শিরোনাম

ভারত থেকে কী ধরনের অস্ত্র কিনবে বাংলাদেশ?

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৪:৫০, আগস্ট ২২, ২০১৯

ভারতের দেয়া ঋণের টাকায় ওই দেশ থেকেই সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে কী ধরনের অস্ত্র কেনা হবে এখনো সেই সিদ্ধান্ত হয়নি বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন।

ডয়চে ভেলেকে বুধবার (২১ আগস্ট) এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভারত থেকে কী কী অস্ত্র কেনা হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ।

সামরিক সরঞ্জাম কিনতে ২০১৭ সালে ভারতের সাথে ৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করে সরকার; কিন্তু ওই অর্থ দিয়ে এখনো কোনো সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়নি। ভারতের দেয়া এই ঋণ এক শতাংশ সুদে ২০ বছরে শোধ করতে হবে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গেলো মঙ্গলবার ঢাকায় এক বৈঠকে তাদের দেয়া ঋণের টাকায় ভারত থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেনকে অনুরোধ করেন।

এ প্রসঙ্গে আবদুল মোমেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য তারা পাঁচশ মিলিয়ন ডলার (৫০ কোটি ডলার) লাইন অব ক্রেডিট দিয়েছে। তারা বলছে, আপনারা এখন আমাদের সামরিক সরঞ্জাম কেনেন। ভারতে এখন অনেক ডিফেন্স কোম্পানি গড়ে উঠেছে।

আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনি। আমেরিকা, চীন, তুরস্ক, ইউকে থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনি। আমরা যেহেতু আগে কোনো দিন ভারত থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনিনি, তাই এখন আমাদের লোকেরা দেখছে ভারত থেকে কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম কেনা যায়।

মন্ত্রী বলেন, অফিসিয়াল কমফার্মেশন নেই, শুনেছি ভারত থেকে আমরা একটা সাবমেরিন কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা সাবমেরিন দেবে না।

সম্প্রতি আমরা চীন থেকে মাল্টিপল রেঞ্জের কিছু অটোমেটিক ফায়ার আর্মস কিনেছি। তারা (ভারত) বলছে, এগুলো তাদের কাছ থেকে কিনতে।

আমরা বলেছি, আমরা কিনতে রাজি আছি এবং তোমাদের কাছ থেকে আমরা সামরিক সরঞ্জাম কিনব।

আমাদের আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনকে জানাব, তারা জানাবে কী ধরনের সরঞ্জাম আমরা কিনতে পারি, তারাই সেই লিস্ট তৈরি করবে।

ভারত থেকে অস্ত্র কিনলে রাজনৈতিক বিরোধিতা হতে পারে কি না সেই প্রশ্নে মোমেন বলেন, আমার মনে হয় না। কারণ আমরা আমাদের প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করব। ভারত শুধু আমাদের দেশে নয়, অন্য দেশেও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে, অস্ত্র বিক্রিতে তাদের সুনাম আছে।

তাদের বাস-ট্রাক বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কেনে, আমরাও কিনি। আমাদের দেশে ভারতবিরোধী একটি মত থাকলেও ভারতের ট্রাক-বাসের কেউ বিরোধিতা করে না। আমরা আগে কখনো ভারতীয় সামরিক সরঞ্জাম কিনিনি। এখন ওরা আমাদের টাকা দিয়েছে, এখন আমরা ওদের কাছ থেকে কিনব।

এসব সরঞ্জাম কিভাবে কেনা হবে তার ব্যাখ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কী কিনব এখন তা চিহ্নিত করতে হবে। আমরাতো যেই সেই জিনিস কিনব না। আমাদের খুবই সতর্কতার সাথে কিনতে হবে, যাতে এটা দিয়ে (ঋণের টাকা) অপ্রয়োজনীয় কোনো কিছু কিনতে না হয়।

কারণ ভারতের ঋণের টাকা সুদসহ ফেরত দিতে হবে। সুতরাং আমাদের খুবই কেয়ারফুল থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এখন অনেক দেশই টাকা দিতে চাচ্ছে। এটা খুবই ভালো খবর যে, সম্পর্ক এখন টাকার মাধ্যমে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশ সবার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে না। আমরা সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত