শিরোনাম

ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   |  ০২:২৬, অক্টোবর ০৭, ২০১৯

যার যার ধর্মপালন করার যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তা বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । সোমবার (৭অক্টোবর) ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “এই যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে যার যার ধর্মপালন করার চমৎকার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছি, এই পরিবেশটাও যেন চিরদিন অব্যাহত থাকে, আর সকলের জীবনমান যেন উন্নত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সব সময় বলি ধর্ম যার যার, উৎসব সকলের। আমাদের উৎসবগুলো সবাই আমরা এক হয়ে উদযাপন করি। এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একটা অর্জন যে আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে চলতে শিখেছি।”

নবমীতে প্রধানমন্ত্রী মিশনে পৌঁছালে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান মিশন প্রধান স্বামী পূর্ণাত্মানন্দসহ সকল কর্মকর্তারা। স্বামীজি তার লেখা বইও উপহার দেন প্রধানমন্ত্রীকে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার লড়াই করার কথা তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, যে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তার ডাকে সাড়া দিয়ে এদেশে সকল ধর্মের মানুষ, অর্থাৎ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল ধর্ম এক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে বুকের রক্ত বিলিয়ে দিয়ে এই বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে।

“কাজেই সেই স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা সব সময় চেয়েছি- প্রতিটি ধর্মের মানুষ তার নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে, সম্মানের সাথে পালন করতে পারবে সেই পরিবেশটা সৃষ্টি করা এবং আমরা তা করতে পেরেছি। অন্তত এইটুকু বলতে পারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন সেই সুন্দর পরিবেশটা সৃষ্টি হয়।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেকে প্রত্যেকের ধর্মকে আমরা সম্মান করি এবং আমরা চাই আমাদের দেশে শান্তি ফিরে আসুক। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি এই ধরনের যেসকল ব্যাধি সমাজকে নষ্ট করে, দেশকে নষ্ট করে, পরিবারকে নষ্ট করে, পরিবারের জীবনকে অতিষ্ট করে সেই ধরনের অবস্থা যেন না থাকে।

“বাংলাদেশে শান্তি বজায় থাকবে, সমৃদ্ধি ও উন্নতি হবে এবং অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে সেটাই আমরা চাই।”

প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে ‘সদ্ভাব’ থাকার কথা তুলে ধরে সম্প্রতি তার ভারত সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।
“গত পরশুদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ আমরা যৌথভাবে রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রাবাস এবং একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করেছি, যেখানে হিন্দু, সনাতন ধর্মালম্বী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারবে।”

পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে মন্তব্য করে তাদেরকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও নিরাপদ পরিবেশে দূর্গোৎসব পালন এবং দেশে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ।

স্থানীয় সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদ ও আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে পরে ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে যান।

শেখ হাসিনা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পৌঁছালে তাকে ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী সেলিম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকেশ্বরীর অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা তুলে ধরেন।
একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন হওয়া এবং ধর্মপালনের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এসএ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত