শিরোনাম

জেনে নিন দুবাইয়ের রাস্তার ১০ গোপন রহস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |  ০৭:৫২, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্রমণের সবচেয়ে আরামদায়ক মাধ্যম হলো গড়িতে ভ্রমণ করা। দুবাইয়ের রাস্তা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে শীর্ষ তালিকায় থাকলেও রাস্তার জন্য শ্রমিকদের পরিশ্রমের কথা সেভাবে লক্ষ্য করা যায় না। এমনই একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিশ্ব অর্থনীতি ফোরাম নামে একটি সংস্থা।

আমিরাত এবং আবুধাবির মহাসড়কগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির এই সড়কে নিরাপদ ট্রাফিক প্রবাহ এবং সুরক্ষার জন্য দেশটির সরকার সর্বোচ্চ উন্নত প্রযুক্তিরও ব্যবহার করেছে।

উল্লেখ্য ওয়ার্ল্ড রোড কংগ্রেস-অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে দুবাইতেই।

সম্প্রতি আমিরাতের পরিবহণ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা বিশ্বের সেরা সড়কবিজ্ঞানীদের সামনে আমিরাতের সড়কগুলো ১০টি গোপন তথ্য প্রকাশ করেন।

১। দশ বছরে আমিরাতের রাস্তা দ্বিগুণ হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার কিলোমিটার রাস্তা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শহর, নগর, গ্রাম এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথেও রাজধানীর সংযোগ সৃষ্টি করেছে।

২। আমিরাতের প্রকৌশলীরা রাস্তার আস্তর তৈরি করার জন্য এমন এক মিশ্রণ প্রস্তুত করেন যা সময় ও যুগোপযোগী ছিল। মিশ্রণটি অতি উচ্চতাপ শোষণকারী যাকে বলা হয় স্ট্রাকচার্ড এসফাল্ট। বিটুমিন এবং আমিরাতের স্থানীয় বিশেষ কিছু উপাদান দিয়ে এই মিশ্রণটি তৈরি করা হয়।

গতানুগতিক ধারার কংক্রিট আমিরাতের পরিবেশের সাথে মানানসই নয়, এক গবেষণায় আমিরাতি প্রকৌশলীরা এটিই জানতে পেরেছিল তাই এমন উদ্যোগ নেওয়া।

৩। মিশ্রণটি এমনভাবেই তৈরি করা এবং সড়কের উপরপৃষ্ঠে এমন উপাদান ব্যবহার করা হবে যার ফলে সড়কে কোন ধুলিকণা পর্যন্ত জমা হবে না।

৪। রাস্তায় যেখানে যেখানে আন্ডারপাস ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে দুবাইয়ের ঐতিহ্যবাহী মরুভূমির জাহাজ বলে খ্যাত উটের জন্য রাস্তা পারাপারেরও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে এই বাড়তি সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা চিন্তা করেন প্রকৌশলীরা।

৫। আমিরাতের রাস্তায় সাধারণ পরিবহন লেনের পাশাপাশি রয়েছে আলাদা ট্রাক লেন। দেশটির উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব পশ্চিমের পণ্য পরিবহনে ট্রাক চলাচল সবসময় সচল রাখতে এবং বড় গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনা এড়াতে এ ব্যবস্থা রাখা হয়।

৬। বিভিন্ন রাস্তার সংযোগ স্থল (মোড়) ডিজাইনে আমিরাতি প্রকৌশলীরা দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং মহাসড়কের মাঝে ডিভাইডার স্থাপন করেছে, ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রায় শূন্যের কোঠায় অবস্থান করে।

৭। রাস্তা সংস্কার এবং আনুষঙ্গিক যেমন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন, ড্রেন ইত্যাদি সংস্কারের জন্য রাস্তার নিচে থাকা পাইপ ও টানেলে প্রবেশ করে সংস্কারের কাজটি সহজেই করা যায় ফলে রাস্তা বন্ধ করার প্রয়োজন হয় না।

৮। আমিরাতের এই সড়ক পরিকল্পনা দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি প্রয়াত শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান এর নকশা অবলম্বনে করা হয়েছে। নকশা অনুযায়ী রাস্তার পাশে গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও ছিল তাই দুবাইয়েও এত গাছপালা বেড়ে উঠতে দেখা যায়।

Image result for dubai road৯। আমিরাতে যত গাছ রাস্তার পাশে দেখা যায়, এই গাছগুলোতে সেচের জন্য দেশটির সুয়ারেজের পানি পরিশোধন করে ব্যবহার করা হয়। যার ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশেরও কোন ক্ষতি হয় না।

১০। আল মাকতা ব্রিজটি আমিরাতের প্রথম ব্রিজ যা ১৯৬৮ সালে নির্মাণ করা হয়। এই ব্রিজটিই আবুধাবি শহরকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করে। কিন্তু দিন দিন মানুষ বাড়ার সাথে সাথে ব্রিজটিতে যনজট সবসময় লেগেই থাকত। তাই ৩৩ বছর পর হুবহু একটি ব্রিজ এর পাশেই স্থাপন করা হয় যা দেখে বুঝার উপায় নেই এখানে আগে অনেক যানজট লেগে থাকত।

খালিজ টাইমস অবলম্বনে সারোয়ার আলম

এসএ/আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত