধারণ অধিবেশেন অংশগ্রহণ ও ভারত সফরের অভিজ্ঞতা দেশবাসিকে জানাতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

রোববার (০৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ডেকে নিয়ে যায় হলের কিছু ছাত্রলীগ নেতা। শিবির সন্দেহে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের এক পর্যায়ে গভীর রাতে হলেই তার মৃত্যু হয়।

দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘণ্টা আবরারের ওপর কীভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে, ছাত্রলীগ কর্মীরা মাতাল অবস্থায়ী কীভাবে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে আবরারকে পিটিয়েছে, সেই বিবরণ ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এ হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ১১ জনকে এরই মধ্যে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে, তা কখনোই মেনে নেবেন না। ঘটনা জানার পর ছাত্রলীগকে নির্দেশ দিয়েছি জড়িতদের বহিষ্কার করতে।

এখানে আমি বিবেচনা করব না কিসের ছাত্রলীগ। অপরাধী অপরাধীই। অন্যায় করেছে, সে অন্যায়কারী। তার বিচার হবে। কারও দাবি-টাবির অপেক্ষায় থাকি না। আগেই আমি নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। গ্রেপ্তার হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা খুব সকাল বেলা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম আলামত সংগ্রহ করার জন্য। সাথে সাথে এটাও বলেছিলাম যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে। তারা সেখানে পৌঁছে যায়। আলামত সংগ্রহ করে এবং সিসিটিভি ফুটেজগুলো দীর্ঘসময় ধরে সংগ্রহ করে।

যখন পুলিশ সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ হার্ডডিস্কে নিয়ে আসছে তখন তাদেরকে ঘেরাও করা হলো। তাদেরকে ফুটেজ নিয়ে আসতে দেয়া হবে না। আইজিপি যোগাযোগ করল, বলল, আমাদের লোকদের আটকে রেখে দিয়েছে। আলামত নিয়ে আসতে দিচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুটেজগুলো আনতে দেবে না কেন? তারা বলছে, ফুটেজগুলো পুলিশ নষ্ট করবে। পুলিশ গেছে আলামত সংগ্রহ করতে। ডেডবডির যাতে পোস্টমর্টেম হয়, সে ব্যবস্থা করা হল। ছাত্ররা নামার আগেই সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া। কোন রুম, কোথায়, কারা ছিলো যেটাকে পারো সবকটাকে ধরে অ্যারেস্ট করো। যে কটাকে হাতে পেয়েছি সবগুলোকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র ২১ বছরের ছেলে। তাকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কী দুঃখজনক। তার বাইরে কোন ইনজুরি নেই, সব ইনজুরি ভেতরে।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত