শিরোনাম

বৃদ্ধর গোপনাঙ্গে মালিশ না করায়...

আমার সংবাদ ডেস্ক   |  ০৯:১৪, জুলাই ২২, ২০১৯

সবাই আমাকে মনে করে আমি খুব শক্ত নারী। কিন্তু মানুষ জানে না ভেতরে ভেতরে আমি ভেঙে খান খান হয়ে যাচ্ছি।

আমি গোপনে অশ্রু ফেলি, কিন্তু কাউকে আমি আমার কান্না দেখাতে চাই না। কথাগুলো বললেন সুনারশি। তার বাড়ি ইন্দোনেশিয়া।

১৫ বছর আগে সুনারশির বয়স তখন ১৭। খুব গরিব ঘরের মেয়ে তিনি। স্কুলের ফি দেয়ার মত কোন টাকা না থাকায় এক সময় স্কুলের গন্ডি আর পেরুতে পারলেন না। সেই সময় তার চিন্তা এলো বিদেশে যাওয়ার।

অভিবাসী শ্রমিকদের নানা সাফল্যের কথা শুনে তিনিও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই কাজ করবেন। তাই চলে গেলেন একটি প্রশিক্ষণ কোম্পানিতে। সেখানে গিয়ে গৃহকর্মের প্রশিক্ষণ নিলেন। সংগ্রহ করলেন পাসপোর্টও৷

একদিন ঐ কোম্পানি জানালো এক আরব তার বাসার কাজের জন্য এমন একজনকে খুঁজছেন যে হবে একজন কুমারী, বাদামী বর্ণের গায়ের রং, লম্বা।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সুনারশি বললেন, ‘আমি অন্য আরও অনেকের সঙ্গে এই চাকুরির জন্য তালিকাভুক্ত হলাম।

তারপর আমাদের নেয়া হলো ইন্টারভ্যু। একশ মেয়ের মধ্যে আমাকে পছন্দ করা হলো।

আমার বন্ধুরা আমার নির্বাচিত হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হলো! নির্বাচিত হওয়ার দুই সপ্তাহ পর আমাকে এক আরব নিয়ে গেলেন, তার বাড়িতে, সৌদি আরবে৷

বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হয়ে যৌনপল্লীতে হাজির হন মেয়েরা।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের অতিদরিদ্র্য পরিবারের সদস্যরা কখনো কখনো অর্থের লোভে মেয়েদের বিক্রি করে দেন বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা।

এছাড়া ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে কিংবা বিদেশ যাওয়ার লোভ দেখিয়েও মেয়েদের যৌনপল্লীতে আনা হয়।

এখান থেকেই শুরু হলো দুঃস্বপ্নের। আমাকে যে ব্যক্তি তার বাড়িতে নিয়ে গেলেন, সে আমার আসল নিয়োগকর্তা নয়। আসল নিয়োগকর্তা তার পক্ষাঘাতগ্রন্থ বাবা।

তার শরীরের নিম্নাংশ অবশ। সেই বৃদ্ধ আমাকে বলল ভাইব্রেটরের সাহায্যে তার পুরুষাঙ্গে মালিশ করতে। আমি বললাম, না। আমি কখনই এসব কাজ করতে পারবো না।

ক্ষেপে গেলো ঐ ব্যক্তি। নানা ভয়ভীতি দেখালো। তাকে ঐ বাড়িতেই বন্দি করে রাখা হলো।

কেবল ঐ ব্যক্তিই নয়, তার নয় পুত্রও পালাক্রমে তাকে দিয়ে মালিশ করাতো। করতো নানা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এর পাশাপাশি তাকে রান্নাও করতে হতো।

একদিন সুযোগ পাওয়া গেলো সেই বাড়ি থেকে পালানোর৷ ঘরের দরজার তালা লাগানো ছিল না।

বাড়ির পিছনে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করতেই ধরা পড়ে গেলো সে। আসলে এটা ছিল একটি ফাঁদ। তাকে এবার বিক্রি করে দেয়া হলো ১৩০০ ডলারে।

‘আমি এবার কুমিরের মুখ থেকে পড়ে গেলাম সিংহের মুখের সামনে। নতুন এই ব্যক্তি আসলে একজন দালাল। যখন কোন খদ্দেরের মেয়ে প্রয়োজন হতো আমাকে পাঠিয়ে দেয়া হতো।

আমি হলাম এক যৌনদাসী। এক বছরেরও বেশি সময় আমার উপর যৌন অত্যাচার চালানো হয়। আমার সঙ্গে পশুপাখির মতো ব্যবহার করা হতো।

কিন্তু আমার জন্য প্রচুর অর্থ নিতো সেই দালাল,'' বলেন সুনারশি।

এক সময় সৌদি পুলিশ তাকে আটক করে। ছয় মাস কারাভোগের পর মুক্তি পান সুনারশি। তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় নিজ দেশে।

এখন সেই সুনারশির বয়স প্রায় চল্লিশ তিনি জানেন না তাঁর ভবিষ্যৎ!

ইউনিসেফের হিসাবে ইন্দোনেশিয়া থেকে পাচার হওয়া ১ লাখ নারী শিশু এখন যৌনদাসীর জীবন কাটাচ্ছে৷

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত