শিরোনাম

দেশের কয়েকটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা

আমার সংবাদ ডেস্ক   |  ০৮:২০, জুন ২৪, ২০১৯

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ঘটে গেল স্মরণকালের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। বরমচাল সেতু ভেঙে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেসের ৬ টি বগি লাইনচুত হয়ে যায়। একটি বগি পড়ে খালে। এ ঘটনায় সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ৫জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা আড়াইশ ছাড়িয়েছে।

প্রায় প্রতিবছরই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে থাকে ট্রেন। এর আগেও বেশ কয়েকটি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে দেশে। সেগুলোর কয়েকটি উল্লেখ করা হল-

হিলির ট্রেন দুর্ঘটনা

১৯৯৫ সালের ১৩ জানুয়ারি হিলি রেল স্টেশনে ঘটেছিল ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। সেদিন দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মারা যান ২৭ জন। দুর্ঘটনার পর পুঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছেন অনেকে।

সেদিন রাত সোয়া ৯ টায় গোয়ালন্দ থেকে পার্বতীপুরগামী ৫১১ নং লোকাল ট্রেনটি হিলি ১ নম্বর রেল লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যানের দায়িত্বহীনতার কারণে সৈয়দপুর থেকে খুলনাগামী ৭৪৮ নং আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি একই লাইনে প্রবেশ করলে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বিকট শব্দে লোকাল ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ দু’টি বগি দুমড়ে মুচড়ে যায়। হতাহত হয় শতাধিক ব্যক্তি।

টঙ্গীর রেল দুর্ঘটনা

২০১৮ সালে টঙ্গীতে এক লাইন থেকে অন্য লাইনে যাওয়ার সময় মাঝপথে পয়েন্টস বদলে যাওয়ায় ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ভয়ানক দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ট্রেনের ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৫ জন এবং আহত হয় অর্ধশতাধিক।

জানা যায়, একটি ডেমু ট্রেন ঢাকা থেকে গাজীপুরের দিকে যাচ্ছিল। স্টেশন মাস্টার ডেমু ট্রেনটি পাস করিয়ে দিতে হঠাৎ ডাউন লাইনের পয়েন্টার চেইঞ্জ করে দেয়। কিন্তু কমিউটার ট্রেনের পেছনের তিনটি বগি তখনও পার হতে পারেনি। তার মধ্যে একটি বগি দুই লাইনের মাঝখানে আটকে কাত হয়ে যায়।

ইঞ্জিনের গতির কারণে ওই অবস্থায় এক লাইনে মাথা আর আরেক লাইনে লেজ নিয়ে ট্রেনটি ছেচড়ে আনুমানিক দেড়শ ফুট এগিয়ে যায়।

নরসিংদীর ট্রেন দুর্ঘটনা

২০১৬ সালে নরসিংদীর আরশীনগর এলাকায় ভুল সিগন্যালের কারণে লাইনচ্যুত হয় তিতাস কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন। ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছিলো। এই দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও অন্তত ১০ আহত হন। দুর্ঘটনার জন্য প্রাথমিকভাবে ভুল সিগনাল চিহ্নিত করা হয় এবং নরসিংদীর স্টেশন মাস্টার মো.শাজাহান মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে ২০১০ সালে নরসিংদীতেই বড় দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামগামী আন্তনগর ‘মহানগর গোধূলি’ ও ঢাকাগামী মেইল ‘চট্টলা’ ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় দুটি ট্রেনের ইঞ্জিন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। চট্টলা ট্রেনের একটি বগি মহানগর ট্রেনের ইঞ্জিনের ওপর উঠে যায়। ওই দুর্ঘটনায় চালকসহ নিহত হয় মোট ১২ জন।

রেলসূত্র জানায়, সারা দেশে ২ হাজার ৮৩৫ কিলোমিটার রেলপথে লেভেল ক্রসিং আছে ২ হাজার ৫৪১টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৪১৩টি রেলওয়ের অনুমোদিত। বাকি ১ হাজার ১২৮টি ক্রসিং অনুমোদনহীন, যেগুলোয় নেই কোন প্রতিবন্ধক। ফলে অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে প্রায়ই ট্রেনের সংঘর্ষ হয়ে থাকে।

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত