শিরোনাম

আবরারকে হত্যার আগে-পরে মেসেঞ্জারে খুনিদের কথোপকথন

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ২২:৫৪, অক্টোবর ১০, ২০১৯

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের নিয়ে সারাদেশে চলছে তীব্র সমালোচনা। ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বাবা বরকতউল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন। এখন পর্যন্ত এদের মধ্যে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আবরার ফাহাদকে মারধর করে হল ছাড়া করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। আবরার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া বুয়েট শাখার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ফেসবুক মেসেঞ্জারে গোপন কথোপকথনে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ছাত্রলীগের এই নেতারা মেসেঞ্জারে গ্রুপ খুলে নিজেদের মধ্যে কথা বলতেন। আবরার নিহত হওয়ার আগে-পরে তাঁরা সেখানে কথা বলেছেন।

আবরার হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতাদের আলাপের এই বিবরণ থেকে তাঁদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আবরার ফাহাদকে হত্যা করার আগে-পরে আসামিদের (শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগ বা এসবিএইচএসএল) ফেসবুক মেসেঞ্জারে কী কথোপকথন হয়েছিল তা হুবহু তুলে ধরা হলো—

বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবীন (গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে আছেন) গত শনিবার দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটে এই গ্রুপে লেখেন, ‘১৭-র আবরার ফাহাদ। মেরে হল থেকে বের করে দিবি দ্রুত। এর আগেও বলেছিলাম। তোদের তো দেখি কোনো বিকার নেই। শিবির চেক দিতে বলেছিলাম।’

মেহেদী হাসান এই কথা লেখার পর মনিরুজ্জামান (এই মামলায় গ্রেপ্তার) লেখেন, ‘ওকে ভাই।’

তখন মেহেদী আবার লেখেন, ‘দুই দিন টাইম দিলাম।’

মনিরুজ্জামান আবার লেখেন, ‘ওকে ভাই।’

এরপর মেহেদী মেসেঞ্জারে মনিরুজ্জামানকে ১৬ তম ব্যাচের মিজানের (এই মামলায় গ্রেপ্তার ও আবরারের রুমমেট) সঙ্গে পরামর্শ করতে বলেন।

মেহেদী লেখেন, ‘দরকারে ১৬ ব্যাচের মিজানের সাথে কথা বলিস। ও আরও কিছু ইনফরমেশন দেবে শিবির ইনভলভমেন্টের বিষয়ে।’

এর পরের দিন রোববার রাত ৭টা ৫২ মিনিটে মনিরুজ্জামান মনির মেসেঞ্জারে ওই গ্রুপে লেখেন, ‘নিচে নাম সবাই।’

এরপর শাহীন (পুরো পরিচয় জানা যায়নি) লেখেন, ‘ওকে ভাই।’
শওকত (পুরো পরিচয় জানা যায়নি) লেখেন, ‘ওকে ভাই।’

মেসেঞ্জারে আবু নওশাদ সাকিব (পুরো পরিচয় জানা যায়নি) নামের বুয়েট ছাত্র লেখেন, ‘আবরার ফাহাদ কী হলে আছে?’
জবাবে শামসুল (এই মামলায় গ্রেপ্তার) লেখেন, ‘হ ভাই। ২০১১ তে’। তখন নওশাদ লেখেন, ‘২০১১ তে আছে।’

মেসেঞ্জার গ্রুপে রাত ১টা ২৬ মিনিটে একজন (নাম পড়া যায়নি) লেখেন, ‘আবরার ফাহাদকে ধরছিলি তোরা?’

জবাবে ইফতি মোশাররফ (আবরারকে হত্যা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন) ফেসবুক মেসেঞ্জারে লেখেন, ‘হ।’

এরপর একজন (নাম পড়া যায়নি) লেখেন, ‘বের করসস।’

জবাবে মোশাররফ লেখেন, ‘কী? হল থেকে নাকি স্বীকারোক্তি?’

একজন (নাম পড়া যায়নি) লেখেন, ‘স্বীকার করলে তো বের করে দেওয়া উচিত।’

জবাবে ইফতি মোশাররফ লেখেন, আবরার ফাহাদ মরে যাচ্ছে।

ইফতি লেখেন, ‘মরে যাচ্ছে। মাইর বেশি হয়ে গেছে।’

আবরার ফাহাদকে যে কক্ষে (২০১১) ফেলে নির্যাতন করে হত্যা করা হয় সেই কক্ষের একজন হলেন বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা ইফতি মোশাররফ।

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জেরে ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত